সহকারী অধ্যাপক
০৬ আগস্ট, ২০২৬ ১০:০৩ অপরাহ্ণ
সহকারী অধ্যাপক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ দশম
বিষয়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ১
যোগাযোগ (Communication) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠী অন্য ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীর কাছে তথ্য, ধারণা, মতামত, অনুভূতি, নির্দেশনা বা বার্তা আদান-প্রদান করে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া সৃষ্টি করে। কার্যকর যোগাযোগের মাধ্যমে প্রেরক ও প্রাপক একই অর্থ উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়। আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (ICT) যুগে যোগাযোগের গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। শিক্ষা, ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রশাসন এবং সামাজিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যোগাযোগ অপরিহার্য।
১. প্রেরক (Sender):
যিনি কোনো তথ্য, বার্তা বা ধারণা প্রেরণ করেন তাকে প্রেরক বলা হয়। যোগাযোগ প্রক্রিয়ার সূচনা প্রেরকের মাধ্যমেই হয়।
২. বার্তা (Message):
প্রেরক যে তথ্য, নির্দেশনা, ধারণা বা অনুভূতি প্রাপকের কাছে পাঠান তাকে বার্তা বলা হয়। যোগাযোগের মূল বিষয়বস্তুই হলো বার্তা।
৩. সাংকেতিকরণ (Encoding):
প্রেরক যখন নিজের চিন্তা বা তথ্যকে ভাষা, প্রতীক, ছবি বা অন্য কোনো উপযোগী মাধ্যমে প্রকাশযোগ্য রূপ দেন, তাকে সাংকেতিকরণ বলা হয়।
৪. মাধ্যম বা চ্যানেল (Channel/Medium):
যে পথ বা মাধ্যমে বার্তা প্রেরণ করা হয় তাকে যোগাযোগের মাধ্যম বলে। যেমন—মৌখিক, লিখিত, টেলিফোন, ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও কনফারেন্স ইত্যাদি।
৫. প্রাপক (Receiver):
যিনি বার্তা গ্রহণ করেন এবং তা বোঝার চেষ্টা করেন, তাকে প্রাপক বলা হয়।
৬. সাংকেতিক মোচন (Decoding):
প্রাপক যখন প্রাপ্ত বার্তার অর্থ বুঝে ব্যাখ্যা করেন, তখন সেই প্রক্রিয়াকে সাংকেতিক মোচন বলা হয়।
৭. প্রতিক্রিয়া (Feedback):
প্রাপক বার্তা বুঝে যে উত্তর বা প্রতিক্রিয়া প্রদান করেন, তাকে প্রতিক্রিয়া বলা হয়। এটি যোগাযোগের সফলতা যাচাই করতে সাহায্য করে।
৮. প্রতিবন্ধকতা (Noise/Barrier):
যোগাযোগের সময় যে কোনো ধরনের বাধা বা বিঘ্ন, যা বার্তা সঠিকভাবে পৌঁছাতে বা বুঝতে সমস্যা সৃষ্টি করে, তাকে প্রতিবন্ধকতা বলা হয়। যেমন—শব্দদূষণ, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, ভাষাগত সমস্যা বা ভুল বোঝাবুঝি।
যোগাযোগ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সমাজের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। কার্যকর যোগাযোগের জন্য প্রেরক, বার্তা, মাধ্যম, প্রাপক, প্রতিক্রিয়া এবং প্রতিবন্ধকতা—সব উপাদানই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে বর্তমানে যোগাযোগ আরও দ্রুত, সহজ এবং কার্যকর হয়েছে। তাই আধুনিক যুগে সফল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।