প্রভাষক
১১ আগস্ট, ২০২৬ ০৮:২৯ পূর্বাহ্ণ
প্রভাষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ একাদশ
বিষয়ঃ ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র
অধ্যায়ঃ • দ্বিতীয় অধ্যায়: আর্থিক বাজারের আইনগত দিকসমূহ
মানি লন্ডারিং
মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচার হলো একটি অবৈধ অর্থনৈতিক কার্যক্রম, যার মাধ্যমে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত কালো টাকা বা অবৈধ সম্পদকে বৈধ উৎস থেকে অর্জিত বলে দেখানোর চেষ্টা করা হয়া। এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো অবৈধ অর্থের উৎস গোপন করা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা কর কর্তৃপক্ষের নজরদারি এড়ানো।
মানি লন্ডারিং সংঘটনের প্রক্রিয়া
Ø প্লেসমেন্ট
Ø লেয়ারিং
Ø ইন্টিগেশন
প্লেসমেন্ট (Placement) বা সংযোজন
এটি প্রথম ধাপ, যেখানে অবৈধভাবে অর্জিত নগদ অর্থকে বৈধ আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশ করানো হয়। উদাহরণস্বরূপ, এই অর্থ ছোট ছোট অংশে ভেংগে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়।
লেয়ারিং (Layering) বা স্তরিকরণ
এই ধাপে অর্থের উৎস গোপন করার জন্য একাধিক জটিল ও কৌশলী আর্থিক লেনদেন করা হয়।টাকা এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে, এক দেশ থেকে অন্য দেশে ইলেকট্রনিকভাবে স্থানান্তর করা হয়, অথবা স্টক, বন্ড, রিয়েল এস্টেট বা অন্যান্য সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করা হয়। এই জটিল লেনদেনের ফলে অর্থের উৎস শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ইন্টিগ্রেশন (Integration) বা একত্রীকরণ
এটি শেষ ধাপ, যেখানে লন্ডারিং করা অর্থকে বৈধ আর্থিক ব্যবস্থায় সম্পূর্ণরূপে মিশিয়ে ফেলা হয়।এই অর্থ দিয়ে বৈধ সম্পত্তি কেনা, ব্যবসায় বিনিয়োগ বা অন্য কোনো উপায়ে খরচ করা হয়, যাতে মনে হয় এটি বৈধ উৎস থেকে অর্জিত। এই পর্যায়ে কালো টাকা সাদা হয়ে যায় এবং অপরাধী তা কোনো রকম সন্দেহ ছাড়াই ব্যবহার করতে পারে।
মানি লন্ডারিং অপরাধ ও দন্ড
বাংলাদেশের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধন ২০১৫) অনুযায়ী মানি লন্ডারিং-এর অপরাধের জন্য প্রধানত দুই ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে-
Ø কারাদণ্ড: মানি লন্ডারিং অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হলে ৪ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
Ø জরিমানা: কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত অপরাধের সাথে জড়িত সম্পত্তির দ্বিগুণ মূল্য বা ১০ লক্ষ টাকা (অথবা ক্ষেত্রবিশেষে ২০ লক্ষ টাকা), এর মধ্যে যেটি বেশি হবে সেই পরিমাণ জরিমানা করতে পারেন।
Ø সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত: মানি লন্ডারিং-এর মাধ্যমে অর্জিত সমস্ত সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে।
Ø অতিরিক্ত কারাদণ্ড: আরোপিত জরিমানা সময়মতো পরিশোধ না করলে, আদালত অতিরিক্ত কারাদণ্ডের আদেশ দিতে পারেন।