Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:২৮ অপরাহ্ণ

উপকূলীয় বনায়ন
উপকূলীয় বনায়ণ (Coastal Afforestation) হলো সমুদ্র উপকূলবর্তী চরাঞ্চল, বেড়িবাঁধ এবং মোহনায় জোয়ার-ভাটার জলবায়ু সহনশীল গাছপালা লাগিয়ে একটি প্রাকৃতিক সবুজ বেষ্টনী (Greenbelt) তৈরি করার বিশেষ প্রক্রিয়া। ঘুর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো তীব্র প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে স্থলভাগকে রক্ষা করতে এটি উপকূলীয় অঞ্চলের প্রথম প্রতিরক্ষা প্রাচীর হিসেবে কাজ করে। ১৯৬৬ সাল থেকে বাংলাদেশের উপকূলভাগে প্রথম এ ধরনের সফল বনায়ন কার্যক্রম শুরু হয়।
উপকূলীয় বনায়ন সম্পর্কে কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
১. বনায়নের মূল গাছপালা
উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ত পানি ও ঘন ঘন জোয়ার-ভাটার সাথে টিকে থাকার জন্য প্রধানত ম্যানগ্রোভ (Mangrove) বা লবণাম্বু উদ্ভিদের চারা রোপণ করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গাছগুলো হলো—
  • কেওড়া, বাইন ও গেওয়া (যা নতুন জেগে ওঠা চরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে)।
  • গোলপাতা, গরান ও কাঁকড়া।
  • এছাড়া সমুদ্র সৈকত ও বেড়িবাঁধের ওপরের অংশে ঝাউ গাছ লাগানো হয়, যা তীব্র বাতাস প্রতিরোধ করে。
২. উপকূলীয় বনায়নের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব
  • দুর্যোগ প্রতিরোধ: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় (যেমন: সিডর, আইলা, রেমাল) এবং জলোচ্ছ্বাসের গতিবেগ ও ক্ষয়ক্ষতি বহুলাংশে কমিয়ে দেয় এই বন।
  • ভূমি পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীলতা: সমুদ্রের বুক থেকে নতুন জেগে ওঠা পলিমাটিকে আটকে রেখে চরের ভূমিকে শক্ত ও স্থায়ী করতে সাহায্য করে。
  • জীববৈচিত্র্য রক্ষা: নতুন এই বনাঞ্চলগুলো বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, কাঁকড়া, পাখি এবং বন্যপ্রাণীর নিরাপদ প্রজনন ক্ষেত্র ও বাসস্থান হিসেবে কাজ করে。
মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট