সহকারী শিক্ষক
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৪৯ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ১
জগদীশ চন্দ্র বসু (৩০ নভেম্বর ১৮৫৮ – ২৩ নভেম্বর ১৯৩৭) ছিলেন উপমহাদেশের একজন খ্যাতিমান বিজ্ঞানী। তিনি পদার্থবিজ্ঞান, বেতার তরঙ্গ এবং উদ্ভিদবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেন। উদ্ভিদেরও অনুভূতি ও উদ্দীপনার প্রতি সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা আছে—এ বিষয়টি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন।
জন্ম ও শিক্ষা
তিনি ১৮৫৮ সালের ৩০ নভেম্বর তৎকালীন বাংলার ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন ভগবান চন্দ্র বসু। তিনি কলকাতায় পড়াশোনা করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে যান এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন।
বিজ্ঞান গবেষণায় অবদান
১. বেতার ও মাইক্রোওয়েভ: জগদীশ চন্দ্র বসু বেতার তরঙ্গ ও মাইক্রোওয়েভ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন।
২. উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা: তিনি দেখান যে উদ্ভিদ বাহ্যিক উদ্দীপনায় সাড়া দেয়।
৩. ক্রেসোগ্রাফ: উদ্ভিদের অতি ক্ষুদ্র বৃদ্ধি ও নড়াচড়া পরিমাপের জন্য তিনি ক্রেসোগ্রাফ নামে একটি যন্ত্র তৈরি করেন।
৪. পদার্থ ও জীবনের সংযোগ: জড় ও জীব পদার্থের প্রতিক্রিয়ার মধ্যে কিছু মৌলিক সাদৃশ্য নিয়েও তিনি গবেষণা করেন।
সম্মান ও স্বীকৃতি
১৯১৭ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে নাইট উপাধি প্রদান করে। তাঁর বৈজ্ঞানিক গবেষণা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি লাভ করে। তিনি নিজের গবেষণাকে মানবকল্যাণ ও জ্ঞানচর্চার জন্য উৎসর্গ করেছিলেন।
মৃত্যু
১৯৩৭ সালের ২৩ নভেম্বর কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
উপসংহার
জগদীশ চন্দ্র বসু ছিলেন বিজ্ঞানচর্চার এক উজ্জ্বল পথিকৃৎ। তাঁর গবেষণা পরবর্তী প্রজন্মের বিজ্ঞানীদের অনুপ্রাণিত করেছে। বিজ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভিদজগত সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়।