সহকারী শিক্ষক
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৬:৩৯ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ সপ্তম
বিষয়ঃ কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-১
চীনের মহাপ্রাচীর (Great Wall of China) পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত ঐতিহাসিক স্থাপনা। এটি চীনের উত্তরাঞ্চলজুড়ে পাহাড়, উপত্যকা ও মরুভূমির মধ্য দিয়ে বিস্তৃত। প্রাচীনকালে বহিরাগত আক্রমণ থেকে চীনের বিভিন্ন অঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা রক্ষার জন্য প্রাচীরের বিভিন্ন অংশ নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল।
নির্মাণ ও ইতিহাস
চীনের মহাপ্রাচীর একবারে নির্মিত হয়নি। বিভিন্ন রাজবংশ বিভিন্ন সময়ে এর অংশ নির্মাণ, সম্প্রসারণ ও সংস্কার করেছে। বিশেষ করে মিং রাজবংশের (১৩৬৮–১৬৪৪) সময়ে এর বহু গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাথর ও ইট দিয়ে শক্তিশালীভাবে নির্মিত হয়।
প্রধান বৈশিষ্ট্য
প্রাচীরটি পাহাড়ের চূড়া ও ঢাল অনুসরণ করে আঁকাবাঁকা পথে বিস্তৃত।
বিভিন্ন স্থানে প্রহরী টাওয়ার, দুর্গ ও প্রবেশদ্বার রয়েছে।
সৈন্যদের চলাচল ও প্রতিরক্ষার জন্য প্রাচীরের ওপর পথ তৈরি করা হয়েছিল।
বাদালিং (Badaling) মহাপ্রাচীরের অন্যতম সুপরিচিত ও সংরক্ষিত অংশ। এটি বেইজিংয়ের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব
মহাপ্রাচীর শুধু একটি প্রতিরক্ষা স্থাপনা নয়; এটি প্রাচীন চীনের স্থাপত্য, প্রকৌশল, সামরিক কৌশল ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। ১৯৮৭ সালে UNESCO এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
সংক্ষেপে
চীনের মহাপ্রাচীর = প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা + প্রাচীন স্থাপত্য + সামরিক ইতিহাস + চীনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।
শিক্ষার্থীদের জন্য এক বাক্যে:
চীনের মহাপ্রাচীর হলো বহিরাগত আক্রমণ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে নির্মিত বিশাল প্রতিরক্ষা প্রাচীর, যা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন।