সিনিয়র শিক্ষক
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:২৬ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ৫
পলাশীর যুদ্ধ বাংলার ইতিহাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এটি শুধু একটি যুদ্ধ ছিল না; এর পর বাংলায় ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
সিরাজউদ্দৌলা ১৭৫৬ সালে বাংলার নবাব হন। ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলায় নিজেদের বাণিজ্যিক ও সামরিক অবস্থান শক্তিশালী করছিল। কোম্পানি দুর্গ নির্মাণ ও বাণিজ্যিক সুবিধার অপব্যবহার করছিল বলে নবাবের সঙ্গে তাদের বিরোধ বাড়তে থাকে।
সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা দখল করার পর ইংরেজরা পুনরায় কলকাতা দখল করে। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।
যুদ্ধের আগে নবাবের সেনাবাহিনীর কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ইংরেজদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ করেন। তাদের মধ্যে মীর জাফর ছিলেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ইংরেজদের সঙ্গে একটি গোপন চুক্তিতে মীর জাফরকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় যে সিরাজউদ্দৌলাকে সরিয়ে তাকে বাংলার নবাব করা হবে।
২৩ জুন ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে সিরাজউদ্দৌলার বাহিনী ও রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ হয়।
সিরাজের বাহিনী সংখ্যায় অনেক বেশি ছিল। কিন্তু তাঁর বাহিনীর একটি বড় অংশ, বিশেষ করে মীর জাফরের নেতৃত্বাধীন সৈন্যরা, কার্যত নিষ্ক্রিয় থাকে। ফলে নবাবের সামরিক শক্তি প্রত্যাশিতভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।
শেষ পর্যন্ত সিরাজউদ্দৌলার বাহিনী পরাজিত হয় এবং তিনি পলাশীর যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরে যান।
১. সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটে।
২. মীর জাফর বাংলার নবাব হন।
৩. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলার রাজনীতিতে প্রভাব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।
৪. কোম্পানি বিপুল অর্থ ও বাণিজ্যিক সুবিধা লাভ করে।
৫. বাংলায় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত্তি শক্তিশালী হয়।
৬. পরবর্তী সময়ে কোম্পানি বাংলার রাজস্ব ও প্রশাসনের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
পলাশীর যুদ্ধকে সাধারণত ভারতে ব্রিটিশ রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যুদ্ধের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শুধু ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে থাকেনি; ধীরে ধীরে একটি রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তিতে পরিণত হয়।
মনে রাখার সহজ সূত্র:
১৭৫৭ → পলাশীর যুদ্ধ → সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় → মীর জাফর নবাব → ইংরেজদের রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি।