Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:৪৪ অপরাহ্ণ

নগররাষ্ট্র ও জাতিরাষ্ট্রের তুলনামূলক আলোচনা।

নগররাষ্ট্র ও জাতিরাষ্ট্রের তুলনামূলক আলোচনা নিচে তুলে ধরা হলো:


নগররাষ্ট্র (City-State):  

civitas/Polis

প্রাচীন গ্রিসে ছোট ছোট নগর গুলো নিয়ে গড়ে ওঠা, যে ক্ষুদ্র ও সীমিত ভৌগোলিক এলাকার নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে মানুষ বসবাস করত এবং যেখানে নাগরিকরা সরাসরি রাষ্ট্রীয় কাজে অংশ নিত তাকে নগররাষ্ট্র বলা হয় (City-State)। 


নগররাষ্ট্রের উদাহরণ: 

  1. প্রাচীন গ্রিস: এথেন্স ,স্পার্টা, কোরিন্থ, থিবস, আর্গস, মেগারা, ডেলফি।
  2. প্রাচীন ভারত: বৈশালী, বৃজ্জি, কাশী, মগধ, চেদী, গান্ধার।
  3. মধ্যযুগে ইতালি: ফ্লোরেন্স, ভেনিস।
  4. আধুনিক যুগ: সিঙ্গাপুর, মোনাকো, ভ্যাটিকান সিটি।


নগররাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যঃ 

I. আয়তন ও পরিধি- অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও সীমিত;

II. জনসংখ্যা- খুবই কম (সাধারণত কয়েক হাজার)। 

III. শাসনপদ্ধতি- প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র (Direct Democracy); নাগরিকরা সরাসরি আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণে অংশ নিত। 

IV. নাগরিকতার ধারণা- সংকীর্ণ ও কঠোর; নারী, দাস ও বিদেশিরা নাগরিক হিসেবে গণ্য হতো না, কেবল নির্দিষ্ট পুরুষরাই নাগরিক ছিল। 


জাতিরাষ্ট্র (Nation-State): 

নগর রাষ্ট্রের আধুনিক রুপ হলো জাতির রাষ্ট্র। জাতি রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয় নিকোলো ম্যাকিয়াভেলিকে (Niccolò Machiavelli) ।

বিশাল জনসংখ্যা, নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা, স্থায়ী সরকার এবং সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী যে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে একটি নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠী অভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতীয় চেতনার ভিত্তিতে বসবাস করে, তাকে জাতিরাষ্ট্র বলা হয়। আধুনিক সকল রাষ্ট্রই জাতির রাষ্ট্র। 

যেমন—বাংলাদেশ, ভারত বা যুক্তরাজ্য। 


জাতিরাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যঃ 

I. আয়তন ও পরিধি- বিশাল ভৌগোলিক আয়তন; বহু শহর ও প্রদেশ জুড়ে বিস্তৃত। ভারতে ২৮ টি প্রদেশ। মহারাষ্ট্র,  পশ্চিম বঙ্গ, বিহার, আসাম, তামিলনাড়ু।

II. জনসংখ্যা- বিশাল জনসংখ্যা (কোটি কোটি মানুষের বসবাস)। 

III. শাসনপদ্ধতি- পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র (Representative Democracy); জনগণ প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করে। 

IV. নাগরিকতার ধারণা- ব্যাপক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক; লিঙ্গ, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে রাষ্ট্রের সকল বৈধ নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করে। 

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট