প্রভাষক
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:৪৪ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ একাদশ
বিষয়ঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ১
নগররাষ্ট্র ও জাতিরাষ্ট্রের তুলনামূলক আলোচনা নিচে তুলে ধরা হলো:
নগররাষ্ট্র (City-State):
civitas/Polis
প্রাচীন গ্রিসে ছোট ছোট নগর গুলো নিয়ে গড়ে ওঠা, যে ক্ষুদ্র ও সীমিত ভৌগোলিক এলাকার নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে মানুষ বসবাস করত এবং যেখানে নাগরিকরা সরাসরি রাষ্ট্রীয় কাজে অংশ নিত তাকে নগররাষ্ট্র বলা হয় (City-State)।
নগররাষ্ট্রের উদাহরণ:
নগররাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যঃ
I. আয়তন ও পরিধি- অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও সীমিত;
II. জনসংখ্যা- খুবই কম (সাধারণত কয়েক হাজার)।
III. শাসনপদ্ধতি- প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র (Direct Democracy); নাগরিকরা সরাসরি আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণে অংশ নিত।
IV. নাগরিকতার ধারণা- সংকীর্ণ ও কঠোর; নারী, দাস ও বিদেশিরা নাগরিক হিসেবে গণ্য হতো না, কেবল নির্দিষ্ট পুরুষরাই নাগরিক ছিল।
জাতিরাষ্ট্র (Nation-State):
নগর রাষ্ট্রের আধুনিক রুপ হলো জাতির রাষ্ট্র। জাতি রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয় নিকোলো ম্যাকিয়াভেলিকে (Niccolò Machiavelli) ।
বিশাল জনসংখ্যা, নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা, স্থায়ী সরকার এবং সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী যে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে একটি নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠী অভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতীয় চেতনার ভিত্তিতে বসবাস করে, তাকে জাতিরাষ্ট্র বলা হয়। আধুনিক সকল রাষ্ট্রই জাতির রাষ্ট্র।
যেমন—বাংলাদেশ, ভারত বা যুক্তরাজ্য।
জাতিরাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যঃ
I. আয়তন ও পরিধি- বিশাল ভৌগোলিক আয়তন; বহু শহর ও প্রদেশ জুড়ে বিস্তৃত। ভারতে ২৮ টি প্রদেশ। মহারাষ্ট্র, পশ্চিম বঙ্গ, বিহার, আসাম, তামিলনাড়ু।
II. জনসংখ্যা- বিশাল জনসংখ্যা (কোটি কোটি মানুষের বসবাস)।
III. শাসনপদ্ধতি- পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র (Representative Democracy); জনগণ প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করে।
IV. নাগরিকতার ধারণা- ব্যাপক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক; লিঙ্গ, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে রাষ্ট্রের সকল বৈধ নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করে।