Loading..

ভিডিও ক্লাস

রিসেট

১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:২৫ অপরাহ্ণ

টেলি কমিউনিকেশনের বিভিন্ন মাধ্যম

টেলিকমিউনিকেশন বা দূরযোগাযোগ ব্যবস্থা হলো এমন এক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সংকেত, ডেটা, তথ্য, লেখা, ছবি বা শব্দ আদান-প্রদান করা হয়। ডেটা পরিবহনের জন্য যেসব মাধ্যম ব্যবহার করা হয়, সেগুলোকে প্রধানত দুইটি ভাগে ভাগ করা যায়:

  1. ​তার মাধ্যম (Wired Media / Guided Media)
  2. ​তারবিহীন মাধ্যম (Wireless Media / Unguided Media)

​নিচে টেলিকমিউনিকেশনের প্রধান মাধ্যমগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো:

​১. তার মাধ্যম (Wired Media)

​এ জাতীয় মাধ্যমে শারীরিক সংযোগ বা তারের সাহায্যে ডেটা বা সিগন্যাল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রেরিত হয়।

  • ​টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল (Twisted Pair Cable):
    • ​বর্ণনা: এতে দুটি তামার তারকে নিজেদের মধ্যে পেঁচিয়ে এক জোড়া তৈরি করা হয়, যা তড়িৎ-চৌম্বকীয় বাধা (Interference) কমায়। এটি আমাদের বাসাবাড়ির ল্যান্ডলাইন টেলিফোন এবং লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কে (LAN/Ethernet) সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।
    • ​বৈশিষ্ট্য: খরচ তুলনামূলক কম এবং এটি স্বল্প দূরত্বের যোগাযোগের জন্য উপযুক্ত।
  • ​কোঅ্যাক্সিয়াল ক্যাবল (Coaxial Cable):
    • ​বর্ণনা: এই ক্যাবলে একটি ভেতরের কেন্দ্রীয় তামার পরিবাহী তার থাকে, যা ইনসুলেশন বা নিরোধক স্তর এবং পরিবাহী জালি দিয়ে ঘেরা থাকে। ডিশ টিভি সংযোগ বা কেবল টিভিতে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
    • ​বৈশিষ্ট্য: এটি টুইস্টেড পেয়ারের চেয়ে বেশি ব্যান্ডউইথ বহন করতে পারে এবং উচ্চ তরঙ্গের সংকেত পরিবহনে সক্ষম।
  • ​অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল (Optical Fiber Cable):
    • ​বর্ণনা: এটি কাঁচ বা প্লাস্টিকের তৈরি অত্যন্ত সূক্ষ্ম সুতার মতো মাধ্যম, যার মাধ্যমে তড়িৎ সংকেতকে আলোক সংকেতে (Light Signals) রূপান্তর করে অতি দ্রুত গতিতে পাঠানো হয়। আধুনিক উচ্চগতির ইন্টারনেট এবং সাবমেরিন ক্যাবল নেটওয়ার্ক অপটিক্যাল ফাইবারের ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে।
    • ​বৈশিষ্ট্য: ডাটা ট্রান্সমিশন স্পিড অত্যন্ত বেশি, সিগন্যালের ক্ষয় কম হয় এবং দীর্ঘ দূরত্বের যোগাযোগের জন্য এটি সেরা।

​২. তারবিহীন মাধ্যম (Wireless Media)

​এই মাধ্যমে কোনো শারীরিক তার ছাড়াই তড়িৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ (Electromagnetic Waves) বা তরঙ্গের সাহায্যে সংকেত বাতাসে বা মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়ে।

  • ​রেডিও ওয়েভ (Radio Waves):
    • ​বর্ণনা: এই মাধ্যমের কম্পাঙ্ক সাধারণত ১০ কিলোহাটর্জ থেকে ১ গিগাহার্টজের মধ্যে হয়ে থাকে। এটি বাধা অতিক্রম করতে পারে (যেমন: দেয়াল ভেদে চলে যেতে পারে)।
    • ​ব্যবহার: রেডিও সম্প্রচার, ওয়াকি-টকি এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের প্রাথমিক স্তরে রেডিও ওয়েভ ব্যবহৃত হয়।
  • ​মাইক্রোওয়েভ (Microwaves):
    • ​বর্ণনা: এর কম্পাঙ্ক ১ গিগাহার্টজ থেকে ৩০০ গিগাহার্টজ পর্যন্ত হতে পারে। এটি সরলরেখায় গমন করে, তাই প্রেরক ও গ্রাহক এন্টেনার মাঝে কোনো বাধা থাকা যাবে না (Line-of-Sight)।
    • ​ব্যবহার: মোবাইল টাওয়ারের পারস্পরিক যোগাযোগ, টিভি সম্প্রচার এবং ওয়্যারলেস ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে (যেমন: Wi-Fi, WiMAX) মাইক্রোওয়েভ ব্যবহৃত হয়।
  • ​স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ (Satellite Communication):
    • ​বর্ণনা: পৃথিবীর কক্ষপথে স্থাপিত কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে ভূ-পৃষ্ঠের ওপর অবস্থিত দুটি দূরবর্তী স্টেশনের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা হয়। পৃথিবী থেকে সংকেত স্যাটেলাইটে পাঠানো হয় (Uplink), এবং স্যাটেলাইট তা পুনরায় শক্তিশালী করে পৃথিবীর অন্য প্রান্তে পাঠিয়ে দেয় (Downlink)।
    • ​ব্যবহার: আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন, দূরবর্তী আন্তর্জাতিক টিভি সম্প্রচার, জিপিএস (GPS) ব্যবস্থা এবং আবহাওয়া বার্তা প্রদানে।
  • ​ইনফ্রারেড (Infrared Wave):
    • ​বর্ণনা: এটি খুব অল্প দূরত্বের যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত আনগাইডেড মিডিয়া। এটি কোনো কঠিন বাধা বা দেয়াল ভেদ করতে পারে না।
    • ​ব্যবহার: টিভি রিমোট কন্ট্রোল, কর্ডলেস মাউস বা কিবোর্ড এবং স্বল্প দূরত্বের যন্ত্রপাতির সংযোগে।


মন্তব্য করুন