সহকারী শিক্ষক
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ৩
এই অধ্যায় শেষে শিক্ষার্থীরা—
ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও সম্প্রসারণের জন্য যে অর্থের প্রয়োজন হয় তাকে মূলধন (Capital) বলে।
একটি কোম্পানি বিভিন্ন উৎস থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উৎস হলো—
১. মালিকানা মূলধন → শেয়ার
২. ঋণমূলধন → বন্ড ও ডিবেঞ্চার
সহজভাবে মনে রাখো:
শেয়ার = মালিকানার অংশ
বন্ড = ঋণের দলিল
ডিবেঞ্চার = কোম্পানির ঋণের দলিল
কোম্পানির মোট মূলধনকে সমান ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করলে প্রতিটি অংশকে শেয়ার বলে।
যে ব্যক্তি শেয়ার ক্রয় করেন তাকে শেয়ারহোল্ডার বলা হয়।
ধরা যাক, একটি কোম্পানির মূলধন ১০ লাখ টাকা এবং তা ১০,০০০টি শেয়ারে বিভক্ত।
তাহলে,
প্রতি শেয়ারের মূল্য = ১০,০০,০০০ ÷ ১০,০০০ = ১০০ টাকা।
কেউ যদি ১০০টি শেয়ার কেনেন, তাহলে তিনি কোম্পানির মালিকানার একটি অংশের অধিকারী হবেন।
শেয়ার প্রধানত দুই ধরনের—
যে শেয়ারের মালিক কোম্পানির সাধারণ মালিক হিসেবে অধিকার ভোগ করেন তাকে সাধারণ শেয়ার বলে।
বৈশিষ্ট্য:
যে শেয়ারের মালিক সাধারণ শেয়ারহোল্ডারের তুলনায় লভ্যাংশ ও মূলধন ফেরতের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পান তাকে অগ্রাধিকার শেয়ার বলে।
বৈশিষ্ট্য:
কোম্পানি, সরকার বা কোনো প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদি অর্থ সংগ্রহের জন্য যে ঋণপত্র ইস্যু করে তাকে বন্ড বলে।
বন্ড ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানকে অর্থ ধার দেন এবং নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী সুদ/রিটার্ন পাওয়ার অধিকারী হন।
একটি কোম্পানির ১০ কোটি টাকা দরকার। কোম্পানি জনগণের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য বন্ড ইস্যু করল।
তুমি একটি বন্ড কিনলে কোম্পানির মালিক হবে না; বরং কোম্পানিকে ঋণ দিলে।
কোম্পানি দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে যে ঋণপত্র ইস্যু করে তাকে ডিবেঞ্চার বলে।
ডিবেঞ্চারহোল্ডার কোম্পানির পাওনাদার, মালিক নন।
| বিষয় | শেয়ার | বন্ড | ডিবেঞ্চার |
|---|---|---|---|
| প্রকৃতি | মালিকানার অংশ | ঋণপত্র | ঋণপত্র |
| ধারক | শেয়ারহোল্ডার | বন্ডহোল্ডার | ডিবেঞ্চারহোল্ডার |
| অবস্থান | মালিক | পাওনাদার | পাওনাদার |
| আয় | লভ্যাংশ | সুদ/রিটার্ন | সুদ |
| ভোটাধিকার | সাধারণ শেয়ারে থাকতে পারে | সাধারণত নেই | সাধারণত নেই |
| আয়ের নিশ্চয়তা | সাধারণত নির্দিষ্ট নয় | শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত | সাধারণত নির্দিষ্ট |
| ঝুঁকি | তুলনামূলক বেশি | তুলনামূলক কম | তুলনামূলক কম |
| কোম্পানি বন্ধ হলে | শেষে দাবি | ঋণদাতা হিসেবে দাবি | ঋণদাতা হিসেবে দাবি |
শেয়ার → Share of Ownership → মালিকানা
বন্ড → Borrowed Money → ধার করা টাকা
ডিবেঞ্চার → Debt → ঋণ
উত্তর: কোম্পানির মোট মূলধনকে সমান ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করলে প্রতিটি অংশকে শেয়ার বলে।
উত্তর: যে ব্যক্তি কোনো কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করে কোম্পানির মালিকানায় অংশীদার হন তাকে শেয়ারহোল্ডার বলে।
উত্তর: সরকার, কোম্পানি বা কোনো প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সংগ্রহের জন্য ইস্যুকৃত ঋণপত্রকে বন্ড বলে।
উত্তর: কোম্পানি কর্তৃক দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ইস্যুকৃত ঋণপত্রকে ডিবেঞ্চার বলে।
উত্তর: যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কোনো কোম্পানির ডিবেঞ্চার ক্রয় করে কোম্পানিকে ঋণ প্রদান করেন তাকে ডিবেঞ্চারহোল্ডার বলে।
উত্তর: শেয়ারহোল্ডার কোম্পানির মালিকানার অংশীদার, কিন্তু ডিবেঞ্চারহোল্ডার কোম্পানির পাওনাদার।
উত্তর: যে শেয়ারের মালিক সাধারণ শেয়ারহোল্ডারের তুলনায় লভ্যাংশ ও মূলধন ফেরতের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পান তাকে অগ্রাধিকার শেয়ার বলে।
উত্তর: যে শেয়ারের মালিক কোম্পানির সাধারণ মালিক হিসেবে অধিকার ভোগ করেন তাকে সাধারণ শেয়ার বলে।
উদ্দীপক:
‘সোনালী লিমিটেড’ ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায়। প্রতিষ্ঠানটি কিছু অর্থ শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে এবং কিছু অর্থ ডিবেঞ্চার ইস্যুর মাধ্যমে সংগ্রহ করল। রাকিব কোম্পানির শেয়ার কিনল এবং সুমন ডিবেঞ্চার কিনল।
উত্তর: কোম্পানির মোট মূলধনকে সমান ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করলে প্রতিটি অংশকে শেয়ার বলে।
উত্তর: ডিবেঞ্চার ক্রয়ের মাধ্যমে ডিবেঞ্চারহোল্ডার কোম্পানিকে ঋণ প্রদান করেন। কোম্পানি তাকে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী সুদ ও মূলধন পরিশোধ করে। তাই তিনি কোম্পানির মালিক নন, বরং পাওনাদার।
উত্তর: রাকিব শেয়ার ক্রয় করায় কোম্পানির মালিকানায় অংশীদার হয়েছে। অন্যদিকে সুমন ডিবেঞ্চার ক্রয় করায় কোম্পানির পাওনাদার হয়েছে। রাকিব সাধারণ শেয়ারের ক্ষেত্রে ভোটাধিকার ও লভ্যাংশ পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে। কিন্তু সুমন সাধারণত ভোটাধিকার পায় না এবং নির্ধারিত হারে সুদ পাওয়ার অধিকারী।
উত্তর: শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে কোম্পানি মালিকানা মূলধন সংগ্রহ করতে পারে এবং সাধারণত এই অর্থ নির্দিষ্ট সময়ে ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকে না। তবে শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ বাড়ে।
অন্যদিকে ডিবেঞ্চারের মাধ্যমে কোম্পানি ঋণমূলধন সংগ্রহ করে। এতে মালিকানা ভাগ হয় না, কিন্তু নির্ধারিত সুদ ও মূলধন পরিশোধের দায় সৃষ্টি হয়। তাই কোম্পানির আর্থিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে কোন উৎস ব্যবহার করা হবে তা নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপক:
একটি কোম্পানি ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৫০,০০০টি সাধারণ শেয়ার ইস্যু করল। পাশাপাশি ৫ বছর মেয়াদি ডিবেঞ্চারও ইস্যু করল। মিতু ২০০টি শেয়ার এবং নাবিল ১০টি ডিবেঞ্চার ক্রয় করল।
উত্তর: যে শেয়ারের মালিক কোম্পানির সাধারণ মালিক হিসেবে অধিকার ভোগ করেন তাকে সাধারণ শেয়ার বলে।
উত্তর: ডিবেঞ্চারের মাধ্যমে কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করে। তাই এটি কোম্পানির ঋণের প্রমাণস্বরূপ এবং একে ঋণপত্র বলা হয়।
উত্তর: মিতু সাধারণ শেয়ার ক্রয় করায় সে কোম্পানির মালিকানায় অংশীদার হয়েছে। তার বিনিয়োগের বিনিময়ে সে লভ্যাংশ পাওয়ার সুযোগ পাবে এবং সাধারণ শেয়ারের ক্ষেত্রে ভোটাধিকারও থাকতে পারে।
উত্তর: মিতুর বিনিয়োগ হলো মালিকানা মূলধন, কারণ সে শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে কোম্পানির মালিকানায় অংশীদার হয়েছে। অন্যদিকে নাবিলের বিনিয়োগ হলো ঋণমূলধন, কারণ ডিবেঞ্চার ক্রয়ের মাধ্যমে সে কোম্পানিকে ঋণ দিয়েছে এবং কোম্পানি নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী তাকে সুদ ও মূলধন পরিশোধ করবে।
অতএব, মিতু = মালিকানার অংশীদার এবং নাবিল = পাওনাদার।
| বিষয় | সাধারণ শেয়ার | অগ্রাধিকার শেয়ার |
|---|---|---|
| লভ্যাংশ | সাধারণত নির্দিষ্ট নয় | সাধারণত নির্দিষ্ট |
| লভ্যাংশ পাওয়া | অগ্রাধিকার নেই | অগ্রাধিকার আছে |
| ভোটাধিকার | সাধারণত থাকে | সাধারণত সীমিত/শর্তসাপেক্ষ |
| ঝুঁকি | বেশি | তুলনামূলক কম |
| মূলধন ফেরত | পরে | আগে |
১. কোম্পানির মূলধনের ক্ষুদ্রতম অংশকে কী বলে?
ক) বন্ড
খ) শেয়ার
গ) ডিবেঞ্চার
ঘ) ঋণ
উত্তর: খ) শেয়ার
২. শেয়ারের মালিককে কী বলা হয়?
ক) ঋণগ্রহীতা
খ) পাওনাদার
গ) শেয়ারহোল্ডার
ঘ) দেনাদার
উত্তর: গ) শেয়ারহোল্ডার
৩. ডিবেঞ্চারহোল্ডার কোম্পানির—
ক) মালিক
খ) পরিচালক
গ) পাওনাদার
ঘ) কর্মচারী
উত্তর: গ) পাওনাদার
৪. সাধারণ শেয়ারের আয়কে কী বলা হয়?
ক) সুদ
খ) লভ্যাংশ
গ) মুনাফা
ঘ) ভাড়া
উত্তর: খ) লভ্যাংশ
৫. বন্ড মূলত কী?
ক) মালিকানা দলিল
খ) ঋণপত্র
গ) ব্যবসায়িক লাইসেন্স
ঘ) শেয়ার সনদ
উত্তর: খ) ঋণপত্র
৬. কোনটি মালিকানা মূলধনের উদাহরণ?
ক) ডিবেঞ্চার
খ) ব্যাংক ঋণ
গ) সাধারণ শেয়ার
ঘ) বন্ড
উত্তর: গ) সাধারণ শেয়ার
৭. ডিবেঞ্চারের ধারক সাধারণত কী পান?
ক) লভ্যাংশ
খ) সুদ
গ) বেতন
ঘ) কমিশন
উত্তর: খ) সুদ
এক লাইনে পুরো অধ্যায়টি মনে রাখো—
শেয়ার → মালিকানা → শেয়ারহোল্ডার → লভ্যাংশ
বন্ড → ঋণ → বন্ডহোল্ডার → সুদ/রিটার্ন
ডিবেঞ্চার → ঋণ → ডিবেঞ্চারহোল্ডার → সুদ
চলবে... (রওনক)