Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ

শুক্রবার (জুম'আ)- সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ এই দিনে আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর নৈকট্য অর্জন, দোয়া ও ইবাদতের এক বিশেষ সুযোগ।

ইসলামে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতময় একটি দিন। সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় এ দিনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা জুমার নামাজের জন্য আহ্বান করা হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ছেড়ে আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। (সুরা আল-জুমুআ, আয়াত: ৯)

জুমার দিনের বিশেষ ফজিলত

১. সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে দিনগুলোতে সূর্য উদিত হয়, তার মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন।” এ দিনেই আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৪)

২. জুমার নামাজের গুরুত্ব: প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও শরিয়ত অনুযায়ী যাদের ওপর জুমার নামাজ ফরজ, তাদের জন্য জামাতে জুমার নামাজ আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিনা ওজরে জুমার নামাজ পরিত্যাগ করা গুরুতর অপরাধ।

৩. দোয়া কবুলের বিশেষ সময়: জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণকর কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

৪. দরুদ পাঠের বিশেষ গুরুত্ব: জুমার দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। এটি তাঁর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ এবং সওয়াব অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল।

৫. গুনাহ মোচনের সুযোগ: রাসুলুল্লাহ (সা.) জানিয়েছেন, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত সময়ের গুনাহের কাফফারা হয়, যদি কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকা হয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৩৩)

জুমার দিনে করণীয়

  • গোসল করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা।

  • আগে আগে মসজিদে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করা।

  • মনোযোগসহ খুতবা শোনা এবং জুমার নামাজ আদায় করা।

  • বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা।

  • সুরা আল-কাহফ তিলাওয়াত করা—এ বিষয়ে ফজিলতের বর্ণনা হাদিসের বিভিন্ন গ্রন্থে এসেছে।

  • বেশি বেশি দোয়া, জিকির, তওবা ও ইস্তিগফার করা।

  • কেনাবেচা ও অন্যান্য ব্যস্ততার চেয়ে ফরজ ইবাদতকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

উপসংহার

জুমার দিন শুধু সাপ্তাহিক জামাতের দিন নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর নৈকট্য অর্জন, দোয়া ও ইবাদতের এক বিশেষ সুযোগ। তাই এ দিনের মর্যাদা রক্ষা করে কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য। আসুন, আমরা জুমার দিনের ফজিলত অর্জনে সচেষ্ট হই এবং নিজেদের জীবনকে তাকওয়া, নৈতিকতা ও সৎকর্মে সমৃদ্ধ করি।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট