সহকারী শিক্ষক
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৪১ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ অর্থনীতি
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ১
মানুষের অভাব ও চাহিদা অসীম, কিন্তু সেই চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ সীমিত। তাই সীমিত সম্পদের সাহায্যে মানুষের সমস্ত অভাব পূরণ করা সম্ভব হয় না। অর্থনীতিতে এই অবস্থাকে দুষ্প্রাপ্যতা (Scarcity) বলে।
সংজ্ঞা: মানুষের অসীম অভাব পূরণের তুলনায় সম্পদের সীমাবদ্ধতাকে অর্থনৈতিক দুষ্প্রাপ্যতা বলে।
চিত্রের ব্যাখ্যা:
মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বিনোদনের মতো অসংখ্য চাহিদা রয়েছে। কিন্তু এই চাহিদা পূরণের জন্য অর্থ, সময়, জমি, শ্রম ও প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত। ফলে সব চাহিদা একসঙ্গে পূরণ করা সম্ভব হয় না। এই সীমিত সম্পদ ও অসীম অভাবের মধ্যকার সম্পর্কই দুষ্প্রাপ্যতার মূল কারণ।
১. মানুষের অভাব অসীম: মানুষের একটি অভাব পূরণ হলে নতুন অভাব সৃষ্টি হয়।
২. সম্পদের সীমাবদ্ধতা: জমি, শ্রম, মূলধন ও প্রাকৃতিক সম্পদের পরিমাণ সীমিত।
৩. বিকল্প ব্যবহার: একই সম্পদ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়। যেমন, একটি জমিতে ধান চাষ অথবা বাড়ি নির্মাণ করা সম্ভব।
৪. জনসংখ্যা বৃদ্ধি: জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার চাহিদা বাড়ে।
ধরা যাক, একজন শিক্ষার্থীর কাছে ১০০ টাকা আছে। সে বই কিনতে চায়, আবার খাবারও কিনতে চায়। কিন্তু ১০০ টাকা দিয়ে তার সব চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
তাই তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—কোন চাহিদাটি আগে পূরণ করবে।
এটি অর্থনৈতিক দুষ্প্রাপ্যতার একটি বাস্তব উদাহরণ।
১. কী উৎপাদন করা হবে: কোন পণ্য কত পরিমাণে উৎপাদন করা হবে, তা নির্বাচন করতে হয়।
২. কীভাবে উৎপাদন করা হবে: শ্রমনির্ভর নাকি যন্ত্রনির্ভর পদ্ধতিতে উৎপাদন করা হবে, তা নির্ধারণ করতে হয়।
৩. কার জন্য উৎপাদন করা হবে: উৎপাদিত পণ্য ও সেবা কীভাবে মানুষের মধ্যে বণ্টন করা হবে, তা ঠিক করতে হয়।
এই তিনটি মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা দুষ্প্রাপ্যতা থেকেই সৃষ্টি হয়।
পরিশেষে বলা যায়, দুষ্প্রাপ্যতা অর্থনীতির একটি মৌলিক ধারণা। মানুষের অভাব অসীম হলেও তা পূরণের সম্পদ সীমিত। তাই সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হয়। দুষ্প্রাপ্যতা থেকেই নির্বাচন ও সুযোগ ব্যয়ের ধারণার সৃষ্টি হয়। এজন্য অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতার গুরুত্ব অপরিসীম।