Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২১ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:১১ অপরাহ্ণ

কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ
কথাসাহিত্যিক শওকত আলী রচিত "কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ" গল্পে মূলত এক বৃদ্ধ সাঁওতাল শ্রমিকের ভূমির অধিকার, নিজস্ব সংস্কৃতি রক্ষা এবং প্রতিবাদের গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আপনি যেভাবে "পপিল দাস মুর্মুর শেষ কথা" জানতে চেয়েছেন, গল্পটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে এটি মূলত "কপিলদাস মুর্মু"-র কাহিনি এবং গল্পের শেষে তাঁর কোনো নাটকীয় মুখে বলা "শেষ কথা" বা সংলাপ নেই, বরং তাঁর আত্মিক উপলব্ধি এবং একটি অবিনাশী প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে।
গল্পের শেষভাগের মূলভাব এবং কপিলদাসের অন্তিম উপলব্ধি নিচে তুলে ধরা হলো:
  • মহাজাগতিক মেলবন্ধন: জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বয়সের ভারে নুয়ে পড়া কপিলদাসের কাছে পৃথিবীর সবকিছুর এক অদ্ভুত মেলবন্ধন ধরা পড়ে। তাঁর মনে হয়—সংসারের ঝগড়া-ঝাঁটি, জন্ম-মৃত্যু, রাগ-ক্ষোভ কিংবা সামনের বিশাল প্রকাণ্ড কান্দর (গর্ত বা খাত) আর তার ওপরকার আসমান—সবই যেন একটার সঙ্গে আরেকটা মিলেমিশে এক হয়ে গেছে। 
  • জীবনের প্রতি অনীহা ও নীরবতা: জীবনের শেষ মুহূর্তে কপিলদাসের চারপাশের জগতের প্রতি এক ধরনের উদাসীনতা ও অনীহা তৈরি হয়। চরম ক্লান্তি ও অবসাদের কারণে তিনি এতটাই নিঃস্পৃহ হয়ে পড়েন যে, কাউকে কোনো কথা জিজ্ঞেস করার প্রয়োজনীয়তাও বোধ করেন না। 
  • প্রজন্মের মাঝে প্রতিরোধের মশাল: মুখে কিছু না বললেও তাঁর মনের শেষ ভাবটি ছিল সান্ত্বনা ও আশাবাদের। তিনি উপলব্ধি করেন যে, তাঁর যৌবনের সেই বাঘ শিকার বা মহাজনদের শোষণের বিরুদ্ধে তির-ধনুক হাতে রুখে দাঁড়ানোর যে আদিবাসী ঐতিহ্য, তা শেষ হয়ে যায়নি। তাঁর উত্তরসূরি বা তরুণ প্রজন্মের অভাব-অনটন ও হতাশা থাকলেও, নিজেদের জমি ও অস্তিত্ব রক্ষার চেতনা তাদের ভেতরে এখনও জাগ্রত রয়েছে। 
সংক্ষেপে বলতে গেলে, মুখে বলা কোনো শেষ কথার চেয়ে "সবকিছু শেষ পর্যন্ত একটা জায়গায় গিয়ে মিলে যায়"—কপিলদাসের এই অন্তিম জীবনদর্শনই গল্পের মূল শেষ কথা বা সমাপ্তি বার্তা।
মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট