কবি ও নাট্যকার সিকান্দার আবু জাফরের ঐতিহাসিক নাটক 'সিরাজউদ্দৌলা' (প্রকাশকাল ১৯৬৫) ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়, বিশ্বাসঘাতকতা ও পতনকে কেন্দ্র করে রচিত। ৪টি অঙ্ক ও ১২টি দৃশ্যের এ নাটকে নবাবের দেশপ্রেম, স্বাধীনচেতা মনোভাব এবং ভেতরের ষড়যন্ত্র চিত্রিত হয়েছে।
নাটকের সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ
প্রথম অঙ্ক: নবাব সিরাজউদ্দৌলার সিংহাসনে আরোহণ, ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ দখল, আলিনগর নামকরণ এবং গৃহদাহ শুরু হয়। এই অংশে ঘসেটি বেগম, উমিচাঁদ ও রাজবল্লভদের ষড়যন্ত্র এবং মাদ্রাজ থেকে ব্রিটিশ জাহাজ আসার খবর প্রকাশ পায়।
দ্বিতীয় অঙ্ক: ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভ ও ওয়াটসের নেতৃত্বে জগৎশেঠ, রাজবল্লভ এবং মীর জাফরের সাথে নবাবের বিরুদ্ধে গোপন দলিল ও চক্রান্ত চূড়ান্ত রূপ নেয়।
তৃতীয় অঙ্ক: পলাশীর প্রান্তরে যুদ্ধ, মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার ফলে নবাবের পরাজয় এবং নবাবের মুর্শিদাবাদে প্রত্যাবর্তন ও ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যর্থ চেষ্টা দেখানো হয়।
চতুর্থ অঙ্ক: পরাজয়ের পর নবাবের বন্দি দশা এবং ভগবানগোলা থেকে জাফরাগঞ্জের কয়েদখানায় নিয়ে গিয়ে মোহাম্মদি বেগ কর্তৃক নিষ্ঠুরভাবে সিরাজউদ্দৌলার হত্যাকাণ্ড ও বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্ত যাওয়ার মধ্য দিয়ে নাটক শেষ হয়।
গঠন: ৪টি অঙ্ক ও ১২টি দৃশ্য নিয়ে গঠিত।
সিরাজের উপস্থিতি: ১২টি দৃশ্যের মধ্যে ৮টিতেই নবাব সিরাজউদ্দৌলার সরাসরি সরব উপস্থিতি রয়েছে।
মূল প্রতিপাদ্য: ঐতিহাসিক সত্যের আশ্রয়ে দেশপ্রেম, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং আত্মত্যাগের মহিমা ফুটিয়ে তোলা।