Loading..

২৫ নভেম্বর, ২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

যুক্তিবিদ্যা: আরেোহের প্রকারভেদ, বৈজ্ঞানিক আরোহের বৈশিষ্ট্যসমূহ:

আরেোহের প্রকারভেদ

আরোহকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

১. প্রকৃত আরোহ 

২. অপ্রকৃত আরোহ

গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল সর্বপ্রথম প্রকৃত আরোহ নিয়ে আলোচনা করেন।

যে আরোহে আরোহের প্রকৃত গুণ ও মৌলিক বৈশিষ্ট্য বর্তমান থাকে তাকে প্রকৃত আরোহ বলে। অথাৎ যে আরোহে আরোহমূলক লম্ফ থাকে তাকে প্রকৃত আরোহ বলে।

যেমন,

মেহেদী হয় মরণশীল,

রিফাত হয় মরণশীল

মাহদী হয় মরণশীল

রায়হান হয় মরণশীল

বোরহান হয় মরণশীল

অতএব, সকল মানুষ হয় মরণশীল।

প্র্রকৃত আরোহকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা,

১. বৈজ্ঞানিক আরোহ

২. অবৈজ্ঞানিক আরোহ

৩. সাদৃশ্যমূলক অনুমান

১. বৈজ্ঞানিক আরোহ:

প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতার নীতি ও কার্য-কারণ নিয়মের উপর ভিত্তি করে কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করে সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করার প্রক্রিয়াকে বৈজ্ঞানিক আরোহ বলে।

যেমন,

মেহেদী হয় মরণশীল

রিফাত হয় মরণশীল

মাহদী হয় মরণশীল

রায়হান হয় মরণশীল

বোরহান হয় মরণশীল

অতএব, সকল মানুষ হয় মরণশীল।

 

বৈজ্ঞানিক আরোহের বৈশিষ্ট্যসমূহ:

১. বৈজ্ঞানিক আরোহ সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করে।এ বর্ণনার মধ্যে তিনটি দিক নিহিত আছে।যথা,

ক. যুক্তিবাক্য স্থাপন করা।

খ. সার্বিক যুক্তিবাক্য স্থাপন করা।

গ. সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য স্থাপন করা।

ক. যুক্তিবাক্য স্থাপন করা: বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত একটি যুক্তিবাক্য। আমরা জানি দুটি পদের মধ্যকার বর্ণনাকে যুক্তিবাক্য বলে। যেমন, সকল মানুষ হয় মরণশীল

খ. সার্বিক যুক্তিবাক্য স্থাপন: বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সবসময় একটি সার্বিক যুক্তিবাক্য হয়। 

যেমন, সকল মানুষ হয় মরণশীল

গ. সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য স্থাপন করা: বৈজ্ঞানিক আরোহের যুক্তিবাক্য বিশ্লেষক নয়, সংশ্লেষক। বিশ্লেষক যুক্তিবাক্যে বিধেয় পদটি শুধু উদ্দেশ্য পদের জাত্যর্থকে বিশ্লেষণ করে।

যেমন, সকল মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব। কিন্তু সংশ্লেষক যুক্তিবাক্যে বিধেয় পদ উদ্দেশ্য সম্পর্কে নতুন তথ্য প্রদান করে। সুতরাং বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত হলো সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য।

যেমন, সকল মানুষ হয় মরণশীল।

 

 

 

২। বৈজ্ঞানিক আরোহ ঘটনার অভিজ্ঞতা ও নিরীক্ষণভিত্তিক: বৈজ্ঞানিক আরোহ ঘটনার অভিজ্ঞতা, নিরীক্ষণ বা পর্যবেক্ষণ থেকে সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য খুজে বের করে। বিশেষ বিশেষ ঘটনা বা দৃষ্টান্ত অভিজ্ঞতামূলক নিরীক্ষণ বা পর্যবেক্ষণ থেকে বৈজ্ঞানিক আরোহের সার্বিক সিদ্ধান্তকে প্রতিপাদন করে বা প্রতিষ্ঠা করে।

 

যেমন,

মেহেদী হয় মরণশীল,

রিফাত হয় মরণশীল

মাহদী হয় মরণশীল

রায়হান হয় মরণশীল

বোরহান হয় মরণশীল

অতএব, সকল মানুষ হয় মরণশীল।

৩। গৃহীত দৃষ্টান্তকে বিশেষভাবে পরীক্ষা করা: বৈজ্ঞানিক আরোহ পরিবেশ ও পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রাপ্ত গৃহীত দৃষ্টান্তসমূহকে পরীক্ষা করে। পরিবেশ পরিবর্তনের মাধ্যমে পরীক্ষা করেই অপ্রয়োজনীয় উপাদানগুলোকে পৃথক করেএবং সেগুলোকে অপনয়ন করে বা বাদ দেয়। বৈজ্ঞানিক আরোহে প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো গ্রহণ করে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করে। এ কারণে অবৈজ্ঞানিক আরোহ থেকে বৈজ্ঞানিক পৃথক।

 

4। বৈজ্ঞানিক আরোহে জ্ঞাত থেকে অজ্ঞাতে উত্তরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়: আরোহ অনুমানের ক্ষেত্রে কতিপয় দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে একটি সার্বিক বাক্য প্রতিষ্ঠা করা হয়।

 

৫. বৈজ্ঞানিক আরোহমূলক লম্ফ উপস্থিত: আমরা জানি,আশ্রয়বাক্যের তুলনায় নতুন তথ্য প্রকাশিত হয় বৈজ্ঞানিক আরোহে। এজন্য বৈজ্ঞানিক আরোহ অনুমানে জ্ঞাত সত্য থেকে অজ্ঞাত সত্যে উত্তরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। যুক্তিবিদ বেইন এর দৃষ্টিতে, আরোহ অসুমানের সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্যের তুলনায় নতুন তথ্য প্রতাশিত হয় আরোহমূলক লম্ফের ভিত্তিতে। সে ক্ষেত্রে বলা যায়, বৈজ্ঞাসিত আরোহ অনুমানের ক্ষেত্রেও জ্হাত থেকে অজ্ঞাতে উত্তরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় আরোহত্মক লম্ফের ভিত্তিতে। বৈজ্ঞানিক আরোহে কিছুর ভিত্তিতে সব । অর্থাৎ জ্ঞাতের ভিত্তিতে অজ্ঞাত সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়।

 

৬. বৈজ্ঞানিক আরোহের ক্ষেত্রে একেবারে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়: বৈজ্ঞানিক আরোহের ক্ষেত্রে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতার নীতি ও কার্যকারণ নীতির উপর ভিত্তি সমগ্র শ্রেণি সম্পর্কে একটি সাধারণ সংশ্লেষক বাত্য প্রতিষ্ঠা তরা হয়। এখানে কোন প্রতিকুল অবস্থা থাকে না। ফলে এটি বস্তুগতভাবে সত্য হয়।

 

৭. বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত হিসেবে একটি সার্বিক বাক্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়: আরোহ অনুমানের মধ্যে বৈজ্ঞানিক আরোহ হলো একটি অন্যতম পদ্ধতি। এর দুটি অংশ আছে। আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত। এর সিদ্ধান্ত কখনও বিশেষ বাক্য হয় না । এর সিদ্ধান্ত সবসময় সার্বিক বাক্য হয়ে থাকে।

যেমন, যে কোন অবস্থায় তাপ প্রয়োগ করলে বরফ গলে যায়।

 

৮. বৈজ্ঞানিক আরোহের দৃষ্টান্ত সংগ্রহ করা প্রত্যক্ষণের ভিত্তিতে: বৈজ্ঞানিক আরোহের ক্ষেত্রে আমরা কোন বিশিষ্ট দৃষ্টান্তের ক্ষেত্রে গ্রত্যক্ষণের এর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়।

যেমন, আমরা যদি কিছু বরফ একত্রিত করে তাপ প্রয়োগ করি তাহলে দেখা যাবে যে বরফ গলে গেছে। সুতরাং আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি যে, তাপ প্রয়োগে বরফ গলে।

৯. বৈজ্ঞানিক আরোহে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। একমাত্র প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতার নীতিকে কেন্দ্র করে প্রকৃতিতে কিছু অভিন্ন ঘটনা ঘটে।

যেমন, আমরা যদি কিছু বরফ একত্রিত করে তাপ প্রয়োগ করি তাহলে দেখা যাবে যে বরফ গলে গেছে। সুতরাং আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি যে, তাপ প্রয়োগে বরফ গলে।

 

 

মোঃ আবু সাঈদ

প্রভাষক-যুক্তিবিদ্যা

যশোর শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ

মন্তব্য করুন