প্রভাষক
২৫ নভেম্বর, ২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
প্রভাষক
অবৈজ্ঞানিক আরোহ
কার্যকারণ সম্পর্কের উপর ভিত্তি না করে কেবলমাত্র অবাধ অভিজ্ঞতা ও প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির উপর ভিত্তি করে সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিকাক্য প্রতিষ্ঠা করার প্রক্রিয়াকে অবৈজ্ঞানিক আরোহ বলে।
অবৈজ্ঞানিক আরোহ প্রক্রিয়ায় সব সময় একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য স্থাপন করা হয়। এ আরোহ প্রক্রিয়ার মূলসূত্র হচ্ছে- “একটি ঘটনা সব সময় সত্য হতে দেখা গেছে কখনও এর কোন বিরুদ্ধ দৃষ্টান্ত ঘটেনি, অতএব, এ ঘটনাটি সত্য”। অবৈজ্ঞানিক আরোহ কতকগুলো দৃষ্টান্তের গণনার ভিত্তিতেই সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়।
যুক্তিবিদ আইবিদ অবৈজ্ঞানিক আরোহের সংজ্ঞায় বলেছেন, “যে আরোহ অনুমানের ক্ষেত্রে কোন শ্রেণির অন্তর্গত কতিপয় অনুকুল দৃষ্টান্তে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কেবল প্রকৃতির নিয়মানুবির্ততার নীতির উপর নির্ভর করে একটা সাধারণ সংশ্লেষক বাক ্যপ্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে অবৈজ্ঞানিক আরোহ বলে”।
যুক্তিবিদ মিল বলেন, “কোন বিষয় সম্পর্কে যে বাক্য সত্য বলে জানা গেছে তা যদি সমজাতীয় সব বিষয় সম্পকে সত্য হয় তাহলে সে সত্যের ভিত্তিতে একটা সাধারণ বাক্য প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াই হলো অবৈজ্ঞানিক আরোহ”।
যেমন, আমাদের অভিজ্ঞতা যতদূর গিয়েছে, আমরা কালো রংয়ের কাক ছাড়া আর কোন কাক দেখিনি, সুতরাং এথেকে প্রমাণ করা যায় যে, পৃথিবীর সব কাক হয় কালো।
অবৈজ্ঞানিক আরোহের বৈশিষ্ট্য
১. অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্তরূপে একটি সার্বিক সংশ্লেষক বাক্য প্রতিষ্ঠা করা যায়।
২. অবৈজ্ঞানিক আরোহ অনুমান কখনোই বা কোন অবস্থাতেই কার্যকারণ নীতি প্রয়োগের কোন চেষ্টা থাকে না। অবৈজ্ঞানিক আরোহ প্রক্রিয়ায় কতকগুলো দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সার্বিক সংশ্লেষক বাক্য স্থাপন করা হয়। এ আরোহে জানা থেকে অজানা বা জ্ঞাত থেকে অজ্ঞাত উত্তরণের জন্য আরোহমূলক লম্ফ আছে এবং এ লম্ফ প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত।
যুক্তিবিদ বেইন বলেন, “আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্তে আশ্রয়বাক্যের তুলনায় নতুন তথ্য প্রকাশিত হওয়া আরোহমূলক লম্ফেরে ভিত্তি”।
যেমন, আমরা বিশ্বাস করি, যা আমরা দেখেছি, আর যেগুলো আমরা দেখিনি তা আমাদের দেখা জিনিসের মতোই হবে।
৩. অবৈজ্ঞানিক আরোহে জ্ঞাত থেকে অজ্ঞাতে উত্তরণ সম্ভব।
৪. অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সব সময় সম্ভাব্য হয়ে থাকে।
যেমন, আমাদের অভিজ্ঞতা যতদূর গিয়েছে, আমরা কালো রংয়ের কাক ছাড়া আর কোন কাক দেখিনি, সুতরাং এথেকে প্রমাণ করা যায় যে, পৃথিবীর সব কাক হয় কালো।
৫. অবৈজ্ঞানিক আরোহে প্রত্যক্ষণের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত সংগহ করা হয়।
যেমন, কিছু সাপের কামড়ের পর পরীক্ষা করে বিষের উপস্থিতি পাওয়া গেল। তারপর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো সকল সাপ বিষাক্ত।
ঠিক এভাবে আমাদের ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত সংবেদনের ব্যাখ্যার যে প্রক্রিয়া, তার নামই হচ্ছে প্রত্যক্ষণ।
অবৈজ্ঞানিক আরোহের মূল্য বা গুরুত্ব
অবেজ্ঞানিক আরোহ বা অপূর্ণ গণনামূলক আরোহ পদ্ধতিতে কোন কার্যকারণ সম্বন্ধ স্থাপিত হয় না বলে এর সিদ্ধান্তের নিশ্চিয়তা সম্ভাব্য হয়ে থাকে। তাই মিল মনে করেন অবৈজ্ঞানিক আরোহের কোন বৈজ্ঞানিক মূল্য নাই। তাছাড়া আমাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা যত বাড়তে থাকে, বিপরীত দৃষ্টান্ত প্রত্যক্ষ করার সম্ভাবনাও ততই বেড়ে যায় এবং একটি মাত্র বিপরীত দৃষ্টান্ত চোথে পড়লেই এর সার্বিক সিদ্ধান্ত অসত্য হয়ে যায়।
এজন্য যুক্তিবিদ বেইন অবৈজ্ঞানিক আরোহকে নিছক ছেলেমানুষি ব্যাপার বলে উপেক্ষা করেছেন।
আবার বেকন বলেন, “এটি একটি শিশুসুলভ অনুমান এবং একটিমাত্র বিরোধী দৃষ্টান্তের সাহায্যেই এক উড়িয়ে দেওয়া যায়”।
যেমন, আমাদের অভিজ্ঞতা যতদূর গিয়েছে, আমরা কালো রংয়ের কাক ছাড়া আর কোন কাক দেখিনি, সুতরাং এথেকে প্রমাণ করা যায় যে, পৃথিবীর সব কাক হয় কালো।
কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্তের নিশ্চয়তা সম্ভাবনামূলক হলেও একেবারে মূল্যহীন বা শিশুসুলভ বলে উড়িয়ে দেওয়া যুক্তিযুক্ত হবে না।কারণ সম্ভাব্যতার মাঝে একটা মাত্রাগত ব্যাপার থাকে। অর্থাৎ ‘প্রায় শূণ্য’ থেকে ‘প্রায় নিশ্চিত’ পর্যন্ত সম্ভাবনার মাত্রা বিস্তৃত থাকে। অগণিত মানুষের অবাধ অভিজ্ঞতা একেবারে মূল্যহীন এ কথা সম্পূর্ণ ঠিক নয়; কেননা বিরুদ্ধ দৃষ্টান্তের অস্তিত্ব থাকলে এতদিন কোন না কোন মানুষেল অভিজ্ঞতায় তা ধরা পড়ত। কাজেই প্রাত্যহিক বাস্তব জীবনে আমরা একে বাদ দিতে পারি না। আমরা যদি আমাদের অভিজ্ঞতার ব্যাপিত আরো সম্প্রসারিত করি তবে এর মূল্য নিঃসন্দেহে বৃদ্ধি পাবে।
অবৈজ্ঞানিক আরোহ সম্পর্কে নিম্নবর্ণিত মূল্য বা গুরুত্ব উল্লেখ করা হলো:
১. লৌকিক আরোহ হিসেবে অবৈজ্ঞানিক আরোহের ব্যবহার মানব ইতিহাসে একটা প্রাচীনতম প্রচেষ্টা। এ আরোহ পদ্ধতির সাহায্যে সাধারণ মানুষ সিদ্ধান্ত গ্র্রহণ করে থাকে এবং ভবিষ্যতেও মানুষের মাঝে এর ব্যবহার চলতে থাকবে।
২. বৈজ্ঞানিক স্বতঃসিদ্ধ নিয়ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত প্রকৃতির নিয়শানুবর্তিতা নীতিকে অবৈজ্ঞানিক আরোহ তার সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে। কাজেই এ পদ্ধতি মানুষের জ্ঞানের পরিসর বিস্তৃত করথে সাহায্য করে।
৩. অবৈজ্ঞানিক আরোহ হলো বৈজ্ঞানিক আরোহের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রথম পদক্ষেপ। বৈজ্ঞানিক আরোহের স্তরে পৌছানোর সিড়ি হিসেবে কাজ করে অবৈজ্ঞানিক আরোহ। তাই এর গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
৪. অবৈজ্ঞানিক আরোহ আমাদেরকে প্রকল্প গঠনে সাহায্য করে। কাজেই অবৈজ্ঞানিক আরোহ নিজে কার্যকারণ সম্বন্ধ প্রতিষ্ঠা করতে না পারলেও নিঃসন্দেহে কার্যকারণ সম্বন্ধের ইঙ্গিত বহন করে।
৫. যেসব ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক আরোহঅনুমান প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত সিদ্ধান্তে উপনিত হওয়া সম্ভব হয় না, সে ক্ষেত্রে আমরা অবৈজ্ঞানিক আরোহের সরল প্রকৃতি ব্যবহার করে থাকি। কাজে দৈনন্দিন জীবনে অবৈজ্ঞানিক আরোহের মূল্য ও গুরুত্ব অপরিসীম।
বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক আরোহের সাদৃশ্য
১. বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক উভয় প্রকার আরোহ প্রকৃত আরোহের অন্তর্ভূক্ত।
কারণ উভয় প্রকার আরোহে আরোহমূলক লম্ফ উপস্থিত।
২. বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক উভয় প্রকার আরোহে ঘটনা পর্যবেক্ষণ নীতি বর্তমান। কারণে এ আরোহে আমরা সিদ্ধান্ত স্থাপনের পূর্বে ঘটে যাওয়া বাস্তব ঘটনাসমূহ পর্যবেক্ষণ করি।
৩. বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক উভয় প্রকার আরোহ প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির উপর নির্ভরশীল।
৪. বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক উভয় প্রকার আরোহের সিদ্ধান্ত সব সময় সার্বিক যুক্তিবাক্য হয়ে থাকে।
বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক আরোহের বৈসাদৃশ্য
১. অবৈজ্ঞানিক আরোহের ক্ষেত্রে কয়েকটি সদর্থক দৃষ্টান্ত দেখে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়।
কিন্তু বৈজ্ঞানিক আরোহে সদর্থক ও নঞর্থক উভয় প্রকার দৃষ্টান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা যাচাই বাচাই করে সার্বিক সংশ্লেষক বাক্য প্রতিষ্ঠা করা হয়।
২. বৈজ্ঞানিক আরোহে কার্যকারণ নিয়মের উপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহ কার্যকারণ সম্পর্কের উপর নির্ভরশীল নয়।
৩. বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য।
৪. বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হয় না।
৫. বৈজ্ঞানিক আরোহে দৃষ্টান্তের চেয়ে দৃষ্টান্তের মানের উপর বেশি গুরুত্ব আরোপ করা হয়। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহে দৃষ্টান্তের মানের চেয়ে সদর্থক সংখ্যার উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
৬. বৈজ্ঞানিক আরোহ একটি জটিল প্রক্রিয়া । কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহ একটি সহজ প্রক্রিয়া।
৭. বৈজ্ঞানিক আরোহ একটি বিজ্ঞান সম্মত অনুমান। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহ কোন বিজ্ঞান সম্মত অনুমান নয়।
৮. বৈজ্ঞানিক আরোহ কখনো কোন বিষয় প্রমাণ করতে না পারলে সে বিষয়ে বিবৃতি দেয় না। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহ অনেক সময় ভালো ভাবে প্রমাণ না করেই সে বিষয়ে বিবৃতি প্রদানে সচেষ্ট থাকে।
৯. বৈজ্ঞানিক আরোহের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ কালে নিরীক্ষণ, পরীক্ষণ, প্রকল্প প্রণয়ন, অপনয়ন ইত্যাদি স্তর অতিক্রম করতে হয়। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহের ক্ষেত্রে শুধূ অবাধ অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
অবৈজ্ঞানিক আরোহ
কার্যকারণ সম্পর্কের উপর ভিত্তি না করে কেবলমাত্র অবাধ অভিজ্ঞতা ও প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির উপর ভিত্তি করে সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিকাক্য প্রতিষ্ঠা করার প্রক্রিয়াকে অবৈজ্ঞানিক আরোহ বলে।
অবৈজ্ঞানিক আরোহ প্রক্রিয়ায় সব সময় একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য স্থাপন করা হয়। এ আরোহ প্রক্রিয়ার মূলসূত্র হচ্ছে- “একটি ঘটনা সব সময় সত্য হতে দেখা গেছে কখনও এর কোন বিরুদ্ধ দৃষ্টান্ত ঘটেনি, অতএব, এ ঘটনাটি সত্য”। অবৈজ্ঞানিক আরোহ কতকগুলো দৃষ্টান্তের গণনার ভিত্তিতেই সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়।
যুক্তিবিদ আইবিদ অবৈজ্ঞানিক আরোহের সংজ্ঞায় বলেছেন, “যে আরোহ অনুমানের ক্ষেত্রে কোন শ্রেণির অন্তর্গত কতিপয় অনুকুল দৃষ্টান্তে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কেবল প্রকৃতির নিয়মানুবির্ততার নীতির উপর নির্ভর করে একটা সাধারণ সংশ্লেষক বাক ্যপ্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে অবৈজ্ঞানিক আরোহ বলে”।
যুক্তিবিদ মিল বলেন, “কোন বিষয় সম্পর্কে যে বাক্য সত্য বলে জানা গেছে তা যদি সমজাতীয় সব বিষয় সম্পকে সত্য হয় তাহলে সে সত্যের ভিত্তিতে একটা সাধারণ বাক্য প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াই হলো অবৈজ্ঞানিক আরোহ”।
যেমন, আমাদের অভিজ্ঞতা যতদূর গিয়েছে, আমরা কালো রংয়ের কাক ছাড়া আর কোন কাক দেখিনি, সুতরাং এথেকে প্রমাণ করা যায় যে, পৃথিবীর সব কাক হয় কালো।
অবৈজ্ঞানিক আরোহের বৈশিষ্ট্য
১. অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্তরূপে একটি সার্বিক সংশ্লেষক বাক্য প্রতিষ্ঠা করা যায়।
২. অবৈজ্ঞানিক আরোহ অনুমান কখনোই বা কোন অবস্থাতেই কার্যকারণ নীতি প্রয়োগের কোন চেষ্টা থাকে না। অবৈজ্ঞানিক আরোহ প্রক্রিয়ায় কতকগুলো দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সার্বিক সংশ্লেষক বাক্য স্থাপন করা হয়। এ আরোহে জানা থেকে অজানা বা জ্ঞাত থেকে অজ্ঞাত উত্তরণের জন্য আরোহমূলক লম্ফ আছে এবং এ লম্ফ প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত।
যুক্তিবিদ বেইন বলেন, “আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্তে আশ্রয়বাক্যের তুলনায় নতুন তথ্য প্রকাশিত হওয়া আরোহমূলক লম্ফেরে ভিত্তি”।
যেমন, আমরা বিশ্বাস করি, যা আমরা দেখেছি, আর যেগুলো আমরা দেখিনি তা আমাদের দেখা জিনিসের মতোই হবে।
৩. অবৈজ্ঞানিক আরোহে জ্ঞাত থেকে অজ্ঞাতে উত্তরণ সম্ভব।
৪. অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সব সময় সম্ভাব্য হয়ে থাকে।
যেমন, আমাদের অভিজ্ঞতা যতদূর গিয়েছে, আমরা কালো রংয়ের কাক ছাড়া আর কোন কাক দেখিনি, সুতরাং এথেকে প্রমাণ করা যায় যে, পৃথিবীর সব কাক হয় কালো।
৫. অবৈজ্ঞানিক আরোহে প্রত্যক্ষণের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত সংগহ করা হয়।
যেমন, কিছু সাপের কামড়ের পর পরীক্ষা করে বিষের উপস্থিতি পাওয়া গেল। তারপর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো সকল সাপ বিষাক্ত।
ঠিক এভাবে আমাদের ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত সংবেদনের ব্যাখ্যার যে প্রক্রিয়া, তার নামই হচ্ছে প্রত্যক্ষণ।
অবৈজ্ঞানিক আরোহের মূল্য বা গুরুত্ব
অবেজ্ঞানিক আরোহ বা অপূর্ণ গণনামূলক আরোহ পদ্ধতিতে কোন কার্যকারণ সম্বন্ধ স্থাপিত হয় না বলে এর সিদ্ধান্তের নিশ্চিয়তা সম্ভাব্য হয়ে থাকে। তাই মিল মনে করেন অবৈজ্ঞানিক আরোহের কোন বৈজ্ঞানিক মূল্য নাই। তাছাড়া আমাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা যত বাড়তে থাকে, বিপরীত দৃষ্টান্ত প্রত্যক্ষ করার সম্ভাবনাও ততই বেড়ে যায় এবং একটি মাত্র বিপরীত দৃষ্টান্ত চোথে পড়লেই এর সার্বিক সিদ্ধান্ত অসত্য হয়ে যায়।
এজন্য যুক্তিবিদ বেইন অবৈজ্ঞানিক আরোহকে নিছক ছেলেমানুষি ব্যাপার বলে উপেক্ষা করেছেন।
আবার বেকন বলেন, “এটি একটি শিশুসুলভ অনুমান এবং একটিমাত্র বিরোধী দৃষ্টান্তের সাহায্যেই এক উড়িয়ে দেওয়া যায়”।
যেমন, আমাদের অভিজ্ঞতা যতদূর গিয়েছে, আমরা কালো রংয়ের কাক ছাড়া আর কোন কাক দেখিনি, সুতরাং এথেকে প্রমাণ করা যায় যে, পৃথিবীর সব কাক হয় কালো।
কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্তের নিশ্চয়তা সম্ভাবনামূলক হলেও একেবারে মূল্যহীন বা শিশুসুলভ বলে উড়িয়ে দেওয়া যুক্তিযুক্ত হবে না।কারণ সম্ভাব্যতার মাঝে একটা মাত্রাগত ব্যাপার থাকে। অর্থাৎ ‘প্রায় শূণ্য’ থেকে ‘প্রায় নিশ্চিত’ পর্যন্ত সম্ভাবনার মাত্রা বিস্তৃত থাকে। অগণিত মানুষের অবাধ অভিজ্ঞতা একেবারে মূল্যহীন এ কথা সম্পূর্ণ ঠিক নয়; কেননা বিরুদ্ধ দৃষ্টান্তের অস্তিত্ব থাকলে এতদিন কোন না কোন মানুষেল অভিজ্ঞতায় তা ধরা পড়ত। কাজেই প্রাত্যহিক বাস্তব জীবনে আমরা একে বাদ দিতে পারি না। আমরা যদি আমাদের অভিজ্ঞতার ব্যাপিত আরো সম্প্রসারিত করি তবে এর মূল্য নিঃসন্দেহে বৃদ্ধি পাবে।
অবৈজ্ঞানিক আরোহ সম্পর্কে নিম্নবর্ণিত মূল্য বা গুরুত্ব উল্লেখ করা হলো:
১. লৌকিক আরোহ হিসেবে অবৈজ্ঞানিক আরোহের ব্যবহার মানব ইতিহাসে একটা প্রাচীনতম প্রচেষ্টা। এ আরোহ পদ্ধতির সাহায্যে সাধারণ মানুষ সিদ্ধান্ত গ্র্রহণ করে থাকে এবং ভবিষ্যতেও মানুষের মাঝে এর ব্যবহার চলতে থাকবে।
২. বৈজ্ঞানিক স্বতঃসিদ্ধ নিয়ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত প্রকৃতির নিয়শানুবর্তিতা নীতিকে অবৈজ্ঞানিক আরোহ তার সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে। কাজেই এ পদ্ধতি মানুষের জ্ঞানের পরিসর বিস্তৃত করথে সাহায্য করে।
৩. অবৈজ্ঞানিক আরোহ হলো বৈজ্ঞানিক আরোহের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রথম পদক্ষেপ। বৈজ্ঞানিক আরোহের স্তরে পৌছানোর সিড়ি হিসেবে কাজ করে অবৈজ্ঞানিক আরোহ। তাই এর গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
৪. অবৈজ্ঞানিক আরোহ আমাদেরকে প্রকল্প গঠনে সাহায্য করে। কাজেই অবৈজ্ঞানিক আরোহ নিজে কার্যকারণ সম্বন্ধ প্রতিষ্ঠা করতে না পারলেও নিঃসন্দেহে কার্যকারণ সম্বন্ধের ইঙ্গিত বহন করে।
৫. যেসব ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক আরোহঅনুমান প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত সিদ্ধান্তে উপনিত হওয়া সম্ভব হয় না, সে ক্ষেত্রে আমরা অবৈজ্ঞানিক আরোহের সরল প্রকৃতি ব্যবহার করে থাকি। কাজে দৈনন্দিন জীবনে অবৈজ্ঞানিক আরোহের মূল্য ও গুরুত্ব অপরিসীম।
বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক আরোহের সাদৃশ্য
১. বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক উভয় প্রকার আরোহ প্রকৃত আরোহের অন্তর্ভূক্ত।
কারণ উভয় প্রকার আরোহে আরোহমূলক লম্ফ উপস্থিত।
২. বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক উভয় প্রকার আরোহে ঘটনা পর্যবেক্ষণ নীতি বর্তমান। কারণে এ আরোহে আমরা সিদ্ধান্ত স্থাপনের পূর্বে ঘটে যাওয়া বাস্তব ঘটনাসমূহ পর্যবেক্ষণ করি।
৩. বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক উভয় প্রকার আরোহ প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির উপর নির্ভরশীল।
৪. বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক উভয় প্রকার আরোহের সিদ্ধান্ত সব সময় সার্বিক যুক্তিবাক্য হয়ে থাকে।
বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক আরোহের বৈসাদৃশ্য
১. অবৈজ্ঞানিক আরোহের ক্ষেত্রে কয়েকটি সদর্থক দৃষ্টান্ত দেখে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়।
কিন্তু বৈজ্ঞানিক আরোহে সদর্থক ও নঞর্থক উভয় প্রকার দৃষ্টান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা যাচাই বাচাই করে সার্বিক সংশ্লেষক বাক্য প্রতিষ্ঠা করা হয়।
২. বৈজ্ঞানিক আরোহে কার্যকারণ নিয়মের উপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহ কার্যকারণ সম্পর্কের উপর নির্ভরশীল নয়।
৩. বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য।
৪. বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হয় না।
৫. বৈজ্ঞানিক আরোহে দৃষ্টান্তের চেয়ে দৃষ্টান্তের মানের উপর বেশি গুরুত্ব আরোপ করা হয়। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহে দৃষ্টান্তের মানের চেয়ে সদর্থক সংখ্যার উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
৬. বৈজ্ঞানিক আরোহ একটি জটিল প্রক্রিয়া । কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহ একটি সহজ প্রক্রিয়া।
৭. বৈজ্ঞানিক আরোহ একটি বিজ্ঞান সম্মত অনুমান। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহ কোন বিজ্ঞান সম্মত অনুমান নয়।
৮. বৈজ্ঞানিক আরোহ কখনো কোন বিষয় প্রমাণ করতে না পারলে সে বিষয়ে বিবৃতি দেয় না। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহ অনেক সময় ভালো ভাবে প্রমাণ না করেই সে বিষয়ে বিবৃতি প্রদানে সচেষ্ট থাকে।
৯. বৈজ্ঞানিক আরোহের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ কালে নিরীক্ষণ, পরীক্ষণ, প্রকল্প প্রণয়ন, অপনয়ন ইত্যাদি স্তর অতিক্রম করতে হয়। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহের ক্ষেত্রে শুধূ অবাধ অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
মোঃ আবু সাঈদ
প্রভাষক-যুক্তিবিদ্যা
যশোর শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ