সহকারী শিক্ষক
০৯ মার্চ, ২০২০ ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
আমার নাম মোঃ আলমগীর হোসেন। আমাকে সবাই প্রেম নামে ডাকতো। কারণ আমি সবার কাছে খুবই প্রিয় ছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে আমার লেখাপড়া তে অনেক বাধা-বিপত্তি এসেছে।আমার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর থানার চড়াচিথুলিয়া নামক গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই আমি ছিলাম দেশপ্রেমিক'। কোন অন্যায় দেখলে নিজেকে থামিয়ে রাখতে পারতাম না। তখন থেকে আমার জীবনের গল্প শুরুঃ আমার লেখাপড়া তে অনেক বাধা-বিপত্তি এসেছে। আমার লেখাপড়ার খরচ জোগাড় করতে পারিনি। কোনরকম ভাবে টেনেটুনে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে ডিপ্লোমা করছি। ডিপ্লোমা শেষ হতে আর দুই বছর বাকি আছে। আমার ইচ্ছা ছিল আমি একটি স্কুল দিব। যেখানে ছেলেমেয়েরা বিনামূল্যে শিক্ষা পাবে। কিন্তু স্বপ্নটা স্বপ্নই রয়ে গেল। তাই আমি নিজের চেষ্টায় গ্রামের কিছু অসহায় ছেলেমেয়েদেরকে সকাল বিকালে শিক্ষার জ্ঞান দেই। আমাদের গ্রামে অনেক ছেলেমেয়েদের মা-বাবা অশিক্ষিত। এইজন্য তারা তাদের সন্তানকে লেখাপড়া করায় না। আমি তাদের বাড়ি গিয়ে শিক্ষার বিষয় নিয়ে কিছু ছাত্রছাত্রী যোগাড় করলাম। তাদেরকে বিনামূল্যে শিক্ষা দিতে শুরু করলাম সকাল-বিকাল। এছাড়াও আমি আমাদের গ্রামের কোন বাল্যবিবাহ হতে দিই নাই। সব সময় অন্যের প্রতিবাদ করেছি। আমাদের গ্রামে কোথাও বাল্যবিবাহ হলে আমি থানা অথবা উপজেলায় গিয়ে অভিযোগ জানাতাম। অনেক সময় পুলিশ, উপজেলা নির্বাহি অফিসার আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। আমি কখনোই ভয় পেতাম না। কারণ আমার মধ্যে ভয়টাই ছিল না। আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ টি ছোটবেলা থেকেই শুনতাম। আমার মনে হতো আমিও যদি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মত এভাবে দেশকে ভালবাসতে পারি, তাহলে হয়তো আমাদের দেশের কিছুটা অভাব দূর করতে পারব। আমাদের দেশে এখন প্রদান অভাব, শিক্ষার অভাব। আগে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রচলিত ছিল যে,শিক্ষার জন্য এসো, সেবার জন্য বেরিয়ে যাও। কিন্তু এখন আছে,যে ভালোবাসার জন্য এসো, বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাও । এখন দেখা যাচ্ছে , ছেলেমেয়েরা এসএসসি পাশ করার আগেই বাল্যবিবাহের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। আমি মনে করি এর প্রধান সমস্যা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার অভাব, কারণ শিক্ষকরা তাদের নৈতিকতার শিক্ষা দিচ্ছে না। তাই আমার নিজের চেষ্টায় একটা স্কুল গড়ে উঠেছে। কিন্তু আমি সরকারের কাছ থেকে কোন সাহায্য পাচ্ছি না, আমি সকাল বিকাল গরীব ও অসহায় ছাত্র-ছাত্রীদের বিনামূল্যে শিক্ষা দেই,আমার প্রথম পোস্টে আমি দিয়েছি আমার স্কুলে এখন কত ছাত্র-ছাত্রী হয়েছে। এবার আমি আলোচনা করছি, আমি শুধু রুমের মধ্যেই শিক্ষা দেই না, রুমের বাইরে গাছের ছায়ার নিছে অসহায় ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা দেই। তাদের আমি মনে করি যে, এই বাংলাদেশের সকল পথ শিশুদের এবং অসহায় শিশুদের কে সঠিক দিকে নিয়ে গেলেই তারা আদর্শ মানুষ হয়ে দেশের হাল ধরতে পারবে । আমি মনে করি, যে জাতি, যত বেশি শিক্ষিত, সে জাতি, তত বেশি উন্নত। তাই আমাদের সকলকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে, আমার মত অসহায় এবং গরীব দুঃখী মানুষের সেবায় কাজ করতে হবে। এর আগেও আমি অনেক মাদক, সুদ, ঘুষ, জুয়া ইত্যাদির বিরুদ্ধে লড়াই করেছি । জীবনকে আমি ভালোবাসি সত্য, কিন্তু দেশের চেয়ে বেশি নয় । আমার স্বপ্ন একটাই আগামী দিনের মানুষকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করার অঙ্গীকার। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় হোক মেহনতী মানুষের।জয় হোক বাংলার সকল পথ শিশুদের। আরও জয় হোক আমার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সেই ছোট্ট স্কুলটির।