সহকারী প্রধান শিক্ষক
১৭ এপ্রিল, ২০২০ ০৭:০৪ অপরাহ্ণ
সহকারী প্রধান শিক্ষক
নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়টি গ্রামীণ পরিবেশে অবস্থিত হলেও এর চাল-চিত্র পুরোটা-ই শহরের মতো। যেমন, সকাল ঠিক দশ ঘটিকার মধ্যে সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে স্কুলে প্রবেশ করতে হয়, নতুবা প্রধান গেট বন্ধ। দপ্তরী-পিয়নকে ডেকে গেট খুলে অনুরোধ সাপেক্ষে প্রবেশ করতে হবে। প্রতিদিন প্রত্যাহিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সকল শিক্ষার্থী-শিক্ষক অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। বেশির ভাগ দিনে প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে সমাবেশ হয়। সমাবেশে কতজন উপস্থিত তা কাউন্ট করা হয়। সংক্ষিপ্ত পরিস্কার করার কাজ করা হয় প্রতিদিন। শ্রেণি কক্ষ সহ বড় পরিসরে করা হয় প্রতি বৃহস্পতিবার। কোন দিন চার টার আগে ছুটি হয় না ইত্যাদি।
প্রত্যাহিক সমাবেশে কোন অবস্থাতেই শিক্ষার্থীদের দ্বারা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা যায় না। যার ফলে মাইক-মোবাইল ফোন সবার ভরসা। আমার বিষয়টা ভাল লাগত না। কখনো এটাকে সমর্থন করতাম না আবার শিক্ষার্থীদের শিখিয়ে সামনেও আনতে পারতাম না। তবে আমি বিষয়টা খুব ভাবতাম এবং আমার কাছে খুবই বেমানান মনে হতো। যে মোবাইল দ্বারা জাতীয় সংগীত বাজানো হতো তাতে কখনো কখনো কল চলে আসতো। সো, অবস্থাটা বুঝতেই পারেন।
হঠাৎ একদিন মনে হলো শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবে যারা কাজ করে তাদের কাজে লাগানো যায় কি না? কারণ যারা শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবে কাজ করে তারা সুযোগ পাওয়ার জন্য আমার খুব ভক্ত এবং অনেকে আমার প্রতি দূর্বল। যথারিতী একদিন সমাবেশে সবার মাঝে ঘোষণা দিলাম। জাতীয় সংগীত, কোরান তেলায়াত/গীতা পাঠ, শপথবাক্য পাঠ না জানলে কোন শিক্ষার্থী ল্যাবে যাওয়ার সুযোগ পাবে না। ঐ দিন আমার ক্লাসগুলো ফাঁকে শিক্ষার্থীকে মোটিভেট করার চেষ্টা করলাম। উল্লেখ্য শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব প্রতিষ্টিত হওয়ার পর আমাদের স্কুলে এটার সর্বোচ্চ ব্যবহার হয়।
পরের দিন থেকেই প্রত্যাশিত ফল পাওয়া শুরু হলো। প্রতিটি ক্লাসে গেলে ২-৩জনের জাতীয় সংগীত শুনতে হতো। দিন দিন প্রতিযোগীতা বেড়ে গেল। শুরু হলো প্রাত্যাহিক সমাবেশে প্রয়োগ। প্রথম দিকে কয়েক জন বিব্রত হলেও ধীরে ধীরে তা কেটে গেল। সকল শিক্ষকের মধ্যে এই পরিবর্তন চোখে পড়ল এবং কয়েকজন শিক্ষক আমাকে সহযোগীতাও করলেন। আমাদের সবচে সিনিয়র শিক্ষক উনি প্রধান শিক্ষকেরও শিক্ষক, তিনি খুশি হয়ে এক ক্ষুদে শিক্ষার্থীকে সুন্দর জাতীয় সংগীতের জন্য সবার সামনে পুরস্কৃত করলেন।
তার পরথেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মাইক ছেড়ে এখন সবাই শিক্ষার্থী দ্বারা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। কোন শিক্ষার্থী রিপিট করতে হয়না। কারণ প্রায় জন পঞ্চাশেক শিক্ষার্থী ল্যাবে সুযোগ পাওয়ার জন্য পারদর্শী হয়ে গেল জাতীয় সংগীতে, কোরান তেলায়াতে/গীতা পাঠে ও শপথ বাক্য পাঠে।
এভাবে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব আর আমার উদ্ভাবনী চিন্তা দীর্ঘদিনের একটি সমস্যার স্থায়ী সমাধান করে সকল শিক্ষার্থীকে অনেক সাহস আর উদ্দীপনা শিখিয়েছে। জাতীয় সংগীত পরিবেশন কোরান-গীতা পাঠ ও শপথ বাক্য পাঠ এখন আমাদের কম্পিউটার ল্যাবে অনুশীলন করা যোগ্যতা। গত বছরের শেষের দিকে এ কাজটি করতে সক্ষম হয়েছি।
এ বছরে জানুয়ারীতে ভর্তি কার্যক্রম, ফ্রেব্রুয়ারীতে এসএসসি পরীক্ষা আর মার্চ মাসে করোনা’র প্রকোপের কারণে বিদ্যালয়ের কোন কার্যক্রম ই ভাল ভাবে করার সুযোগ হয়নি।
কোন আফসোস নাই। দোয়া রইল, আল্লাহ সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী আর দেশবাসী কে ভাল রাখুন নিরাপদ রাখুন, আর সুস্থ রাখুন, আমাদের সবাইকে করোনা থেকে মুক্ত রাখুন।
মোঃ আনোয়ার উদ্দীন হিরন
সহকারী শিক্ষক(কম্পিউটার)
নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়
কেন্দুয়া নেত্রকোণা
মোবাইলঃ 01711129709
17-04-2020