সিনিয়র শিক্ষক
২১ এপ্রিল, ২০২০ ১০:২১ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ কৃষি শিক্ষা
অধ্যায়ঃ চতুর্থ অধ্যায়
শষ্যভান্ডার খ্যাত ঐতিহ্যবাহী দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলায় শীতকালীন আগাম জাতের ফুলকপি ও বাধাকপি চাষ করে ব্যাপকভাবে লাভবান হচ্ছেন উপজেলার কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় আগাম জাতের এসব কপি চাষাবাদ করে সন্তুষ্ট কৃষকরা। এর ফলে বিরামপুর উপজেলায় শীতকালীন আগাম জাতের সবজি চাষের দিকে ঝুকেছেন কৃষকরা।
বিরামপুর উপজেলা কৃষি
সম্প্রসারন অধিদদপ্তর কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বিরামপুর
উপজেলার হাবিবপুর, ভেলারপাড়া, দিওর, দাউদপুর, কাঠলা, কেটরা, প্রাকপলিপুর,
শিবপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ৩০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি ও ২০ হেক্টর জমিতে
বাধাকপি চাষাবাদ করা হয়েছে। হোয়াইট মার্বেল, আরলি হোয়াইট জাতের ফুলকফি ও
বাধাকপির বিপুল সমারোহ
এসব এলাকার বিভিন্ন মাঠজুড়ে দেখা যাচ্ছে। এসব
ক্ষেত থেকে উৎপাদিত ফুলকপি ও বাধাকপি রাজধানী ঢাকা, সিলেট, বগুড়া, পঞ্চগর,
রংপুর সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এসব কপি সরবরাহ করা হচ্ছে।
বিরামপুর উপজেলার ভেলারপাড়া এলাকার কৃষক মঞ্জুরুল ইসলাম ও লুৎফর রহমান জানান, বিরামপুর উপজেলার মধ্যে ভেলারপাড়া এলাকায় সবচেয়ে বেশি আগাম জাতের ফুলকপি বাধাকপি চাষাবাদ করা হয়ে থাকে।
এবারে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফুলকপি ও
বাধাকপি চাষাবাদ ভালো হয়েছে। বর্তমানে বাজারে দামও ভালো রয়েছে যার ফলে মাঠ
থেকেই প্রতি পিচ কপি
১৪ থেকে ১৮ টাকা দরে পাইকারী বিক্রি করছেন। প্রতি
বিঘা জমিতে তাদের কপি আবাদ করতে খরচ পড়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায়।
বর্তমানে যে বাজার রয়েছে তাতে করে ক্ষেত থেকে উৎপাদিত ফুলকপি ও বাধাকপি
বিক্রি হবে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায়। এতে করে সব খরচ বাদ দিয়ে তাদের লাভ হবে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা।
ফুলকপি ও বাধাকপি কিনতে আসা পাইকরা আব্দুর রহিম জানান, বিরামপুর উপজেলার এঅঞ্চলে প্রচুর পরিমানে শীতকালীন আগাম জাতের ফুলকপি ও বাধাকপির আবাদ হয়ে থাকে। এসময় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের কপি বাজারে না আসার ফলে। আগাম জাতের একপিগুলোর দেশের বাজারে ভালো চাহীদাট রয়েছে। এর ফলে আমরা এখান থেকে এসব কপি কিনে তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে থাকি। আমরা এখান থেকে প্রকারভেদে প্রতি পিচ কপি ১২ টাকা থেকে ১৫ টাকা দরে কিনে থাকি। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মোকামে তা প্রকারভেদে ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি করে থাকি।
বিরামপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা নিকছন চন্দ্র পাল জানান, চলতি মৌসুমে বিরামপুর উপজেলায় শীতকালীন আগাম জাতের ফুলকপি ও বাধাকপির ব্যাপকভাবে চাষাবাদ শূরু হয়েছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং তাদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া সঠিক মানের বীজ সরবরাহ করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার ফুলকপি ও বাধাকপির ফলন যেমন ভালো হয়েছে। তেমনি বাজারে কৃষকরা দামও ভালো পাচ্ছে। যার ফলে কৃষকরা ফসল তুলে আবারও ওই জমিতে ফুলকপি ও বাধাকপি চাষাবাদ করছেন। এতে করে বিরামপুর উপজেলায় দিন দিন এ আগাম জাতের শীতকালীন ফুলকপি ও বাধাকপি চাষাবাদের পরিমান বাড়ছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ফুলকপি ও বাধাকপি মিলে ৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা শীতকালীন আগাম জাতের কপির চাষাবাদের দিকে ঝুঁকেছে