সিনিয়র শিক্ষক
২২ এপ্রিল, ২০২০ ০৪:৪০ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ কৃষি শিক্ষা
অধ্যায়ঃ চতুর্থ অধ্যায়
কৃষিক্ষেত্রের এই সাফল্যের পেছনে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে চাষাবাদ করাসহ বিভিন্ন পদ্ধতির যথাযথ ব্যবহার। কয়েক দশক আগেও আমাদের দেশে সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হতো। সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে গিয়ে কৃষকরা আশানুরূপ ফসল পেতেন না। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে ফসলের উত্পাদন কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
কৃষিপ্রধান বাংলাদেশ কৃষি ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে গেছে। কৃষিক্ষেত্রের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে চাষাবাদ করাসহ বিভিন্ন পদ্ধতির যথাযথ ব্যবহার। কয়েক দশক আগেও আমাদের দেশে সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হত। সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে গিয়ে কৃষকরা আশানুরূপ ফসল পেতেন না। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে ফসলের উত্পাদন কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অতীতে হালের বলদ দিয়ে চাষাবাদ করা হত। বর্তমানে সেখানে ট্রাক্টর দিয়ে চাষাবাদ, ধান রোপণ, ধান মাড়ানিসহ বিভিন্ন কাজ করা হচ্ছে। আগে জমিতে সেচের জন্য নদী, খাল অথবা পুকুরের পানির উপর নির্ভর করতে হত। বর্তমানে সেখানে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক ডিপটিউবয়েল দিয়ে সেচের কাজ চালানো হচ্ছে।
উচ্চফলনের জন্য বর্তমানে হাইব্রীড জাতীয় বীজ ব্যবহার করা হচ্ছে। ফসল উত্পাদন সঠিক হওয়ার জন্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে ফসলের উত্পাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে আমাদের দেশে শুধু ধানের উত্পাদন বৃদ্ধি পায়নি। সবজি উত্পাদনও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তেমনি বিভিন্ন মৌসুমী ফলের উত্পাদনও বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে আম, কাঁঠালের মৌসুমে প্রাকৃতিকভাবে আম, কাঁঠালের উত্পাদন হত। বর্তমানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের কারণে ফলন আগের তুলনায় অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয় ফলনের মানও উন্নত হচ্ছে। বর্তমানে ব্যাপকভিত্তিতে বাণিজ্যিকভাবে মত্স্য চাষ হচ্ছে। অতীতে আমাদের দেশে প্রাকৃতিকভাবে আহরিত মাছ দিয়ে চাহিদা মেটানো হত। মত্স্য চাষে অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগের কারণে মাছের উত্পাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। মাছের উত্পাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে সাধারণ মানুষের কাছে মাছের দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে।
মাছের উত্পাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে। মত্স্য খাতে অনেক লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং অনেকেই আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছেন। দেশে পোলট্রি শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটেছে। পোলট্রি শিল্পে উত্পাদিত মুরগি দেশের মানুষের চাহিদা মেটাচ্ছে। ফার্মের মুরগির দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে রয়েছে। দেশি মুরগি দিয়ে দেশের মানুষের প্রোটিনের প্রয়োজন মেটানো কখনো সম্ভব হবে না। পোলট্রি শিল্পের বিকাশের ব্যাপারে সরকার এবং উদ্যোক্তাদের অবদান সবচাইতে বেশি। সারা দেশে কয়েক লক্ষ পোলট্রি খামার রয়েছে। পোলট্রি খামারে উত্পাদিত মুরগি এখন দেশের বাইরে রপ্তানি হচ্ছে। পোলট্রি শিল্পে লক্ষ লক্ষ লোক কর্মরত আছে। মত্স্য এবং পোলট্রি খাতের মত দেশের ডেইরি শিল্প অনেক এগিয়ে গেছে। দেশে ডেইরি শিল্পে বিকাশ ঘটেছে বেশ কয়েক বছর আগে।