Loading..

উদ্ভাবনের গল্প

রিসেট

২৪ জুলাই, ২০২০ ০৩:১৪ অপরাহ্ণ

উদ্ভাবণী গল্পঃ বার্থডে কর্নার।, পরিচালনায়- মোছাঃ শামীম আরা, পরীক্ষণ বিদ্যালয়, পিটিআই পঞ্চগড়।

 

  আমি মোছাঃ শামীম আরা, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক (সংযুক্তি), পরীক্ষণ বিদ্যালয়, পিটিআই, পঞ্চগড়।

 * ডিজিটাল বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রভাব শিক্ষাখাতেও ব্যপকভাবে পড়েছেনিঃসন্দেহে শিক্ষায় উন্নত হচ্ছে দেশতবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে শিক্ষার গুণগত মান নিয়েযেহেতু প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে সকল শিক্ষার ভীততাই এই স্তরে মানসম্মত শিক্ষার গুরুত্ব সর্বাধিক

মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার পূর্বশর্ত হচ্ছে আনন্দের সাথে আনন্দমূখর পরিবেশে শিখবে শিশু। বিদ্যালয় বা শ্রেণিকক্ষকে আনন্দমূখর করতে আমি উদ্ভাবনী আইডিয়া হিসাবে প্রতিটি শ্রেণি কক্ষে বার্থডে কর্নার করি। যেখানে থাকবে একটি-    

                         বার্থডে চার্ট ও সেই শ্রেণির শিশুদের ছবিযুক্ত বৃক্ষ 

বার্থডে চার্টে থাকবে- চারকোনা একটা শক্ত কাগজের মাঝখানে বার্থডে চার্ট কথাটি লেখা থাকবে, তার নিচে বারোটি মাসের নাম লেখা থাকবে, আর মাসের নামের নিচে বারোটি ফিতা/সুতা ঝুলানো থাকবে, সেই ফিতাগুলোর উপড়ে তারিখ অনুযায়ী একটির নিচে আরেকটি শিশুর নাম ও জন্মতারিখ পিন বা আঠা দিয়ে লাগিয়ে ঝুলিয়ে দিই। মাসের নিচে নামসহ তারিখ দেখে খুব সহজে সকল শিশু, সবাই সবার জন্মদিন জানতে পারে।  

শিশুদের ছবিযুক্ত বৃক্ষ- কাগজ কেটে গাছ ও পাতা/ফুলের  আকৃতি বানিয়ে আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিয়ে সেই পাতা/ফুলের উপড়ে শিশুদের ছবি লাগিয়ে দেই। এই বৃক্ষের সাথে শিশুদের তুলনা করে বুঝাই যে, ছোট একটি চারাগাছ আস্তে আস্তে বড় হয়ে  ফুল,ফল, ছায়া, অক্সিজেন দেওয়াসহ পরিবেশ রক্ষা করে। এই বৃক্ষের মতো- তোমরা আজ যারা ছোট শিশু  আস্তে আস্তে লেখাপড়া শিখে বড় হয়ে  এই দেশ তথা পৃথিবীর উন্নয়নে নিয়োজিত থাকবে। বৃক্ষের ভালো ফসল যেমন সারা বিশ্বের চাহিদা পূরণ করে, ঠিক তেমনি তোমরাও যদি ভালোভাবে শিক্ষাগ্রহণ কর তা হলে বিশ্বের উন্নয়নে মানব সম্পদে পরিণত হবে।



বার্থডে কর্নার পরিচালনাঃ ১ম পিরিয়ডে শ্রেণি শিক্ষক ক্লাস শুরুর পূর্বে বার্থডে চার্ট দেখে যার/যাদের জন্মদিন তাদের বার্থডে কর্নারের/ক্লাসের সামনে এনে সবাই মিলে করতালির মাধ্যমে শুভজন্মদিন বলে শুভেচ্ছা জানাই সেই সাথে একটি প্রশ্ন করি, তুমি বড় হয়ে কি হতে চাও? শিশুটি যা হতে চায়-আমরা সবাই মিলে বলি তার মনের আশা যেন পূরহয় –আরও বলি আশা পুরনের জন্য ভালোভাবে লেখাপড়া করতে হবে (এই প্রশ্নটি শিশুদের মনে ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখায়)। 

বার্থডে কর্নারের সুফলঃ 

1)পাঠদানের শুরুটা আনন্দদায়ক হয় বলে শিশুরা পাঠে অধিক মনোযোগী হয়।
2)স্কুল ফাকি/অনুপস্থিতির প্রবণতা থাকেনা।
3)শিক্ষক-শিক্ষারথীর মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে ।
4)শিক্ষক-অভিভাবকের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে ।
5)শিশুরা তারিখ, বার, মাস সাল সম্পর্কে সহজেই জানতে পারে।
6)নিজের জন্ম তারিখ মনে রাখতে পারে।
7)সহপাঠীর জন্মদিন পালনের মাধ্যমে তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে ।
8)শিশুদের জন্মদিনে যে প্রশ্ন করা হয়, বড় হয়ে সে কি হতে চায়? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য তাদের মধ্যে বড়/ভালো কিছু বলার/হওয়ার স্বপ্ন তৈরি হয়। যা শিশুদের লেখাপড়ায় আগ্রহীসহ ভালো মানুষ হতে আগ্রহী করে তোলে।

  * * পরিশেষে বলতে চাই, এই আনন্দমুখর পরিবেশে নিজ আগ্রহে লেখাপড়ার মাধ্যমে অর্জিত হবে আমাদের মানসম্মত শিক্ষা। ধন্যবাদ সবাইকে।

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন