Loading..

উদ্ভাবনের গল্প

রিসেট

২৭ আগস্ট, ২০২০ ০১:৫৪ অপরাহ্ণ

স্কুল পালানো প্রতিরোধে আমার করনীয়

স্কুল পালানো প্রতিরোধে আমার করনীয়

আমি বিদ্যালয়ে যোগদান করার পর যে বিষয়টি আমার সবচেয়ে বেশি কষ্টদায়ক ছিল তা হলো শিক্ষার্থীরা প্রথম ঘন্টা করার পর থেকে স্কুল পালাতো। এমন অবস্থা যে বিরতির সময় দেখা যেত কোন ক্লাসে অর্ধেক শিক্ষার্থীও উপস্থিত নাই। আমি বিষয়টি প্রধান শিক্ষক মহোদয়ের সাথে আলাপ করলে স্যার বললেন “অনেক চেষ্ঠা করছি কিন্তু পালানো বন্ধ হয় না। তাই আমি নতুন একটি পদ্ধতি প্রয়োগ করার চেষ্ঠা করি। প্রথমত প্রতি শ্রেণি প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে তিনজন ছেলে এবং তিনজন মেয়ে মোট ০৬জন ক্লাস ক্যাপটেন নির্বাচন করি। প্রতিটি শ্রেণি হতে প্রতি মাসে একজন করে শেষ্ঠ শিক্ষার্থী নির্বাচন করার ব্যবস্থা করি। শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষার্থী নির্বাচিত হওয়ার জন্য ০৮টি ক্যাটাগরি নির্দিষ্ট করি। প্রতিটি ক্যাটাগরির জন্য প্রাপ্ত নম্বর ৫। ক্যাটাগরি গুলো হলো-

১। শতভাগ উপস্থিতি

২। প্রতিদিন স্কুল ড্রেস পরিধান করা

৩। শ্রেণি অভীক্ষায় ৮০% মার্কস পাওয়া

৪। ভালো আচার আচরণ (শিক্ষক কর্তৃক মূল্যায়িত)

৫। জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা।

৬। সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলীতে অংশগ্রহণ করে পুরস্কার পেলে।

৭। প্রতিদিন পিটিতে অংশ গ্রহন করলে।

৮। বিদ্যালয় আঙিনা ও শ্রেণিকক্ষ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা।

এগুলো ছাড়া আরো ৮টি ক্যাটগরি নির্দিষ্ট করি যার মাধ্যমে প্রাপ্ত নম্বর থেকে নম্বর কাটা যাবে। তা হলো-

১। প্রতিদিন অনুপস্থিতির জন্য ১ নম্বর কাটা।

২। স্কুল ড্রেস না পড়লে প্রতিদিনের জন্য ১ নম্বর কাটা।

৩। পিটিতে অংশ গ্রহন না করলে প্রতিদিনের জন্য ১ নম্বর কাটা।

৪। জাতীয় দিবসে অনুপস্থিত থাকলে ৫ নম্বর কাটা।

৫। শ্রেণি পাঠদান চলাকালীন সময়ে (১০টা থেকে ১টা এবং ২টা থেকে ৪টার) ক্লাসের বাইরে গেলে প্রতিবারের জন্য ১ নম্বর কাটা।

৬। কোন ধরনের অসৎ আচরন করলে (শিক্ষক কর্তৃক দোষী প্রমাণিত হলে) ৫ নম্বর কাটা।

৭। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য (সপ্তাহে একবার নখ, চুল বড় থাকলে) ১ নম্বর কাটা।

৮। শিক্ষকদের অনুমতি ছাড়া বিদ্যালয় থেকে পালিয়ে গেলে তার অর্জিত সকল নম্বর কাটা।

 প্রতি ক্লাসের দায়িত্ব পালন করতো ক্লাস ক্যাপটেন গন। তারা প্রতিদিনের রিপোর্ট তৈরী করে শ্রেণি শিক্ষকের কাছে জমা দিয়ে যেত। মাস শেষে সকলের প্রাপ্ত নম্বর ও কর্তনকৃত নম্বর যোগ-বিয়োগ করে সবোর্চ্চ নম্বর ধারী শিক্ষার্থীকে মাসের শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী ঘোষনা করা হতো। এবং আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রতি শ্রেণির প্রতি শাখা হতে ০১জন করে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ ক্লাস ক্যাপটেনকে পুরস্কৃত করা হতো।

সেই সাথে ক্লাসে যে সকল শিক্ষার্থীরা শতভাগ উপস্থিত থেকে প্রথম ঘন্টা থেকে শেষ ঘন্টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতো তাদের প্রত্যেককে পুরস্কার প্রদান করা হতো।

আমার এই উদ্যোগের ফলে দেখা গেলো আস্তে আস্তে প্রতি ক্লাসেই শিক্ষার্থীদের স্কুল পালানোর হার কমে যাচ্ছে। এবং তারা দ্বিগুন উৎসাহ নিয়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার প্রতিযোগীতা শুরু হয়ে গেছে।

এভাবেই আমি আমার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুল পালানো বন্ধে এগিয়ে আসি। আমার এ প্রক্রিয়া চলমান আছে।

মোঃ হাবিবুল্লাহ্

সহকারী শিক্ষক(আইসিটি)

কনেশ্বর এস.সি.এডওয়ার্ড ইনস্টিটিউশন

ডামুড্যা, শরীয়তপুর।

মোবাইলঃ ০১৮৩৬৬২৪১৪৮

ই-মেইলঃ [email protected]

মন্তব্য করুন