Loading..

উদ্ভাবনের গল্প

রিসেট

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৬:১২ অপরাহ্ণ

একজন শিক্ষার্থীর সংসয় দুর করার গল্প ।

.২০১৫ সালে জানুয়ারী মাসের মাঝামাঝি অন্য একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ভর্তি হল আমাদের প্রতিষ্ঠানে নাম মুনির ,  বেশ কয়েকদিন পর একদিন নবম-শ্রেনির শ্রেনিশিক্ষক  অসুস্থ হওয়ায় ছুটিতে আছেন। প্রথম ক্লাস গণিত তাই হেড স্যার নিজে গেলেন ঐ ক্লাসে , পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর স্যারকে  খুব রাগান্বিত লাগছে , আমাদের মধ্যো থেকে একজন সযার জিজ্ঞাসা করলেন কি হয়েছে স্যার কোন সমস্যা ,স্যার বললেন আরে বোবা -কালা ছাত্র একটা কোন কথাই বললোনা নামটা পর্যন্ত মুখে বলল না বুঝলাম না বোবা কিনা ,আপনাদেরতো ক্লাস আছে কই কেউ তো ব্যাপারে কিছু বলেন নাই আমাকে ,এই ধরনের সমস্যা থাকলে আমাকে অবগত করতে হবে ,  আমরা কেউ কিছু বুঝলাম না .৩য় পিরিয়ডে আমার ক্লাস - হেড স্যার বললেন ওর কই সমস্যা ম্যাডাম একটু খেয়াল করবেন । ক্লাসে গেলাম ঐ ছাত্র নেই সবাইকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলাম তাঁর নাম মুনির ,প্রথম ঘণ্টায় থাকে শুধু হাজিরা দেয়ার জন্য ২য় ঘণ্টায় গ্রুপিং ক্লাসের জন্য বের হয়ে পালিয়ে  এত দিনেও কারো সাথে কোন কথা বলেনি  এবং  রোল কলের সময় শুধু দাঁড়িয়ে থাকে স্যার অনেক কিছু জিজ্ঞসা করে কিন্তু সে কথা বলে না ।  এটা শুনে আমি একটু চিন্তিত হয়ে পড়ি এবং হেড স্যারকে রিপোর্ট করি । পরদিন  হেডস্যার বললেন ৩য় ঘণ্টার ক্লাসটা আপনি ১ম ঘণ্টায় নেন  আমি  ৩য় ঘণ্টায় গণিত ক্লাসটা নেবো  এখন আমি একটু ব্যাস্ত । সুযোগ পেলাম মুনিরে সাথে দেখা করার , গেলাম ক্লাসে রোল কল শুরু হল ৮৯ যখন বললাম মুনির যথারিতী ঊঠে দাঁড়ালো , জিজ্ঞেস করলাম তোমার নাম -উত্তর নেই ,তোমার বাড়ি কোন কথা নেই মহা বিপদ ,খাতাটা রেখে কাছে গিয়ে মাথায় হাত রেখে বললাম কই হয়েছে তুমি তো শুনতে পাও নইলে ৮৯ বলেছি দাঁড়ালে কিভাবে ?  তবু কোন কথা নেই । ঐ পিরিয়ড আর ক্লাস নিতে পারলাম না অনেক চেষ্টা করেও লাভ হলোনা , একটু আশা ছিল পরবর্তী ক্লাসে থাকার জন্য অনেক বুঝিয়ে এলেম । পরবর্তী ক্লাস ছিল গ্রুপিং তাই শিক্ষার্থী সংখ্যাও কম , অনেক কিছু বলার পরও মুনির কথা না বলায়  আমি সেন্টিমেন্টাল ভাবে আঘাত করলাম , বললাম তুমি তো হাজিরা দিয়ে চলে যাও এভাবে তো পড়াশোনা হবে না , তুমি কথাও বলো না , বড় হচ্ছো তোমাকে তো ঘর- জামাই হতে হবে শাশুড়ি যখন খেতে দিবে না তো বলতে পারোনা খেতেই থাকবে তখন তো ঐ ব্যাঙ্গ এর অবস্থা হবে (মাঝ খানে একটা গল্প বলি )। মুনিরের চোখ মুখ লাল হয়ে উঠে , "দাঁড়িয়ে বলে কে মেডাম আমার আব্বার কই কিছুই নাই আমি ঘর জামাই হইতাম কে " সকল শিক্ষার্থীসহ আমি অবাক নিজেকে মুহূর্তের মধ্যে সামলে নিয়ে বলি সবাই হাত তালি দাও মুনির কথা বলতে পারে ।" কথা না বলার কারণ তাঁর কণ্ঠস্বরে সমস্যা  আওয়াজ মেয়েদের মতো " কথা বললেই নাকি সবাই হাসে ,তাই কেঁদে দিয়ে বললো ম্যাডাম আমি পড়তে চাই ,স্কুলে থাকতেও চাই ঐ স্কুলেও আমাকে খালি হাস্তো তাই স্কুল পরিবর্তন করার সময় প্রতিংগা করেছিলাম আমি আর কথাই  বলবোনা ,চোখে পানি এসে গেলো তারপর সকল শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে বললাম ওর সাথে স্বাভাবিক আচরন করতে । সেই মুনির ২০২০ সালের মার্চ মাসে আমি বি টি টি ট্রেনিং এ থাকা কালিন হঠাৎ একদিন ফোন দিল বিদেশী নাম্বার আমি ফোন রিসিভ করে সালাম দেই জিজ্ঞেস করি কে বললো ম্যাডাম আমি মুনির সিংজ্ঞাপুর থেকে ,আমার চিনতে একসেকেন্ড সময় লাগলো না যে এটা সেই মুনির  ।


মন্তব্য করুন