Loading..

শিক্ষায় অগ্রযাত্রা

রিসেট

১৪ অক্টোবর, ২০২০ ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ

ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তা

তথ্য ও প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ডিজিটাল যুগে শিক্ষাকে অনেক বেশি আনন্দদায়ক, সহজবোধ্য, শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক করে তোলাই হচ্ছে যেকোনো সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ার অন্যতম পূর্বশর্ত। একুশশতকের শিক্ষার্থীদের জীবন এবং জীবিকা সম্পর্কে দক্ষতা, নতুন নতুন কৌশল উদ্ভাবনের দক্ষতা এবং তথ্য, মিডিয়া ও প্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষতাসহ নানাবিধ পারস্পরিক যোগাযোগের দক্ষতা অর্জন করতে হচ্ছে। আর শিক্ষার্থীদের এই দক্ষতাগুলো অর্জন ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে, শিক্ষাক্রমে, পেশাগত উন্নয়নেও শিখন পরিবেশে শিক্ষকদেরও প্রয়োগ করতে হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের শিখন-শেখানো কৌশল। তাই গত দুই দশকে সকল উন্নতও উন্নয়নশীল দেশে শিক্ষা অবকাঠামোকে আধুনিক চাহিদা অনুযায়ী ঢেলে সাজানোর প্রয়াস চলছে। সেদিক থেকে আমাদের বাংলাদেশও তার ব্যাতিক্রম নয়। শিক্ষার আধুনিকায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (A2I) প্রকল্পকতৃক উদ্ভাবিত “মাল্টিমিডিয়াক্লাসরুম” এবং “শিক্ষকদের দ্বারা ডিজিটাল কনটেন্টতৈরি” কর্মসূচি দুইটি হাতে নেয়া হয়েছে। আর একর্মসূচী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই আমাদের দেশের প্রায় ২০,৫০০ মাধ্যমিক এবং প্রায় ২,০০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রায় ৩০,০০০ শিক্ষক মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট তৈরির প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। “তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষানয়, বরং শিক্ষায় তথ্য প্রযুক্তি” এই মূলমন্ত্র ধারন করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য “মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম”। শিক্ষাক্ষেত্রে নবউদ্ভাবিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষকগণ পাঠ সংশ্লিষ্ট তথ্য বহুল, সহজে বোঝা যায় এবং আকর্ষনীয় ছবি, ভিডিও, বিভিন্ন এনিমেশন প্রভৃতি ব্যবহার করে ডিজিটাল কনটেন্ট প্রস্তুত করে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুমে তা ব্যবহার করে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। যার ফলে শিক্ষার্থীরা কঠিন ও বিমূর্ত অথচ জীবনের জন্য অপরিহার্য বিষয়গুলো মুখস্থ না করে সহজে শিখতে পারবে। একসময় শিক্ষার্থীরা কঠিন ও বিমূর্ত বিষয়গুলো না বুঝে শুধু মুখস্থ করতো এবং পরীক্ষার খাতায় তা অনুরুপ ভাবেলি খতো। এতে তাদের মনে কখনই ঐ বিষয়বস্তু সম্পর্কে তেমন আগ্রহ বা মনোযোগ কোনটাই থাকতোনা। বর্তমানে শিক্ষায় বিমূর্ত বলতে কিছু থাকবে না। শিক্ষার সব কিছুই শিক্ষার্থীর কাছে মূর্ত হবে। শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে শেখন-শিখানো কার্যক্রম পরিচাল না করতে হয় বিধায় লেখা-পড়ার প্রতিতাদের আগ্রহ সৃষ্টি হয়, মনোযোগ বৃদ্ধি পায় এবং শিখন দীর্ঘস্থায়ী হয়। শ্রেণিকক্ষে বসেই বিভিন্নস মস্যাস মাধানের ব্যবস্থা থাকায় শিক্ষার্থীদের লুকিয়ে থাকা প্রতিভাও বিশেষ দক্ষতা প্রকাশ পাবে। এভাবে শিক্ষার্থীরা শিখনের ক্ষেত্রে সংশ্লেষণ, বিশ্লেষণ, মূল্যায়নের দক্ষতা অর্জনে নিজেরাই মূক্ত চিন্তা করতে সক্ষম হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং শিখন-শেখানো পদ্ধতি এই দুইয়ের সমন্বয়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের নিজস্ব চিন্তাশক্তি আরজ্ঞানের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ায় নিত্য নতুন জ্ঞানের উম্মেষ ঘটবে। শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহারিক দিকের যতই উন্নতি হবে আমাদের জ্ঞানের পরিমাণ খুব দ্রুত বেড়ে যাবে।অর্থাৎ শিখন-শেখানো কার্যক্রমে পরিপূর্ণতা আনতে শ্রেণীকক্ষে ব্যবহার করতে হবে তথ্য-প্রযুক্তির বিভিন্ন উপকরণ। এখানে উল্লেখ্য যে শিক্ষকগণ নিজেদের মধ্যে শিখন-শেখানো তথ্যসমূহ আদান-প্রদান করার কাজটি খুব সহজে করার জন্য ইতোমধ্যে একসেস টু ইনফরমেশন শিক্ষকদের জন্য তৈরি করেছে “শিক্ষকবাতায়ন” নামেএ ক Web portal (www.teachers.gov.bd)।এই Web portal-এ শিক্ষকদের তৈরি বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল কনটেন্ট নিজেরাই আপলোড করে রাখেন যা ইচ্ছে করলে অন্যপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ নিজে কনটেন্ট তৈরি না করেও তা শ্রেণিকক্ষে ব্যবহার করতে পারছেন। ফলে দেশের সকল শিক্ষার্থী শিক্ষার সমান সুযোগ পাবে।

এভাবে অব্যাহত প্রচেষ্টায় আমাদের শিক্ষক সমাজ গুনগত মানসম্পন্ন শিক্ষা দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে- তা আর বেশি দূর নয়।

মন্তব্য করুন