সহকারী শিক্ষক
১৪ নভেম্বর, ২০২০ ০৭:২০ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
আসসালামু আলাইকুম,
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের সংজ্ঞা (Definition of Values Education and Good Governance);
মূল্যবোধ হল মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড। অন্যভাবে বলা যায়,মূল্যবোধ হল কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিস্বাস। আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি , প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হল মুল্যবোধ শিক্ষা। মূল্যবোধ হল সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি। এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি। একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।
ফ্রাঙ্কেল এর মতে,”মূল্যবোধ হল আবেগি ও আদর্শগত ঐক্যের ধারনা”।
শিক্ষা(Education) একটি জীবনব্যপী প্রক্রিয়া যা মানুষের পরিপূর্ণ জীবন বিকাশে ভূমিকা রাখে। বাংলায় ‘শিক্ষা’ শব্দটি ‘শাস’ ধাতু থেকে আগত,যার অর্থ শাসন করা,নিয়ন্ত্রণ করা।’Education’ শব্দটির উপত্তি হয়েছে ‘Educare’ (যত্ন করা) বা ‘Educatium'(শিক্ষা দান করা) বা ‘Educere’ (নিষ্কাশন করা) থেকে।
রবীন্দ্রনাথের মতে,”শিক্ষা তাই যা আমাদের কেবল তথ্য পরিবেশনই করে না বিশ্বসত্তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের জীবনকে গড়ে তোলে।”
হার্বার্ট স্পেন্সার এর মতে,’পরিপূর্ণ জীবন বিকাশই শিক্ষা’।
সক্রেটিস এর মতে,’শিক্ষা হল মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের বিকাশ’।
উপনিষদ অনুসারে,”শিক্ষা হল সে প্রক্রিয়া যার শেষ কথা হল মানুষের মুক্তি ”।
দার্শনিক রুশো এর মতে,’সু-অভ্যাস গঠনের নামই শিক্ষা।’।
শিক্ষাকে সাধারণত তিনভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হল-
১.আনুষ্ঠানিকঃ স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যে শিক্ষা লাভ করা হয় তাই।
২.উপ-আনুষ্ঠানিকঃ কর্মজীবনে বা বিশেষ দক্ষতা অর্জনের জন্য যে শিক্ষা লাভ করা হয় তাই উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা।
৩.অনানুষ্ঠানিকঃ মানুষ বাস্তব জীবনে অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে যে শিক্ষা লাভ করে তাই অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা।
ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়। এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
গুড গভর্ন্যান্স (Good Governance ) বা সুশাসনের জন্য দরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা। ডিজিটাল ব্যবস্থা প্রচলনের ফলে সরকারি ব্যবস্থাসমূহকে আধুনিক ও যুগােপযোগী করার পাশাপাশি সরকারি ব্যবস্থাসমূহের সবচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব। এর ফলে নাগরিকের হয়রানি ও বিড়ম্বনার অবসান ঘটে এবং দেশে সুশাসনের পথ নিষ্কণ্টক হয়। শাসন ব্যবস্থায় ও প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল পদ্ধতির প্রয়োগই হচ্ছে ই-গভর্ন্যান্স।
‘সুশাসন’ একটি অংশগ্রহণমূলক শাসন ব্যবস্থা। তাই আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ‘সুশাসন’ শব্দটি ব্যাপকভাবে আলচিত হয়। আধুনিক বিশ্বে এর গুরুত্ব উপলব্ধি করে ১৯৯৫ সালে ADB এবং ১৯৯৮ সালে IDA সুশাসনের উপর প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সকল জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতাকে কাটিয়ে সর্বাধিক জনকল্যাণ সাধনই এর প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
ধন্যবাদ.....