সহকারী শিক্ষক
১৮ নভেম্বর, ২০২০ ১১:৫৬ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
আসসালামু আলাইকুম,
শিক্ষা মনুষ্যত্ব বিকাশের মাধ্যম, আত্মোপলব্ধির চাবিকাঠি, আত্মবিশ্বাস ও সুকুমারবৃত্তির পরিস্ফুটন এবং জীবন সমস্যা সমাধানের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা। শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের মননশীলতার উন্মেষ ঘটে এবং অজানাকে জানতে পারে। শিক্ষাকে বলা হয় সমগ্র জীবনব্যাপী এক কল্যাণকর প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় একজন শিক্ষার্থী জ্ঞানের জগতে প্রবেশ করে ধীরে ধীরে; ধাপে ধাপে।
মূলত শিক্ষক-শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শিক্ষা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশে পরিচালিত হয়ে থাকে। আধুনিককালে শিখন-শেখানো কার্যক্রমে শুধু বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করলে হয় না। মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় কতগুলো বিষয়ে দক্ষতা ও কৌশল অবলম্বন করতে হয়, যা সামগ্রিকভাবে শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। মানুষের জীবন যেমন ডায়নামিক বা চলমান, তেমনি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। বর্তমান সময়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে এরকম একটি সংশ্লিষ্ট ও প্রাসঙ্গিক বিষয় হল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি।
আজ পৃথিবী গ্লোবাল ভিলেজ বলে গণ্য। বিকাশের অগ্রগতির এ সময়টাকে বিশ্বজুড়ে চিহ্নিত করা হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তির যুগ হিসেবে। বিজ্ঞানের যুগ পেরিয়ে আমরা এখন প্রযুক্তির যুগে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা দ্বারাই নির্ধারিত হচ্ছে দেশ বা রাষ্ট্রের ক্ষমতা। প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার আমাদের পৃথিবীকে গ্লোবাল ফ্যামিলিতে পরিণত করেছে। মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ইন্টারনেট উদ্ভাবন মানবসভ্যতাকে পৌঁছে দিয়েছে ভিন্ন এক উচ্চতায়।
এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশও এগিয়ে যাচ্ছে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে। শিক্ষা ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ডিজিটাল বাংলাদেশ আন্দোলনের এক অন্যতম ক্ষেত্র বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির গুরুত্ব উপলব্ধি করে প্রাথমিক শিক্ষায় এর সফল সংযোজন ঘটানো হয়েছে। আমাদের শিক্ষার নানা ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের শিক্ষাকে টেকসই ও মানসম্মত পর্যায়ে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
ই-বুক প্রণয়ন, শ্রেণিকক্ষে মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে পাঠ উপস্থাপন আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় যুগোপযোগী ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করছে। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণে বিশ্বায়নের যুগে উন্নত দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার শিখন-শেখানো পদ্ধতিতে তথ্যপ্রযুক্তির সংযোগ ঘটানো হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তিকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে কাজে লাগানোর মাধ্যমে কঠিন শ্রেণি কার্যক্রমকে আনন্দময় করে তোলা হচ্ছে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, পঠন দক্ষতা উন্নয়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে প্রমিত উচ্চারণ শেখা ছাড়াও পড়ার আগ্রহ তৈরিতে আইসিটি কার্যক্রম ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে শিশুরা খুশিমনে শেখে। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ব্যবহারের মাধ্যমে গতানুগতিক শিক্ষককেন্দ্রিক শিক্ষাকার্যক্রমকে শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক আনন্দময় শিক্ষায় রূপান্তর করা হয়েছে।
বর্তমান যুগ ডিজিটাল যুগ। ডিজিটালাইজেশনের এ যুগে শুধু বক্তৃতা পদ্ধতি অনুসরণ না করে অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতি, পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি, আলোচনা পদ্ধতিসহ বিভিন্ন পাঠ উপযোগী পদ্ধতি ও সঠিক উপকরণ ব্যবহার করে এবং ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে মাল্টিমিডিয়া দ্বারা পাঠদান করা হলে পাঠের শিখন ফল অর্জন সহজ ও অধিকতর স্থায়ী হয়। বিভিন্ন শিখন-শেখানো পদ্ধতির মধ্যে প্রদর্শন পদ্ধতি একটি অত্যন্ত যুগোপযোগী ও কার্যকর শিক্ষণ পদ্ধতি।
তথ্যপ্রযুক্তিগত শিক্ষা নয়; বরং শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করা সম্ভব। ডিজিটাল কনটেন্ট হচ্ছে পাঠ্যপুস্তকে বর্ণিত বিষয়ের শব্দ ও ছবিতে তৈরি অডিও ভিজুয়াল উপকরণ। একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের সহায়তায় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২০১০ সাল থেকে শিক্ষকদের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট ব্যবহার করে ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে।
প্রতিটি বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) ২০১৮ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল ক্লাসরুম তৈরিতে সরকার ইতিমধ্যে দেশের প্রায় ৬৫ হাজার বিদ্যালয়ের ৫৩ হাজার ৬৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১টি করে ল্যাপটপ এবং ২২ হাজারের বেশি মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর বিতরণ করেছে। এর পাশাপাশি নতুন করে ৩৬ হাজার ৭৪৬টি মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর এবং ৫১ হাজার সাউন্ড সিস্টেম কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের একবিংশ শতকের দক্ষ জনগোষ্ঠী হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষা ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানোর কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক শিক্ষা বিজ্ঞানের এ প্রত্যাশা পূরণের ক্ষেত্রে আমাদের দেশে সত্যিকার অর্থে শিক্ষার প্রধান শক্তিশালী হাতিয়ার হল আইসিটি। এমডিজি অর্জনে প্রাথমিক শিক্ষায় আইসিটির ব্যবহার বাংলাদেশের ব্যাপক সাফল্য নিশ্চিত করেছে। এসডিজিতেও সরকার মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি অপরিসীম গুরুত্ব দিয়েছে এবং ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
ধন্যবাদ.....