সহকারি সুপার
০৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ১০:১৭ অপরাহ্ণ
সহকারি সুপার
ধরনঃ মাদ্রাসা শিক্ষা
শ্রেণিঃ তৃতীয়
বিষয়ঃ কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ
১- নুন সাকিন এর বিধানঃ
( ইজ হার, ইদগম, ইখফা ও ইকলাব)
নুন সাকিন বা তানবীন এর ৪টি বিধান।
১. ইযহারঃ ইযহার অর্থ স্পষ্ট করে পড়া। ইযহারের অক্ষর ৬টি ء,ه,ع,ح,غ,خ
নুন সাকিন ও তানভীন এর পর এই অক্ষরগুলির যেকোনো একটি আসলে নুন সাকিন ও নুন তানভীন স্পষ্ট করে দ্রুত পড়তে হয়। কোন টান হবে না।
২. ইদগমঃ ইদগম অর্থ মিলিয়ে পড়া। ইদগম এর অক্ষর ৬টি ي,و,ل,م,ن,ر
ইদগম ২প্রকার
★ইদগমে মাল গুন্নাহঃ
এর অক্ষর ৪টি ى,و,م,ن। নুন সাকিন ও তানভীন এর পর এই অক্ষর গুলি আসলে তাশদিদ দিয়ে বা তাশদীদ হবে। ১আলিফ গুন্নাহ করে টেনে পড়তে হয়।
★ইদগমে বিগইরি গুন্নাহঃ
ইদগমে বিগইরি গুন্নাহর অক্ষর ২টি ل,ر । নুন সাকিন ও তানভীন এর পর এই অক্ষর দুইটি আসলে গুন্নাহ ছাড়া মিলিয়ে পড়তে হয়।
৩. ইকলাবঃ ইকলাব অর্থ পরিবর্তন করে পড়া। ইকলাব এর অক্ষর ১টি ب । নুন সাকিন ও তানভিন এর পর ইকলাব এর অক্ষর আসলে নুন সাকিন বা তানভিনকে মিম দ্বারা পরিবর্তন করে মিমকে ১আলিফ গুন্নাহ করে টেনে পড়তে হয় ।
৪. ইখফাঃ ইখফা অর্থ অস্পষ্ট করে পরা। এর অক্ষর ১৫টি ت,ث,ج,د,ذ,ز,س,ش,ص,ض,ط,ظ,ف,ق,ك, । নুন সাকিন বা তানভিন এর পর ইখফার যেকোনো অক্ষর আসলে নুন সাকিন নুন তানভিনকে ১আলিফ গুন্নাহ করে অস্পষ্ট করে টেনে পড়তে হয়।
২- মিম সাকিনের বিধানঃ
মীম সাকিন পড়ার নিয়ম ৩টি।
★ইদগমঃ মীম সাকিনের পর মীম ( م) অক্ষর আসলে গুন্নাহর সাথে ইদগম করতে হয়।
যেমনঃ عَلَيْهِم مُّؤْصَدَةٌ
★ইখফাঃ মীম সাকিনের পর বা ( ب) অক্ষর আসলে ইখফা করতে হয়। যেমনঃ
فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ , كُنْتُمْ بِهِ تُكَذِّبُونَ
★ইযহারঃ মীম সাকিনের পর বা ( ب) ও মীম( م)
ছাড়া অন্য কোন অক্ষর আসলে ইযহার করতে হয়। যেমনঃ الْحَمْدُ, أَمْ حَسِبْتُمْ
৩- *আল্লাহ* اللهُ শব্দ মোটা বা পাতলা পড়ার নিয়ম
আল্লাহ اللهُ শব্দ পড়ার নিয়মঃ
আল্লাহ اللهُ শব্দের পূর্বে যবর ( ـَ ) বা পেশ ( ُ- )
হলে اللهُ শব্দকে মোটা বা ভরাট আওয়াজে পড়তে হয়। যেমনঃ مِنَ اللهِ , نَصْرُ اللهِ
৪- *গোল তা(ة)* পড়ার নিয়ম
গোল তা(ة) পড়ার নিয়মঃ
গোল তা (ة) যদি কোন আয়াতে শব্দের মাঝখানে আসে এবং মিলিয়ে পড়া হয় তাহলে (ة) 'তা' ই পড়তে হবে।
আর যদি কোন আয়াতের শেষে অথবা কোন আয়াতের মাঝখানে (ة) আসে এবং যদি (ة) এ থেমে যায় তাহলে (ة) ছোট 'হা'( ه ) হয়ে যাবে।
আর ت থামলে কখনো ( ه ) হয়না সবসময় 'তা' (ت) ই পড়তে হয়। যেমনঃ
১. مَا الْحُطَمَةُ, لُمَزَةٍ, مُؤْصَدَةٌ, مُمَدَّدَةٍ
২. فِي عَمَدٍ مُمَدَّدَةٍ, نَارٌ حَامِيَةٌ, رَاضِيَةٍ
৩. نَارُ اللَّهِ الْمُوقَدَةُ, الْقَارِعَةُ, مَا الْقَارِعَةُ
৪. وَمَاۤ أَدْرٰاكَ مَا الْقَارِعَةُ, فَأُمُّهُ هَاوِيَةٌ
৫- *র(ر)* মোটা নাকি পাতলা পড়ার নিয়ম
'র' (ر) পড়ার নিয়মঃ
র'( ر) অক্ষরে যবর কিংবা পেশ হলে,
যেমনঃ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ
র( ر) সাকিন তার পূর্বে যবর বা পেশ হলে,
যেমনঃ زُرْتُمُ الْمَقَابِرَ , وَأَرْسَلَ عَلَيْهِمْ
র( ر) অক্ষরে ওয়াক্বফের সাকিন এবং তার পূর্বে যবর বা পেশ হলে, যেমনঃ وَالْعَصْرِ
'র'( ر) অক্ষরকে মোটা করে পড়তে হয়।
তবে উক্ত দুই ক্ষেত্রে যের হলে ر অক্ষরকে পাতলা করে পড়তে হবে;
যেমনঃ الْفِرْدَوْسِ , رِحْلَةَ الشِّتَاءِ
অনুরূপ, ر সাকিন এবং তার পূর্বে ي সাকিন হলে ر কে পাতলা করে পড়তে হবে;
যেমনঃ خَبِيْرٌ , بَصِيْرٌ
৬- *নুনে কুত্নি*পড়ার নিয়মঃ
যদি তানভীনের পরে হামজা ওয়াসলী আসে এবং তার পরের অক্ষর সাকিন (সুকুনযুক্ত) হয় তাহলে তানভীনের নুন সাকিনকে কাসরা (যের) দ্বারা পড়তে হবে, কারন হামজা ওয়াসলী মাঝখানে পড়তে আসে না, যার ফলে দুটি সাকিন এবং তার মাঝে হামজা ওয়াসলী একত্রে আসে যা পড়া অসম্ভব। যেমনঃ( نُوحٌ ابْنَهُ) এখানে (نُوحٌ) শব্দটি আসলে দ্বম্মা তানভীন তথা নুন সাকিন সহ ( نُوحٌنْ) ছিল। এখানে ( نْ) নুন সাকিন এবং তার পরের অক্ষর (بْ) 'বা' ও সাকিন মাঝে হামজা ওয়াসলী যা পড়া অসম্ভব। তাই তানভীনের নুন সাকিনকে সর্বাবস্থায় একটি কাসরা (যের) দ্বারা মিলিয়ে পড়তে হবে। আমাদের দেশীয় ছাপা কুরআনে একটি ছোট্ট করে ( نِ) কাসরা যুক্ত নুন লিখা থাকে। আরবি কুরআনে এটা দেওয়া থাকে না।
৭- *হামযা ওয়াস্লী* পড়ার নিয়মঃ
যে হামজা শব্দের শুরুতে হয় এবং শুধুমাত্র বাক্যের প্রথমে হলে পড়তে আসে। আর শব্দের মাঝখানে হলে মিলিয়ে পড়লে পড়তে আসে না।
হামজা(ء) ছাড়াই আলিফ লিখা হবে এবং তার উপর ( وَصْلٌ) 'ওয়াসল' শব্দের মধ্যের অক্ষর ( صـ) এর মাথাটুকু যোগ করা হবে যাতে বুঝা জায় যে এটা হামজা ওয়াসলী। আমাদের দেশীয় ছাপা কুরআনে এটা দেওয়া থাকে না। যেমনঃ ٱ
হামযা ওয়াস্লী ৩ ভাবে পড়তে আসে।
১. হামযা ওয়াস্লী এর উপর যবর আসবে
২. হামযা ওয়াস্লী এর নিচে যের আসবে
৩. হামযা ওয়াস্লী এর উপর পেশ আসবে
৮- *মাদ* পড়ার নিয়ম(১১টি)