কুরআন শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য- মানুষের মধ্যে ক্বুরআনী চরিত্র তৈরি করা । কেননা কুরআন ব্যতীত বেহেশতী মানুষ তৈরি করার অর্থাৎ উত্তম মানুষ তৈরি করার আর কোনো যন্ত্র নাই। কুরআন শিক্ষা করে যদি কারো মধ্যে কুরআনী চরিত্র তৈরি না হয়, তাহলে তার মধ্যে নামাজ কাযা করা, মিথ্যা কথা বলা, হারাম খাওয়া ইত্যাদি কুরআন বিরোধী চরিত্র থাকবেই । দিনে দিনে যে স্বভাব তৈরি হয়,ভাল হোক আর মন্দ হোক তা ঐ ব্যক্তির কাছে জীবনের সবচেয়ে প্রিয় হয়ে যায় । যার ফলে ঐ চরিত্র আর সাধারণত বদলানো সম্ভব হয় না। কারন-
দিনে দিনে যে অভ্যাস হয়, চরিত্র তাকেই বলা হয়।
চরিত্রের বিরুদ্ধে কেউ কিছু কইলে, মইরা যাইতে ইচ্ছে হয় ।
হ্যা, সত্যি তাই, চরিত্র এমনই জিনিস।এ কারণেই হিরোইনখোর বাবা-মা ত্যাগ করতে পারে, কিন্তু হিরোইন খাওয়া ত্যাগ করতে পারে না। এমনকি কোন আলিম অথবা পীর সাহেবও যদি মিথ্যা কথা বলায় অভ্যস্ত হন, তিনিও আর মিথ্যা ত্যাগ করতে পারেন না। কঠোর সাধনা ব্যতীত এসব চরিত্র ভাল করা সম্ভব নয়। তাই তাবলীগ জামায়াত চরিত্র সংশোধনের জন্য চল্লিশ দিনের চিল্লার ব্যবস্থা করেছে।
চরিত্রহীন কখনো হয় না ভালো, যদিও হাজার কসম খায়, ভালো চরিত্র তৈরির জন্য, কঠোর সাধনার প্রয়োজন হয়।
তাই কুরআন শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে পাঁচটি কুরআনী চরিত্র তৈরি করা আবশ্যক-
১. নামাজ কাযা করব না
২.মিথ্যা কথা বলব না
৩.কারও ক্ষতি করব না
৪.কারও সাথে বেয়াদবি করব না
৫. বেপর্দায় চলব না
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন
" নিশ্চয় মিথ্যা হচ্ছে সমস্ত পাপের মূল"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন
"হারামের তৈরি শরীর কখনোই বেহেশতে প্রবেশ করবে না। যারা বেয়াদব,অন্যের ক্ষতি করে বা হারাম খায় এবং মিথ্যা কথা বলে-এমন কোন পাপ নেই তা সে করতে পারে না। তাই আমার মতে বেয়াদব,হারামখোর ও মিথ্যাবাদী দুনিয়ার সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি "
আলি- আউলিয়ার বাংলাদেশে সত্য যেন এক সোনার হরিণ। যা শুধু কল্পনাই করা যায় বাস্তবে তা সম্ভব হয় নয়।
যেমন- কোন কৃষক যদি তার গাভীর দুধে কোন পানি নেই তা প্রমাণ করতে চায়, তাহলে তাকে গাভী বাজারে নিয়ে লোকজন ডেকে জড়ো করে বলতে হবে- "ভাইসব আমার গাভীর দুধে এক ফোঁটাও পানি মেশানো হয়না,তা প্রমাণ করার জন্য এই দেখুন আপনাদের সবার সামনে আমি গাভী নিয়ে এসেছি। আমি সবার সামনে বালতি উপুড় করে দেখিয়ে দিচ্ছি যে, বালতিতেও কোন পানি নেই। এবার সবার সামনে আমি গাভী দোহন করে দিচ্ছি। এবার আপনাদের বিশ্বাস হবে তো যে, আমার গাভীর দুধে এক ফোঁটাও পানি মেশানো হয় না?
হায়রে মিথ্যার ছড়াছড়ি ! দুধ খাঁটি কিনা তা বিশ্বাস করাতে হলে গাভী বাজারে নিয়ে মানুষের সামনে বালতি উপুড় করে দেখিয়ে দুধ দোহন করার প্রয়োজন হয়ে পড়ছে।
কেন এই মিথ্যার ছড়াছড়ি? কেন এই পাপের মূল মিথ্যার জাতীয়করণ? কেন পবিত্র কোরআন শিক্ষা করেও কুরআনী চরিত্র তৈরি করতে পারছি না? এ সমস্যা সমাধানের জন্য সর্বপ্রথম আমাদেরকে কুরআনের শিক্ষার প্রতি নজর দিতে হবে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সমস্ত উম্মতের মাধ্য হতে যারা কুরআন শেখেন এবং যারা অপরকে শিক্ষা দেন, তাদেরকে সর্বশ্রেষ্ঠ বলে উল্লেখ করেছেন।
অতএব যিনি কুরআনের শিক্ষক হবেন অর্থাৎ যাকে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে আমার নবী (সঃ) ঘোষণা করেছেন, তার চরিত্র হবে সকল মানুষের চেয়ে উত্তম। তিনি নামাজ কাযা করতে পারেন না, মিথ্যা কথা বলতে পারেন না, হারামখোর হতে পারেন না,কারও ক্ষতি করতে পারেন না, তিনি বেয়াদব হতে পারেন না।এসব গুনাবলীসম্পন্ন শিক্ষক দিয়ে পবিত্র শিক্ষার ব্যবস্থা না করতে পারলে এ সমাজকে সত্যের সমাজে পরিণত করা যাবে না ।