সহকারী শিক্ষক
৩০ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৬:৪২ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্য। শিশুর দৈহিক, মানসিক সামাজিক আধ্যাত্মিক নান্দনিক বিকাশ সাধন করা, এবং বিজ্ঞানমনস্কতা উন্নত জীবনের স্বপ্ন দর্শনে উদ্বুদ্ধ করা, শিক্ষকের দায়িত্ব । আমরা আজকে আধুনিক যুগ ছাড়িয়ে বিজ্ঞানের যুগে প্রবেশ করেছি যা ডিজিটাল যুগ হিসেবে পরিচিত। বর্তমান যুগে পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই। শিক্ষা হতে হবে প্রযুক্তিনির্ভর ও বিজ্ঞান নির্ভর। বর্তমান বিশ্ব একটি গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হয়েছ। বিজ্ঞানের এক চরম উন্নতির যুগে বাস করছি আমরা। এটি বিশ্বায়নের যুগ। বিজ্ঞান, বিশ্বায়ন ও ডিজিটালের এই যুগে একটি সংবাদ দেখে অবাক হলাম। আমাদের দেশে মাধ্যমিক পর্যায়ে এমন অনেক বিদ্যালয় রয়েছে যেখানে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়গুলোতে পাঠদান করা হলেও সেখানে বিজ্ঞানাগার নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে বিজ্ঞান শিখতে পারছে না।
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য থেকে জানা যায় যে, দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর ২৯ শতাংশে বিজ্ঞানাগার স্থাপন করা হয়নি। অর্থাৎ প্রায় এক তৃতীয়াংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিজ্ঞানাগার নেই। অাঁতকে ওঠার মতো সংবাদ! আমরা জানি, বিজ্ঞান শিক্ষার ক্ষেত্রে তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক জ্ঞান দুটোই সমান অপরিহার্য। শ্রেণিকক্ষে তত্ত্বীয় বিষয়ে পাঠদান করা গেলেও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের জন্যে বিজ্ঞানাগার থাকা আবশ্যক। সে হিসেবে বলা যায়, শুধু বিজ্ঞানাগারের অভাবে বিজ্ঞান শিক্ষায় ব্যবহারিক জ্ঞানের অভাব থেকে যাচ্ছে দেশের ২৯ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। শুধু কি তাই? যেসব বিদ্যালয়ে বিজ্ঞানাগার আছে সেগুলোতে কি ধরনের যন্ত্রপাতি আছে, থাকলেও কতটা ব্যবহার করা হয় তার কোন সঠিক পরিসংখ্যান নেই।
আমাদের দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানাগার আছে, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতিও আছে কিন্তু কেউ ব্যবহার করছে না। অনেক প্রতিষ্ঠানের বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করতে করতে একেবারে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। আবার এমনও অনেক বিদ্যালয় আছে যেগুলোতে যন্ত্রপাতি আছে কিন্তু অনেক শিক্ষক, শিক্ষার্থী দূরের কথা ওইসব যন্ত্রপাতির নামও জানে না। বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতিগুলোর সাথে শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের নতুন করে পরিচয় ঘটানো, অব্যবহৃত যন্ত্রগুলোকে কীভাবে কখন ব্যবহার করতে হয়, তার সাথে পরিচিত হওয়া। এবং মরিচা ধরা বা অন্যভাবে অকেজো হয়ে যাওয়া য। বিভিন্ন এলাকার অনেক নামকরা বিদ্যালয়ে গিয়েও হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। অনেক বিদ্যালয়ে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি বছরের পর বছর ব্যবহার না করার ফলে প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে। অথচ আমাদের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এখন মাধ্যমিক পর্যায়েও শিক্ষা কর্মকর্তা রয়েছেন। জানি না বিষয়গুলো তাদের কতটা নজরে আছে।
অবকাঠামো দুর্বলতার কারণে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহী হচ্ছে না। প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান বিষয়ে অতি সামান্য ধারণা লাভ করে। তাদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা তৈরি হয় মূলত মাধ্যমিক স্তরে গিয়ে। কিন্তু এ স্তরে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানের প্রতি অনাগ্রহ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এর অনেকগুলো কারণের মধ্যে বিজ্ঞান শিক্ষায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাব ও পর্যাপ্ত ভৌতকাঠামো না থাকা একটি বড় কারণ। এবারে জানা গেল আরও একটি কারণ, আর সেটি হচ্ছে বিদ্যালয়ে বিজ্ঞানাগার না থাকা। বিজ্ঞানাগার না থাকা মানে শিক্ষার্থীরা আনন্দের সাথে এবং বাস্তবজ্ঞান অর্জন ও ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে বিজ্ঞান শিক্ষায় তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। বিজ্ঞানের বিষয়গুলো এমনিতেই অন্যান্য ডিসিপ্লিনের চেয়ে অধিকতর কঠিন ও সিলেবাসও দীর্ঘতর। এই বিভাগে পড়াশোনা করলে অভিভাবকদেরও অতিরিক্ত অর্থ খরচ হয়। এসব কারণে বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষার্থীরা দিন দিন আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। বর্তমান যুগের বিশ্বায়ন প্রক্রিযার মূলে রয়েছে বিজ্ঞান ও বাণিজ্য। এশিয়া মহাদেশে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশ জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও চীনে বিজ্ঞানকে গুরুত্বসহকারে শেখানো হয়। প্রতিযোগিতায় তাদের সাথে টিকে থাকতে হলে বিজ্ঞান শিক্ষাকে আমরা কোনভাবে অবহেলা করতে পারি না।আমি চাই প্রতিটি শিক্ষার্থী বিজ্ঞানমনস্কতা নিয়ে। গড়ে উঠুক। প্রতিটা দিন শুভ হোক সকলের।