সিনিয়র শিক্ষক
০৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০৫:১০ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ মাদ্রাসা শিক্ষা
শ্রেণিঃ ষষ্ঠ
বিষয়ঃ ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান
অধ্যায়ঃ চতুর্থ অধ্যায়
জনসংখ্যা নীতিতে সরকার অবস্থান বদলেছে। এখন পুরোনো স্লোগান দিচ্ছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। তারা বলছে: ‘ছেলে হোক মেয়ে হোক, দুটি সন্তানই যথেষ্ট’। এক দশকের বেশি সময় ধরে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মূল স্লোগান ছিল: ‘দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়’। সরকারি কর্মকর্তা ও জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছে। যেমন স্বাধীনতার সময় ১৫-৪৯ বছর বয়সী নারী গড়ে ছয়টির বেশি সন্তান জন্ম দিতেন। অর্থাৎ তখন মোট প্রজনন হার (টিএফআর) ছিল ৬ দশমিক ৪। বর্তমান টিএফআর নিয়ে বিতর্ক আছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বলছে, ২ দশমিক শূন্য ৫, জনমিতি জরিপ বলছে, ২ দশমিক ৩। স্বাধীনতার সময় আধুনিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করতেন ৮ শতাংশ দম্পতি। এখন সেই হার ৬৩ শতাংশ। জাতীয় জনসংখ্যা নীতিতে ২০১৫ সালের মধ্যে প্রতিস্থাপনযোগ্য জনউর্বরতা অর্জন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। একই সময়ে আধুনিক জন্মগ্রহণ পদ্ধতি গ্রহীতার হার ৭২ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। দুটির কোনোটিই অর্জিত হয়নি। দেশে এখনো মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু অনেক বেশি।
বিবিএসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫৫ লাখ। দেশের বাইরে থাকা প্রায় ১ কোটি প্রবাসী এই হিসাবের বাইরে। নগররাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বে সবচেয়ে জনবহুল দেশ বাংলাদেশ। এ দেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১ হাজার ২৬৫ মানুষ বাস করে (চীনে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১৫০, ভারতে ৪৫০ জন)। প্রতিবছর মোট জনসংখ্যার সঙ্গে নতুন করে প্রায় ৩২ লাখ মানুষ যোগ হচ্ছে। জনসংখ্যার এই চাপ পড়ছে জমির ওপর, খাদ্যের ওপর, শিক্ষা-স্বাস্থ্যের ওপর। একসময় বলা হতো, জনসংখ্যা দেশের এক নম্বর সমস্যা। সন্তান গ্রহণের ব্যাপারে পরিবারই স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেবে, এটাই মূল কথা। সরকার জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ কথা সত্যি যে বসতি, পরিবেশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যের ওপর অধিক জনসংখ্যা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ’পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ‘ছেলে হোক মেয়ে হোক, দুটি সন্তানই যথেষ্ট’ স্লোগান আশির দশকের। ২০০৪ সালে জনসংখ্যা দিবসে ‘দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়’ স্লোগানটি ব্যবহার করা হয়, যা ২০১২ সালে জাতীয় জনসংখ্যা নীতিতে জোরদারের কথা বলা হয়। সরকার একসময় এক সন্তানের নীতি গ্রহণ করা যায় কি না, সেই চিন্তাও করেছিল। তবে বর্তমান সরকারের অনেকেই জনসংখ্যাকে দেশের জন্য বড় সমস্যা মনে করেন না।