Loading..

প্রকাশনা

পুণ্যভূমি সিলেট কেন বলা হয়?
০৩ এপ্রিল, ২০২১

পুণ্যভূমি সিলেট কেন বলা হয়?

সিলেট কে সবাই আধ্যাত্মিক নগরী বা পুণ্যভূমি সিলেট বলে থাকেন কিন্তু সিলেটের বাহির থেকে আসা মানুষের মনে সব সময় একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খায়, সিলেটকে কেন পুণ্যভূমি বলা হয়? সিলেটের নতুন প্রজন্ম অনেকের কাছেও এটি একটি জিজ্ঞাসা সিলেট কে কেন পূণ্যভূমি বলা হয়?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমরা চমকপ্রদ কিছু তথ্য পেয়েছি যা পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল

সৈয়দ আহমদ কবির (রহ) ছিলেন আরবের একজন বিখ্যাত পীর ও কামেল আল্লাওয়ালা লোক। তিনি একাধারে ছিলেন এক জন শিক্ষক, পীর ও আধ্যাত্মিক শিক্তিতে বলীয়ান একজন কামেল লোক। তিনি আবার ছিলেন হযরত শাহজালাল (রহ) এর মামা ও শিক্ষাগুরু।

হযরত শাহজালাল (রহ) যখন মক্কায় তার মামা ও গুরু সৈয়দ আহমদ কবিরের কাছে শিক্ষা লাভ করছিলেন তখন হঠাৎ একদিন একটি হরিন শাবক তার গুরু ও মামার দরবারে একটি ফরিয়াদ নিয়ে হাজির হয়। ফরিয়াদটি ছিল একটি বাঘের বিরুদ্ধে। বাঘ তাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করে । ফরিয়াদ শুনে সৈয়দ আহমদ কবির মনে মনে ভাবলেন বাঘটিকে ডান হাতের তিন ও বাম হাতের দুই আঙ্গুল দিয়ে চপেটাঘাত করে তাড়িয়ে দেবেন। হযরত শাহজালাল (রহ) তার আধ্যাত্মিক শক্তি বলে মামার মনোবাসনা পূর্বেই বুঝতে পেরে তিনি নিজেই বাঘটিকে চপেটাঘাত করে তাড়িয়ে দেন। এই ঘটনার পরে তাঁর মামা সৈয়দ আহমদ কবির আশ্চার্যিত হয়ে তাঁকে বলেন, “তুমি কামিলিয়াত (আধ্যাত্মিক সম্পূর্ণতা) হাসিল করেছো, আমার কাছে শিক্ষা নেয়ার আর তোমার কিছু বাকী নেই হুজরা থেকে একমুষ্ঠি মাটি তুলে তাঁর হাতে তুলে দিয়ে তাঁর মামা বলেছিলেন, তুমি হিন্দুস্থান গিয়ে পবিত্র ইসলাম প্রচার শুরু করো; আর যে স্থানের মাটির সাথে এই মাটির বর্ণে,গন্ধে, স্বাদে একই  রকম মিল পাবে  সেটা যেখানেই হোক না কেন সেখানে এ মাটি ছড়িয়ে দিয়ে আস্তানা গাড়বে, সেখানে বসতি স্থাপন করবে।আর ইসলাম প্রচার করবে।

মুর্শিদ সৈয়দ আহমদ কবির (রহ) এর দোয়া নিয়ে শাহ জালাল (রহ) ধর্মপ্রচার অভিযানে আরবের মক্কা শরিফ হতে একা-একাই যাত্রা শুরু করেন ইয়েমেন থেকে আরেকজন সঙ্গীছিলেন যিনি ছিলেন ঐ আরবের পবিত্র মৃত্তিকার তহবিলদার। যাকে শাহ জালাল (রহ) ঐ আরবের পবিত্র মৃত্তিকা দিয়ে বলেছিলেন আমরা যে পথেই যাইনা কেন আপনি ঐ পথের বিভিন্ন স্থানের মাটির সাথে আমার দেয়া এই মাটির বর্ণে,গন্ধেস্বাদের মিল খুঁজে দেখবেন প্রতিনিয়ত। যে স্থানের মাটির সাথে এই মাটির বর্ণে,গন্ধে, স্বাদে একই  রকম মিল পাবেন আমাকে জানাবেন। সেটা যেখানেই হোক না কেন ,আমরা সেখানেই বসতি স্থাপন করবো আর সেখানেই ইসলাম প্রচার করবো। তিনি হলেন সৈয়দ শেখ আলি (চাষনী পীর)।

সুদূর মক্কা থেকে সিলেট আসা পর্যন্ত সৈয়দ শেখ আলি(চাষনী পীর) হাজার হাজার স্থানের সাথে শাহ জালাল (রহ) দেয়া মাটির সাথে প্রতিটি স্থানের মাটির বর্ণ,গন্ধ ও স্বাদ পরীক্ষা করেন।সৃষ্টি কর্তা তাহার হাতে , নাকে ,ও চিহ্বায় এমন কিছু ওলৌকিক ক্ষমতা দিয়েছিলেন যে কোন ধরনের যন্ত্রপাতি ছাড়াই শুধু মাত্র হাত,নাক ও চিহ্বা দিয়ে তিনি মাটি বর্ন,গন্ধ ও স্বাদ পরীক্ষা করতে পারতেন আবশেষে শাহ জালাল (রহ) যখন রাজা গোবিন্দ কে পরাজিত করে গৌড় রাজ্য জয় করেন তখন সৈয়দ শেখ আলি বর্তমান সিলেটের মাটি পরীক্ষা করে শাহজালাল (রহ) কে জানান যে তাঁর পীর সৈয়দ আহমদ কবিরের দেওয়া এক মুঠো মাটির সাথে এখানকার মাটির অদ্ভূত মিল রয়েছে।তারপর শাহ জালাল (রহ) মামা ও গুরুর কথামত আরবের মক্কার সেই পবিত্র মাটি বর্তমান এই সিলেটের দরগা মহল্লার টিলার উপ থেকে চর্তুরদিকে ছড়িয়ে দিয়ে একটি ছোট্ট টিলায় তাঁর আস্তানা গাড়েন।

 মক্কার সেই পবিত্র মাটির সাথে সিলেটের মাটির মিল রয়েছে বলেই সিলেটকে পূন্যভূমি বলা হয়।



সিলেট বিভাগ

মন্তব্য করুন

অন্যান্য