সিনিয়র শিক্ষক
সিনিয়র শিক্ষক
উৎমাছড়া
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
|
উৎমাছড়া
|
|
|
অবস্থান
|
|
|
|
ঝরনা / ছড়া |
বিছানাকান্দি
উৎমাছড়া বিছানাকান্দির প্রতিরূপ। চারপাশে সারি সারি পাহাড়, পাহাড়ের বুকে গাঢ় সবুজের প্রলেপ, গাছপালা আর ঝোপঝাড় দিয়ে ভরা। পাহাড়ের বুক চিড়ে বয়ে চলেছে শীতল স্বচ্ছ জলরাশি। [১]
অবস্থান
উৎমাছড়া সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উত্তর রণিখাই ইউনিয়নে অবস্থিত। শীতল স্বচ্ছ জলরাশি। ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে আসা সিলেটের সীমান্তবর্তী এক নদের নাম ধলাই।[২] মেঘালয় পাহাড়ের ঝরনার পানি এই নদের জলপ্রবাহের উৎস। ধলাই নদের উৎসমুখই হচ্ছে সাদাপাথরের রাজ্য। পাহাড়ি ঢলে উৎসমুখে পাঁচ একর জায়গা জুড়ে পড়েছে পলির মতো করে পাথরের স্তূপ। সাদা সাদা পাথর। [৩]
ভূপ্রকৃতি
রূপ-লাবণ্যে যৌবনা উৎমাছড়া পরতে পরতে সাজিয়ে রেখেছে সম্মোহনী সৌন্দর্য্য। সারি সারি পাহাড়। পাহাড়ের বুকে গাঢ় সবুজের আস্তরণ। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি হচ্ছে উৎমাছড়া।
বর্ণনা
পাথর ছড়ানো সর্বত্র। আকাশে নীলের ছায়া। যে স্থানকে সিলেটের নতুন ‘বিছনাকান্দি’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে। সৌন্দর্য্যটা আসলে বর্ষাকালেই বেশি উপভোগ করা যায়। আর তা ছাড়া বর্ষার সময়ে উৎমাছড়ার সৌন্দর্য্য সবচেয়ে বেশি ধরা দেয়। অন্যান্য মৌসুমে উতমাছড়াকে মরুভূমির বুকে গজিয়ে ওঠা উদ্যানের মতো মনে হয়।[৪] যে দিকেই যাবেন শুধু পাথর আর পাথর । সে সব পাথরের কোনোটাতে মোটা ঘাসের আস্তরণ, আবার কোনোটা বা ধবধবে সাদা।
সিলেট শহর থেকে সোজা উত্তরে তেত্রিশ কিমি দূরত্বে ভোলাগঞ্জ- বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পাথর কোয়ারী। উত্তরের খাসিয়া পাহাড় থেকে নেমে আসা নদী ধলাই আর পূর্বদিকে ডাউকি থেকে আসা পিয়াইন এর মিলিতধারার পাড়েই কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সদর। সিলেট শহর থেকে আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে সালুটিকর-ভোলাগঞ্জ সড়ক ধরে ২৭ কিমি এগিয়ে গেলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সদর। সেখান থেকে আরো ৬ কিমি গেলেই দীর্ঘ পাহাড় সারি, ধলাই নদী, দৃশ্যমান ঝর্ণা আর সারি সারি পাথরের তীর্থ ভোলাগঞ্জ। ১৭৬৫ সালে বৃটিশরা সিলেট দখল করার পর ১৭৭৮ সালে রবার্ট লিন্ডসে কোম্পানীর রেভিনিউ কালেক্টর হিসাবে সিলেট আসেন, বারো বছর এই দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ভোলাগঞ্জ অঞ্চলে চুনাপাথরের ব্যবসার পত্তন ঘটান। ভোলাগঞ্জ থেকে শুরু করে উত্তরের চেরাপুঞ্জি পর্যন্ত বিস্তৃত পাহাড়্গুলো থেকে চুনাপাথর সংগ্রহ করে নিয়ে আসা হতো ছাতকে, তারপর ছাতক থেকে সুরমা নদী হয়ে এই পাথর চলে যেতো কলকাতায়। এই অঞ্চলের পাথর ব্যবসার লাভ থেকেই লিন্ডসে স্কটল্যান্ড জমিদারী কেনেন, স্যার ও লর্ডস খেতাবে ভূষিত হন। রবার্ট লিন্ডসের আত্নজীবনীতে তৎকালীন পাড়ুয়া, বর্তমানের ভোলাগঞ্জ এলাকার অপার সৌন্দর্য্যের বর্ণনা পাওয়া যায়। লিন্ডসের বর্ণিত সে ই বিখ্যাত সুন্দর এখন আর অবশিষ্ট নেই, মুলতঃ গত কয়েকবছর ধরে চলমান অনিয়ন্ত্রিত পাথর উত্তোলন ও পাথরভাঙ্গা ( ক্রাশার) মেশিনের উৎপাতে। এ ছাড়া পাথরবাহী ট্রাকের কারনে সিলেট-ভোলাগঞ্জ রাস্তার অবস্থা ও বেশ খারাপ। তবুও বর্ষায় মেঘালয় পাহাড়জুড়ে মেঘের উচ্ছ্বাস, ঝর্ণার ছুটে চলা, নদীর স্রোতধারা, বর্ষাশেষে জেগে উঠা ধলাই’র দীর্ঘ বালিয়াড়ি পর্যটকদের মুগ্ধ করবে। সিলেট থেকে মাত্র ৩৩ কিমি হলে ও মুলতঃ রাস্তার অবস্থার কারনে গাড়ী নিয়ে ভোলাগঞ্জ পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় দেড়ঘন্টা। আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে ভাড়ায়চালিত সিএনজি নেবে জনপ্রতি ১২০ টাকা। যারা ট্রেকিং ভালোবাসেন, ভোলাগঞ্জ থেকে পূর্বদিকে দয়ার বাজার, মায়ার বাজার, উথমা, তুরং, উপুর দমদমা, বিত্তরগুল হয়ে চলে যেতে পারেন বিছনাকান্দি পর্যন্ত। মেঘলায় পাহাড়ের নীচ ধরে বেশ কতোগুলো পাহাড়ী ছড়া পাড় হয়ে যেতে যেতে সময় লাগবে ঘন্টা চারেক। দূরত্ব বারো কিমি এর মতো। বিছনাকান্দি থেকে গাড়ী নিয়ে আবার ফিরে আসা যায় সিলেট শহরে। কিভাবে যাবেন ? ঢাকা-সিলেট-কোম্পানিগঞ্জ- দয়ার বাজার ওই জায়গায় থেকে ছড়ার বাজার। সামনেই উথমা গ্রাম
যাবেন কিভাবে-
(সিলেট শহর থেকে ২১০ টাকায় যাওয়া-আসা হয়ে যাবে)
আম্বরখানা
থেকে ভুলেও সিএনজি নিবেন না, হুদাই ১৫০+ ভাড়া রাখে। এই সিনজি স্টেশন ধরে হেঁটে
আগাতে থাকবেন (মজুমদারীর দিকে)
৫ মিনিটের মত হাঁটলে ভোলাগঞ্জ যাওয়ার বাস দেখতে পাবেন। না চিনলে যে কাউকে জিজ্ঞেস
করে নিবেন ভোলাগঞ্জ যাওয়ার বাস স্টেশন কোথায়। বাস ভাড়া ৬০ টাকা। নামায় দিবে
ভোলাগঞ্জ বাজারে। এখান থেকে ৫ টাকা ভাড়ায় টমটমে করে যাবেন 'নতুন বাজার' অথবা
ড্রাইভারকে বলে নিবেন 'দয়ারবাজার যাওয়ার খেয়াঘাট সামনের যে বাজারে আছে সেখানে
যাবো'
টমটমে
ঐ বাজারে নেমে মানুষকে জিজ্ঞেস করে করে দয়ারবাজার যাওয়ার খেয়াঘাটে যাবেন। নৌকায় ১০
টাকা জনপ্রতি ভাড়ায় দয়ারবাজার গিয়ে পৌঁছাবেন।
(এখানে দয়ারবাজার যাওয়ার খেয়াঘাট না বললে অনেকে সাদাপাথর ভেবে রিজার্ভ ধরায় দিতে
পারে, তাই খেয়াঘাট শব্দটা ভালোভাবে বলে নিবেন এবং ক্লিয়ার হয়ে নিবেন নৌকাটা ১০
টাকা জনপ্রতিতে দয়ারবাজার যাচ্ছে কিনা)
দয়ারবাজারে আসার পর মানুষজনকে জিজ্ঞেস করে চড়ারবাজার যাওয়ার সিএনজি স্টেশন খোঁজে নিতে হবে। ভাড়া ৩০ টাকা।
এই শেষ খরচ! অর্থাৎ ৬০+৫+১০+৩০= ১০৫ টাকা যাওয়া, আসার ক্ষেত্রেও সেইম। মোট ২১০ টাকা।
যাইহোক, চড়ারবাজার নেমে আর কোনো গাড়ি বা নৌকার ব্যাপার নেই, বাকী পথ হেঁটে যেতে হবে৷ প্রথমে যাবেন উৎমাছড়া, কারন এটা চড়ারবাজারের কাছেই এবং এটা থেকে তুরুংছড়া যাওয়া সহজ। রাস্তায় যে কাউকে উৎমাছড়া বা তুরুংছড়া কোনদিকে জিজ্ঞেস করলেই ডিরেকশন দেখায় দিবে। হেঁটে উৎমায় যেতে সময় লাগবে ১৫-২০ মিনিট, উৎমা থেকে হেঁটে তুরুং যেতে লাগবে ৪০ মিনিটের মতো। হয়ে গেলো ২১০ টাকায় দুটো অসাধারন স্পট ভ্রমন!