সিনিয়র শিক্ষক
১৫ এপ্রিল, ২০২১ ০৩:৪৫ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ মাদ্রাসা শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ কৃষি শিক্ষা
অধ্যায়ঃ চতুর্থ অধ্যায়
বেগুন এক প্রকারের ফল যা সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অনেকের ধারণা এই উদ্ভিদের প্রজাতিগুলির উদ্ভব ভারতে হয়েছিল, যেখানে এটির ব্যপক বৃদ্ধি হতে থাকে।[১] আবার অনেকের মতে এর বৃদ্ধি আফ্রিকাতেও হতে পারে।[২]
| বেগুন / Eggplant / Aubergine | |
|---|---|
| বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস | |
| জগৎ: | Plantae |
| (শ্রেণীবিহীন): | Angiosperms |
| (শ্রেণীবিহীন): | Eudicots |
| (শ্রেণীবিহীন): | Asterids |
| বর্গ: | Solanales |
| পরিবার: | Solanaceae |
| গণ: | Solanum |
| প্রজাতি: | S. melongena |
| দ্বিপদী নাম | |
| Solanum melongena L. | |
| প্রতিশব্দ | |
Solanum ovigerum Dunal | |
বেগুন গাছ প্রায় ৪০ থেকে ১৫০ সেমি দীর্ঘ হয়। পাতাগুলো ঘন এবং প্রায় ১০ থেকে ২০ সেমি দীর্ঘ ও ৫ থেকে ১০সেমি প্রশস্ত হয়। বুনো বেগুন গাছ আরো বড় হতে পারে। বেগুনের ফুল সাদা হতে গোলাপী বর্ণের হয়। পাঁচটি পাপড়ি থাকে। বেগুনের ফল বেগুনী বা সাদা বর্ণের হয়। ফল অনেকটা লম্বাটে নলাকৃতির হয়ে থাকে। ফলের ভিতরে অনেকগুলো নরম বীজ থাকে।
বেগুনের ব্যবহার ও গুনাগুণসম্পাদনাভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন রান্নায় বেগুনের ফল ব্যবহার করা হয়।বেগুন মধুর, তীক্ষ্ণ ও উষ্ণ। পিত্তনাশক, জ্বর কমায়, খিদে বাড়ায় এবং পরিপাক করা সহজ। বেগুন ভর্তা, বেগুন পোড়া, এবং বেগুনী বানাতে এর ব্যবহার রয়েছে। বিশেষত বাংলাদেশে ইফতারের জন্য বেগুনী একটি জনপ্রিয় খাবার। বেগুন এর ভর্তা অনেক জনপ্রিয়। এটি গ্রামবাংলার অনেক সুস্বাদু খাবার।
| প্রতি ১০০ গ্রাম (৩.৫ আউন্স) পুষ্টিগত মান | |
|---|---|
| শক্তি | ১০৪ কিজু (২৫ kcal) |
5.88 g | |
| চিনি | 3.53 g |
| খাদ্যে ফাইবার | 3 g |
0.18 g | |
0.98 g | |
| ভিটামিনসমূহ | |
| থায়ামিন (বি১) | (3%) 0.039 mg |
| রিবোফ্লাভিন (বি২) | (3%) 0.037 mg |
| ন্যায়েসেন (বি৪) | (4%) 0.649 mg |
(6%) 0.281 mg | |
| ভিটামিন বি৬ | (6%) 0.084 mg |
| ফোলেট (বি৯) | (6%) 22 μg |
| ভিটামিন সি | (3%) 2.2 mg |
| ভিটামিন ই | (2%) 0.3 mg |
| ভিটামিন কে | (3%) 3.5 μg |
| চিহ্ন ধাতুসমুহ | |
| ক্যালসিয়াম | (1%) 9 mg |
| লোহা | (2%) 0.23 mg |
| ম্যাগনেসিয়াম | (4%) 14 mg |
| ম্যাঙ্গানিজ | (11%) 0.232 mg |
| ফসফরাস | (3%) 24 mg |
| পটাশিয়াম | (5%) 229 mg |
| দস্তা | (2%) 0.16 mg |
| অন্যান্য উপাদানসমূহ | |
| পানি | 92 g |
| |
| Percentages are roughly approximated using US recommendations for adults. Source: USDA Nutrient Database | |
বেগুনের চাষাবাদ প্রধানত পলি মাটিতে বেশি হয়। বেগুন চাষের জন্য প্রথমে বীজতলায় চারা তৈরি করে মূল জমিতে রোপণ করতে হয়। বীজতলা তৈরির সময় কয়েকটি বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। যেমন-
বেগুন চাষের জন্য চারা উৎপাদন একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। শীতকালীন বেগুন চাষের জন্য শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি হতে আশ্বিন মাস এবং বর্ষাকালীন বেগুন চাষের জন্য চৈত্র মাস পর্যন্ত বীজ বপন করা যায়। বালি, কমপোষ্ট ও মাটি সমপরিমাণে মিশিয়ে বীজতলা তৈরি করতে হয়। সবল চারা পাওয়ার জন্য প্রথমে একটি বীজতলায় বীজ বুনতে হয়। গাছ গজানোর ৮-১০ দিন পর চারা তুলে দ্বিতীয় বীজতলায় রোপণ করতে হয়। এতে চারা স্বাস্থ্যবান হয়। অতিরিক্ত পানিতে বীজ নষ্ট হয়ে যায়।
জমি তৈরি ও চারা রোপণসম্পাদনাকৃষকদের মতে গুণগত মানসম্পন্ন ভালো ফলন পেতে হলে বেগুন চাষের জমিতে যতটুকু সম্ভব জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। মাটি পরীক্ষা করে মাটির ধরন অনুযায়ী সার প্রয়োগ করতে হবে। তবে জৈব সার ব্যবহার করলে মাটির গুণাগুণ ও পরিবেশ উভয়ই ভালো থাকবে। বাড়িতে গবাদি পশু থাকলে সেখান থেকে গোবর সংগ্রহ করা যাবে। নিজের গবাদি পশু না থাকলে পাড়া-প্রতিবেশী যারা গবাদি পশু পালন করে তাদের কাছ থেকে গোবর সংগ্রহ করা যেতে পারে। এছাড়া ভালো ফলন পেতে হলে জমিতে আবর্জনা পচা সার ব্যবহার করা যেতে পারে। বাড়ির আশেপাশে গর্ত করে সেখানে আবর্জনা, ঝরা পাতা ইত্যাদি স্তূপ করে রেখে পচা সার তৈরি করা সম্ভব।
রোগ-বালাইসম্পাদনাফিউজিয়াম ছত্রাক দ্বারা বেগুনের ঢলে পড়া রোগ হয়। গাছের গোড়া ও শেকড় বিবর্ণ হয়ে যায়। এ রোগ হলে পাতা নেতিয়ে পড়ে ও গাছ ঢলে পড়ে। পরবর্তীতে গাছ মারা যায়।
স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত জৈব কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে পোকা দমন না হলে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণের অধিদপ্তরের ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তা অথবা উপজেলা কৃষি অফিসে পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করা যেতে পারে।
সেচ ও নিষ্কাশনসম্পাদনাখাওয়ার উপযোগী বেগুন ক্ষেত থেকে তোলার সময় সাবধানে সংগ্রহ করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে গাছের গায়ে যেন আঘাত না লাগে বা ক্ষত সৃষ্টি না হয়। গাছ থেকে তোলা বেগুন কাঁচা পাতা অথবা খড়ের উপর রাখতে হবে যেন বেগুনে আঘাত না লাগে; এটা অতি প্রয়োজনীয়।
উৎপাদিত ফসলের পরিমাণসম্পাদনাএক বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করলে গড়ে প্রায় ১০০-১২০ মণ বেগুন পাওয়া যায়।
বিপণনসম্পাদনাবেগুন ফসল সংগ্রহের পর ঠান্ডা ও খোলা জায়গায় কয়েক দিন সংরক্ষণ করা যায়। তাই সংগ্রহের পরপরই ঝুড়িতে বা বস্তায় বাজারে পাঠান যেতে পারে। তবে বস্তায় বেশিক্ষণ রাখা ঠিক নয়।
চিত্রশালাসম্পাদনা