Loading..

উদ্ভাবনের গল্প

রিসেট

১৬ এপ্রিল, ২০২১ ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ

মিড ডে মিল

ভূমিকা:- শিশুদের শিক্ষার অধিকার সবচেয়ে বড় অধিকার । দারিদ্র্য পীড়িত ভারতে বেশির ভাগ শিশু এই অধিকার থেকে বঞ্চিত । পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য বেশির ভাগ শিশু, শিশুশ্রমিকে পরিণত হয় । শিশুদের শৈশবকে সুরক্ষিত করার জন্য ভারত সরকার এক জনমুখি প্রকল্প গ্রহণ করেন । এই প্রকল্পের নাম মিড-ডে-মিল । আর্থিক দিক থেকে দুর্বল ও সমাজের পিছিয়ে পড়া ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করে বেশি সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে টেনে আনাই এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য । এই প্রকল্পের ব্যয়ভারের ৭৫ শতাংশ বহন করে কেন্দ্রীয় সরকার আর ২৫ শতাংশ বহন করে রাজ্য সরকার । ২০০৩ সালে এই প্রকল্প চালু হয় । বর্তমানে এই প্রকল্পের আওতায় এসেছে সমস্ত সরকারি স্কুল, স্থানীয় স্বশাসিত ব্যবস্থা দ্বারা পরিচালিত স্কুল, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল, পঞ্চায়েত পরিচালিত স্কুল, এস.এস.কে এবং এম.এস.কে বিদ্যালয়, সরকারি অনুমোদিত মাদ্রাসা প্রভৃতি । প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠরত ছাত্রছাত্রীরা মিড-ডে-মিল খায় । মিড-ডে-মিল চালু হওয়ায় স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতির হার বেড়েছে এবং পড়াশুনায় মনোযোগী হয়েছে ।

শিশুশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও মিড-ডে-মিল:— প্রায় ৭২/৭৩ বছর দেশ স্বাধীন হয়েছে কিন্তু আজও সমাজের সর্বস্তরে শিক্ষার আলো পৌঁছায়নি । যে কোনো গণতান্ত্রিক দেশের মূল ভিত্তি হচ্ছে শিক্ষিত সমাজ । দেশবাসী শিক্ষিত না হলে গণতন্ত্রের উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যায় । তাছাড়া শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি বা দেশ উন্নতি করতে পারে না । দরিদ্র পরিবারের শিশুরা খাদ্যের অভাবে সহজে বিদ্যালয়ে যেতে চায় না । স্কুলে না গিয়ে কিছু অর্থের জন্য বা খাবারের জন্য বিভিন্ন কাজে নিযুক্ত হয় । শৈশবেই তাদের সমস্ত সম্ভাবনাময় বিকাশ ব্যর্থ হয় । এজন্য প্রাথমিক শিক্ষার উপর সরকার জোর দিয়েছেন এবং বেতনবিহীন ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা চালু করেছেন । যাতে করে দরিদ্র বাবা-মা শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না করতে পারে তার জন্য পাঠ্যপুস্তক, বিদ্যালয়ের পোষাক এবং এক বেলা খাবার দেওয়ার ব্যবস্থাও সরকার গ্রহণ করেছেন ।

শিশুশিক্ষার পথে বাধা:— শিশুশিক্ষার মূল বাধা হল— দারিদ্র্য ও সচেতনতার অভাব । দারিদ্রের কারণে মা-বাবা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চায় না । তারা মনে করে শিক্ষা গ্রহণের থেকে জীবিকা অর্জনের জন্য কাজ করা ভালো । এইরূপ মনোভাবের কারণে অনেক মেধাবী ছাত্রও অকালে হারিয়ে যাচ্ছে ।

মন্তব্য করুন