Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১০ মে, ২০২১ ০৭:২৬ পূর্বাহ্ণ

শ্রেণী--৮ম ,বিষয়ৃৃ-- কৃষি শিক্ষা ,অধ্যয়--৫ম

লাইলাতুল কদর: কেন এবং কত তারিখে?

এডুকেশন ওয়াচ অনলাইন | 

আনোয়ার মোরসালিন

মহান মর্যাদাময় রাত্রি লাইলাতুল কদর। এর অর্থ অতিশয় সম্মানিত ও মহিমান্বিত রাত বা পবিত্র রজনী। এই রাত ‘শবে কদর’ নামেও পরিচিত, যার অর্থ হচ্ছে মর্যাদার রাত্রি।
এই রাতে সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ র পক্ষ থেকে পবিত্র মক্কার হেরা পর্বতের গুহায় জিবরাইল (আঃ)-এর মাধ্যমে বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর প্রতি মহাগ্রন্থ কোরআন অবতীর্ণ হয়।
পবিত্র কোরআনে এই শুভ রজনীর আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে সুরা কদর এ।
আল্লাহ্ বলেন “নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি মর্যাদাপূর্ণ কদর রজনীতে। আপনি কি জানেন মহিমাময় কদর রজনী কি? মহিমান্বিত কদর রজনী হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। সে রাতে ফেরেশতাগণ ও হজরত জিবরাইল (আঃ) সমভিব্যাহারে অবতরণ করেন; তাঁদের প্রভু মহান আল্লাহ্ র নির্দেশ ও অনুমতিক্রমে, সকল বিষয়ে শান্তির বার্তা নিয়ে। এই শান্তির ধারা চলতে থাকে উষার উদয় পর্যন্ত।”
হাদিসে আছে, “যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের নিয়তে কদরের রাতে ইবাদত করবে; তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।” বুখারি
প্রশ্ন হচ্ছে কোন রাতটি শবে কদর?
লাইলাতুল কদর কত তারিখে, এ বিষয়ে ৪০ টির বেশী মত আছে।
কোরআনে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি লাইলাতুল কদর কোন রাতে। তবে কোরআনের ভাষ্য হলো লাইলাতুল কদর রমজান মাসে।
এ রজনী রমজানের শেষ দশ দিনের মধ্যে যে কোন একদিন হবে বলে বোখারী ও মুসলিম হাদিসে আছে।
রমজানের শেষ দশ দিনের বিজোড় রাতগুলোতে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলেও মত আছে।
অধিকতর সম্ভাবনার দিক দিয়ে প্রথম হলো রমজান মাসের ২৭ তারিখ। দ্বিতীয় হল ২৫ তারিখ। তৃতীয় হল ২৯ তারিখ। চতুর্থ হল ২১ তারিখ। পঞ্চম হল ২৩ তারিখ।
উপরোক্ত তারিখগুলি বিভিন্ন ব্যক্তির মতামত ও ব্যাখ্যা। সেসব শুধু সম্ভাবনা মাত্র। নিশ্চিত তারিখ নয়।
আল্লাহ এ রাতকে গোপন রেখেছেন আমাদের উপর রহম করে।
আল্লাহ এই তারিখটি আমাদের কাছ থেকে গোপন রেখেছেন, যাতে আমরা তা সন্ধানের চেষ্টা করে সওয়াব পাই। আর আমরা যেন শুধু একটি রাতের ইবাদত না করে রমজানের শেষ দশ দিনের প্রতি রাতে ইবাদত করি।
লাইলাতুল কদর প্রতি বছর নির্দিষ্ট একই রাতে হতে পারে বা বিভিন্ন রাতেও হতে পারে।
হতে পারে এক বছর ২১ তারিখে, আরেক বছর ২৩ তারিখে এবং অন্য আরেক বছর ২৫, ২৭ বা ২৯ তারিখে।
আবার একই বছরেও অঞ্চলভিত্তিক একাধিক রাত শবে কদর হতে পারে।
যেমন বাংলাদেশে ২৭ তারিখ এবং সৌদি আরবে ২৯ তারিখ। প্রকৃত বিষয় নিশ্চয়ই আল্লাহ ভাল জানেন।
২৭ তারিখে লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা সর্বাধিক বলে কেউ কেউ বলেছেন। ২৭ তারিখে লাইলাতুল কদর এর সুনির্দিষ্ট এমন কোনো তথ্য প্রমাণ নেই। একে শুধু সম্ভাবনা হিসেবে গ্রহণ করা যায়, সুনিশ্চিত হিসেবে নয়।
মূলকথা হচ্ছে, শবে কদর রমজান মাসের শেষ দশ দিনে বিদ্যমান। সুতরাং এই মহিমান্বিত রাতের সন্ধান পেতে হলে রমজানের শেষ দশে ইবাদত করতে হবে।
শেষ কথা।
ছোট বেলা থেকেই দেখে আসছি রমজানের ২৭ তারিখকে শবে কদর হিসেবে পালন করা হয়, এবং এই রাতকে বেছে নেওয়া হয়েছে ইবাদতের জন্য। সরকারী ছুটিও আছে এই দিনের জন্য।
তাহলে কি আমরা বাকি নয়টি রাতকে অবহেলা করছি?
অন্যান্য রাত গুলোতে তো আমরা ইবাদত করছি না।
তাহলে কি আল্লাহ র নির্দেশনাকে এখানে গৌণ করছি নিজের অজান্তে!!
এই আলোচনায় আমি যে কথাটা বোঝাতে চেয়েছি তা হচ্ছে, শবে কদরের মর্যাদা রক্ষা এবং ইবাদতের মাধ্যমে পূর্ণ ফল পেতে হলে কোন একটি রাত নয়, বরং রমজানের শেষ দশ দিনের প্রতিটি রাতেই ইবাদত করা দরকার।
রমজানের ২৭ তারিখে শবে কদর পালনের tradition বন্ধ করে সকল মুসলিমের উচিত শেষ দশের প্রত্যেক রাতে ইবাদত করা। তবেই সন্ধান মিলবে শবে কদরের।
লাইলাতুল কদরে আমরা যা যা করতে পারি তা হচ্ছে, নফল নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, কবর জিয়ারত, তওবা-ইস্তেগফার, জিকির-আজকার, আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা ও গরীবদের অন্নদান ইত্যাদি।
সবাইকে পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা জানাই।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন। আমিন।
মোঃ গোলজার হোসেন ,সহকারী প্রধান শিক্ষক, সড়াবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় ,আটঘরিয় .পাকনা  । ০১৩১৭--৩০২৮৮২

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট