Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২২ মে, ২০২১ ০২:০৩ পূর্বাহ্ণ

প্রচণ্ড গরমে কি করণীয় আর কি বর্জনীয়?

প্রচণ্ড গরমে কি করণীয় আর কি বর্জনীয়?

 

 

 এখন এই গরম এই বৃষ্টি। তবে রোদ উঠলেই গরমে যেন হাঁসফাঁস অবস্থা। এক মিনিটের জন্য এসি ঘর থেকে বের হলেই ভ্যাপসা গরমে ঘেমে ভিজে যেতে হয়। আর এই ঠাণ্ডা গরমে জ্বর-সর্দি ইত্যাদি রোগ হয় এ সময়ে। তাই এমন কড়া রোদের গরম থেকে সুস্থ থাকতে জেনে নিন কি করবেন আর কি করবেন না।

রোদ থেকে এসেই সঙ্গে সঙ্গে ঠাণ্ডা পানি একেবারেই খাবেন না।

যত সম্ভব মশলাদার খাবার এড়িয়ে যান। অতিরিক্ত চা, কফি ও মদ্যপান করবেন না।

বার বার এসি ঘরে ঢুকবেন আর রোদে বাইরে বের হবেন না। এতে হিটস্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এসি ঘর থেকে বের হয়ে সাথে সাথে কড়া রোদে যাবেন না। একটু ছায়ায় দাঁড়িয়ে ঠাণ্ডা হয়ে নিন।

মোটা ও গাঢ় রংয়ের পোশাক, কৃত্রিম তন্তুর পোশাক এড়িয়ে চলুন। হালকা ঢিলেঢালা জামা পরুন।

রোদে বের হওয়ার আগে বেশি প্রসাধনী ব্যবহার করবেন না। কিন্তু সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে ভুলবেন না।

অবশ্যই বের হওয়ার সময়ে ব্যাগে পানির বোতল রাখুন। পারলে পানিতে লবন ও চিনি মিশিয়ে রাখুন। যদি পারেন স্যালাইন বা গ্লুকোজ মিশিয়ে নিতে পারেন। এছাড়া সানগ্লাস, ছাতা, টুপি রাখুন।

গরম লাগছে বলেই রাস্তা থেকে কাটা ফল, সরবত কিনে খাবেন না। এতে রোগ সংক্রমণ হয়।

খুব প্রয়োজন না হলে রোদে বের হবেন না।

 

শুধু গরমের সময়টাতে নয়, মানুষের শরীরের জন্য সুস্থতা দরকার সার বছরই। তবু বিভিন্ন রকম অসুখ বিসুখ আমাদের আক্রমণ করে। ঋতুর ধরণ বুঝে অসুখের ধরণও পাল্টে যায়। যেমন প্রচন্ড গরমের কারণেও অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন অনেকেই। তাই গরমের সময়টাতে সুস্থ থাকার জন্য আমাদের কিছু বিষয় মেনে চলতে হবে। চলুন, জেনে নেয়া যাক-


 

 

 প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই লিটার পানি পান করতে হবে। পানি শরীরের অভ্যন্তরকে পরিশোধিত করে। শরীরে ঘাম বেশি হলে সেক্ষেত্রে পানিতে খানিকটা লবণ মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। তবে খাবার স্যালাইন পান করলে ভালো হয়। ঠাণ্ডা লেবুর শরবত কিংবা তরমুজ জাতীয় রসালো ফলও এ সময় খাওয়া যেতে পারে।


প্রচণ্ড গরমে অনেকেরই চোখ জ্বালা করে। এই পরিস্থিতিতে চোখে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিলে আরাম লাগবে। পারলে কিছুক্ষণ ঠাণ্ডা পরিবেশে বিশ্রাম নিতে হবে, পান করে নিতে হবে এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি।

এনার্জি ড্রিংকস কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা হয় যা শরীরের জন্য দীর্ঘ মেয়াদী সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। অন্য পানীয় পানে বিশেষ কোনো উপকার নেই। বিশেষ করে অ্যালকোহলযুক্ত বেভারেজ পান করলে শরীরে আরো বেশি পানি স্বল্পতার সৃষ্টি হয়। তাই পানি স্বল্পতারোধ করতে গিয়ে অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় পান করলে শরীর আরো বেশি পানি হারাবে।

পরিচ্ছন্নতার জন্য গরমকালে দুবার গোসল করে নেয়া ভালো। দুর্গন্ধ দূর করার জন্য বারবার সাবান ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে ত্বকের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। তবে গোসলে বিশেষ ধরনের সাবান অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সোপ ব্যবহারে উপকার আছে।

গরমের সময় সালাদ একটি উপাদেয় খাবার। দই, শসা, টমেটো, গাজর, কাঁচা পেঁপে, কাঁচা মরিচ, ধনেপাতা, পুদিনাপাতা, পেঁয়াজ ইত্যাদি দিয়ে সালাদ করা যায়। অনেক সময় এর সঙ্গে পাকা পেয়ারা ও আপেল দিয়েও সালাদ করা যায়। সালাদ তৈরি করে ফ্রিজে কিছুক্ষণ রেখে পরে খাওয়া যেতে পারে। এর সঙ্গে টকদই বা কাগজি লেবুও দেওয়া যেতে পারে। লেবুতে থাকে প্রচুর ভিটামিন সি ও পটাশিয়াম, যা দেহকে ঠান্ডা রাখে এবং ত্বক মৃসণ রাখে।

অতিরিক্ত গরমে অনেক সময় হজমে সমস্যা হয়। তাই সাধারণ খাবার, যেমন-ভাত, মাছ, ডাল, ভর্তা ইত্যাদি খাওয়াই ভালো।

সূর্যের দাবদাহ থেকে ত্বককে রক্ষা করার জন্য শরীরের উন্মুক্ত অংশে সানস্ক্রিন ক্রিম মাখা যেতে পারে। সানস্ক্রিন প্রতি তিন ঘণ্টা অন্তর মাখতে হয়। বাজারে বিভিন্ন ধরনের সানস্ক্রিন বা সানব্লকার ক্রিম পাওয়া যায়। আমাদের দেশের জন্য এসপিএফ-১৫ শক্তিসম্পন্ন সানব্লকারই যথেষ্ট বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

মাক্স পরুন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং নিরাপদে ঘরে থাকুন।

 

 

 

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট