প্রভাষক
২৭ মে, ২০২১ ১০:৩৫ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
উচ্চশিক্ষায় সশরীর ও অনলাইন শিক্ষা সমন্বিত করে একটি নীতিমালা করতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এ নীতিমালা তৈরির জন্য ইতিমধ্যে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ চন্দকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ মে) এক ভার্চ্যুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। উচ্চশিক্ষায় বাংলাদেশ যেন পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্য ‘ব্লেন্ডেড লার্নিং নীতিমালা’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশের উচ্চশিক্ষা দেখভালের দায়িত্বে থাকা সংস্থাটি। এর আগে করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনলাইনে ক্লাসের পাশাপাশি পরীক্ষার নেওয়ার বিষয়েও অনুমতি দেয় ইউজিসি।
সভায় ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ চন্দ বলেন, উচ্চশিক্ষার গুণগতমান উন্নয়ন ও নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে স্ট্র্যাটেজিক প্লান ফর হায়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ ২০১৮-২০৩০ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে অনলাইন ও অনসাইট (সশরীর) এডুকেশন পদ্ধতিকে একত্রিত করে উন্নত দেশের আদলে ব্লেন্ডেড লার্নিং নীতিমালা তৈরি করা হবে। কোভিড পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ যেন কোন প্রোগাম বা কোর্স একইসাথে অনলাইন এবং অনসাইট শিক্ষণ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এই নীতিমাল প্রণয়ন করা হবে। এ নীতিমালা প্রণয়নে নিজস্ব সংস্কৃতি, সক্ষমতা, আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও আন্তর্জাতিক মানের দিকে নজর দেওয়া হবে।
প্রফেসর ড. দিল আফরোজা বেগম স্বাভাবিক সময়ে স্বশরীরে পাঠদানের পাশাপাশি যাতে ভার্চুয়াল পাঠদান চালু থাকে এই নীতিমালায় সেদিকে খেয়াল রাখার ওপর তাগিদ দেন।
সভায় অংশ নিয়ে ইউজিসি সদস্য প্রফেসর সাজ্জাদ হোসেন বলেন, যুগের চাহিদা ও কোভিড -১৯ এর কারণে অনলাইন শিক্ষা এখন সময়ের বাস্তবতা। দেশে বর্তমানে অনলাইন শিক্ষা পরিচালনার প্রাতিষ্ঠানিক কোন অনুমোদন নেই। ব্লেন্ডেড লার্নিং ও অনলাইন লার্নিং নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এই নীতিমালা ইউজিসিকে নতুন একটি উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্লেন্ডেড লার্নিং এডুকেশন প্রবর্তন করা এখন সময়ের দাবি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এ সংক্রান্ত নীতিমালা পর্যালোচনা করে ওয়ার্কিং কমিটি একটি প্রাথমিক খসড়া তৈরি করবে যা মূল কমিটি পর্যালোচনা করে একটি চূড়ান্ত নীতিমালা তৈরি করবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক মো. সাজ্জাদ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির অধ্যাপক কাজী মোহাইমিন আস-সাকিব, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ফ ম সাইফুল আমিন, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মো. মোজ্জাম্মেল হক আজাদ খান, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক সাদেকুল ইসলাম প্রমুখ।