সহকারী শিক্ষক
২১ জুন, ২০২১ ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
| টমেটো Solanum lycopersicum | |
|---|---|
| টমেটোর প্রস্থচ্ছেদ ও পাকা টমেটো | |
| বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস | |
| জগৎ: | Plantae |
| (শ্রেণীবিহীন): | Angiosperms |
| (শ্রেণীবিহীন): | Eudicots |
| বর্গ: | Solanales |
| পরিবার: | Solanaceae |
| গণ: | Solanum |
| প্রজাতি: | S. lycopersicum |
| দ্বিপদী নাম | |
| Solanum lycopersicum[১] ক্যারোলাস লিনিয়াস লি | |
| প্রতিশব্দ | |
|
Lycopersicon lycopersicum (L.) H. Karst. | |
টমেটো সোলানেসি (solanaceae) পরিবারের লাইকোপার্সিকন (Lycopersicon) গণের অন্তর্ভুক্ত। টমেটোর কাণ্ড কোমল ও রসাল।
উদ্ভিদ বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে টমেটো একটি ফল হলেও, সবজি হিসেবেই সারা বিশ্বে টমেটো পরিচিত। সবজি এবং সালাদ হিসেবে ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ টমেটোর বেশ চাহিদা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি চাষীদের জন্য এটি একটি বিশেষ অর্থকরী সবজি। সবজি হিসাবে এর ব্যবহার ছাড়াও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পেও এর ব্যবহার সুবিদিত। দেশের বাজারের চাহিদা মিটিয়ে টমেটো রপ্তানিরও প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। রান্নার উপকরণ হিসেবে এবং খাবারের সাথে টমেটো সসও বেশ প্রচলিত।
আকর্ষণীয়তা, ভাল স্বাদ, উচ্চ পুষ্টিমান এবং বহুবিধ উপায়ে ব্যবহারযোগ্যতার কারণে সর্বত্রই এটি জনপ্রিয়। এ সবজিতে প্রচুর পরিমাণে আমিষ, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-সি রয়েছে। টমেটোতে লাইকোপেন নামে বিশেষ উপাদান রয়েছে, যা ফুসফুস, পাকস্থলী, অগ্ন্যাশয়, কোলন, স্তন, মূত্রাশয়, প্রোস্টেট ইত্যাদি অঙ্গের ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।
টমেটো বাংলাদেশ বিলাতী বেগুন নামে পরিচিত। বাংলাদেশে টমেটো সবজি হিসাবে বহুল প্রচলিত। সবজি হলেও টমোটোর মধ্যে ফলের সমুদয় গুণ বিদ্যমান এবং ফলের ন্যায় এটি রান্না না করেও খাওয়া যায়।
টমেটো আমাদের দেশের একটি প্রধান শীতকালীন সবজি, তবে বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালেও টমেটো সাফল্যের সাথে চাষ করা যায়।
টমেটোর বুনো পূর্বপুরুষ পশ্চিম দক্ষিণ আমেরিকার স্থানীয় ছিল। [৩] এই বন্য সংস্করণগুলি মটরশুঁটির আকারের ছিল। [৩] স্প্যানিশরা প্রথমে ইউরোপে টমেটো প্রবর্তন করে, যেখানে এগুলো স্প্যানিশ এবং ইতালিয়ান খাবারে ব্যবহৃত হয়। ফ্রান্স এবং উত্তর ইউরোপে টমেটো প্রথমে শোভাময় উদ্ভিদ (অর্নামেন্টাল প্ল্যান্ট) হিসাবে জন্মানো হয়েছিল। এটি খাদ্য হিসাবে সন্দেহের সাথে বিবেচিত হয়েছিল কারণ উদ্ভিদবিদরা এটিকে নাইটশেড হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন, এটি বিষাক্ত অ্যাট্রোপা বেলাডোনা (Atropa belladonna) এর আত্মীয়।[৪] এটি পিউটার প্লেটের সাথে টমেটোর অম্লীয় রসের মিথস্ক্রিয়ার কারণে এই ধারণাটি আরও তীব্রতর হয়।[৫] এর পাতা এবং অপরিপক্ব ফলের মধ্যে টমেটাইন থাকে, যা প্রচুর পরিমাণে বিষাক্ত হতে পারে। তবে পাকা ফলটিতে টমেটাইন নেই।[৬]
মেসোআমেরিকাতে অ্যাজটেক এবং অন্যান্য লোকেরা এই ফলটি প্রথম চাষযোগ্য করেছিল, এবং তাদের রান্নায় ব্যবহার করেছিল। চাষযোগ্যকরণের সঠিক তারিখ অজানা; ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে, এটি দক্ষিণ মেক্সিকো এবং সম্ভবত অন্যান্য অঞ্চলে ইতিমধ্যে চাষ করা হচ্ছিল। [৭] :১৩ ধারণা করা হয় পুয়েব্লো জনগোষ্ঠী বিশ্বাস করত যে, যারা টমেটোর বীজ খেতো তারা ভবিষ্যদ্বাণী করার ক্ষমতা লাভ করত।[৮] বড়, পিণ্ডময় জাতের টমেটো এর মিউটেশন হয় একটি তুলনামূলকভাবে মসৃণ, ক্ষুদ্রতর ফল থেকে যা মেসোআমেরিয়াকায় উদ্ভূত হয়েছিল, এবং এটি আধুনিক চাষকৃত টমেটোর প্রত্যক্ষ পূর্বপুরুষ হয়ে থাকতে পারে।[৭] :১৫
স্পেনীয় কনকুয়েস্তেদর হার্নান কর্টেজ সম্ভবত ১৫২১ সালে অ্যাজটেক নগর তোনোচতিৎলান (বর্তমান মেক্সিকো সিটি) দখল করার পর প্রথম ছোট হলুদ টমেটো ইউরোপে পাঠান, যদিও ক্রিস্টোফার কলম্বাস সম্ভবত ১৪৯৩ এর প্রথম দিকেই টমেটোকে ইউরোপে নিয়ে গিয়েছিলেন। ইউরোপীয় সাহিত্যে টমেটোর সর্বপ্রথম আলোচনা দেখা যায় ১৫৪৪ সালে ইতালীয় চিকিৎসক এবং উদ্ভিদবিদ পিয়েত্রো আন্দ্রেয়া মাত্তিওলি এর লেখায়, যিনি প্রস্তাব দিয়েছিলেন, পরিপক্ব অবস্থায় রক্ত-লাল বা সোনালি বর্ণের একটি নতুন ধরণের বেগুন ইতালিতে আনা হয়েছে, এগুলোকে বেগুনের মত অংশে অংশে বিভক্ত করে খাওয়া যেতে পারে, অর্থাৎ নূন, কালো লঙ্কা (ব্ল্যাক পিপার) ও তেল দিয়ে রান্না করা যেতে পারে। দশ বছর পরে মাত্তিওলি ছাপা অক্ষরে টমেটোর নামকরণ করলেন পমি ডি'ওরো (pomi d'oro) বা "সোনালী আপেল"।[৭] :১৩
পরে আমেরিকায় স্পেনীয় উপনিবেশ স্থাপনের পর, স্পেনীয়রা ক্যারিবীয় অঞ্চলে তাদের উপনিবেশগুলোতে টমেটো বিতরণ করে। তারা এটিকে ফিলিপাইনে নিয়ে যায়, সেখান থেকে এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং তারপরে পুরো এশীয় মহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। স্পেনীয়রা ইউরোপেও টমেটো নিয়ে এসেছিল। এটি ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুতে সহজেই জন্মাতো এবং ১৫৪০ এর দশক থেকে এর চাষ শুরু হয়েছিল। উৎপাদিত হবার কিছু সময়ের মধ্যেই এটি খাওয়া শুরু হয়, এওং ১৭শ শতকের প্রথম দিক থেকে স্পেনে নিশ্চিতভাবেই এটি খাওয়া শুরু হয়ে যায়।
১৫০০ এর দশকে টম্যাটো সম্ভবত ফিলিপাইন বা ম্যাকাও হয়ে চীনে প্রবর্তিত হয়েছিল। চীনারা এর নাম দেয় ফানকিয়ে (fānqié) (বর্বর বেগুণ)।[৯]
১৫৯০ এর দশক পর্যন্ত টমেটো ইংল্যান্ডে জন্মেনি। [৭] :১৭ ইংল্যান্ডে টমেটো চাষের সর্বপ্রথম কৃষকদের একজন ছিলেন নাপিত শল্যচিকিৎসক জন জেরার্ড।[৭] :১৭ জেরার্ডের হারবাল নামক গ্রন্থটি ১৫৯৭ সালে প্রকাশিত হয়, যেখানে ইউরোপের মহাদেশীয় অঞ্চলের উৎস্যগুলো থেকে ব্যাপকভাবে তথ্য চুরি করা হয়েছিল।[৭] :১৭ বইটি ছিল ইংল্যান্ডে টমেটোর আলোচনা হওয়া প্রথম গ্রন্থগুলোর একটি। জেরার্ড জানতেন টমেটো স্পেন ও ইতালিতে খাওয়া হত। [৭] :১৭ তবুও, তিনি মনে করতেন এটি বিষাক্ত [৭] :১৭ (আসলে এই উদ্ভিদ এবং এর কাঁচা ফলে কম মাত্রায় টমেটাইন থাকে, কিন্তু তা বিপজ্জনক নয়; নীচে দেখুন )। ব্রিটেনে জেরার্ডের দৃষ্টিভঙ্গি প্রভাবশালী ছিল এবং ব্রিটেন ও এর উত্তর আমেরিকার উপনিবেশগুলোতে অনেক বছর ধরে একে খাবারের অযোগ্য মনে করা হত (যদিও এটি আবশ্যিকভাবে বিষাক্ত নয়)।[৭] :১৭
যাইহোক, ১৮শ শতকের মধ্যভাগে ব্রিটেনে টমেটোকে সর্বতোভাবে খাওয়া হত, সেই শতক শেষের আগেই এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকাতে বিবৃত হয় যে, টমেটো স্যুপ, ব্রোথ ও গারনিশ হিসেবে দৈনন্দিন ব্যবহার্য খাদ্য। এগুলি গড়পড়তা ব্যক্তির খাদ্যাভাসের অংশ ছিল না এবং ১৮২০ সালের মধ্যে তাদেরকে "আমাদের সমস্ত উদ্ভিজ্জ বাজারে প্রচুর পরিমাণে থাকা" এবং "আমাদের সেরা রন্ধক দ্বারা ব্যবহৃত" হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছিল। রান্নায় টমেটোর ব্যবহার সেসময় বহিরাগত ইতালীয় বা ইহুদি রন্ধনপ্রণালী হিসেবে পরিচিত ছিল।[১০]
১৬শ শতকে পর্তুগীজ আবিষ্কারকগণ ভারতে টমেটো নিয়ে আসে। ১৮শ শতকে ইংরেজদের জন্য এটির চাষ হয়। আজও বাংলায় এটি "বিলাইতি বেগুণ" নামে পরিচিত। এরপর ভারতবর্ষে বিস্তৃতভাবে এটি খাদ্য হিসেবে গৃহীত হয়, কারণ এটি ভারতবর্ষের জলবায়ুর সাথে সাথে খুব মানিয়ে নিয়েছিল, উত্তরাখণ্ড ছিল এর প্রধান উৎপাদন অঞ্চলের মধ্যে একটি।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
| প্রতি ১০০ গ্রাম (৩.৫ আউন্স) পুষ্টিগত মান | |
|---|---|
| শক্তি | ৭৪ কিজু (১৮ kcal) |
3.9 g | |
| চিনি | 2.6 g |
| খাদ্যে ফাইবার | 1.2 g |
0.2 g | |
0.9 g | |
| ভিটামিনসমূহ | |
| ভিটামিন এ সমতুল্য | (5%) 42 μg(4%) 449 μg123 μg |
| থায়ামিন (বি১) | (3%) 0.037 mg |
| ন্যায়েসেন (বি৪) | (4%) 0.594 mg |
| ভিটামিন বি৬ | (6%) 0.08 mg |
| ভিটামিন সি | (17%) 14 mg |
| ভিটামিন ই | (4%) 0.54 mg |
| ভিটামিন কে | (8%) 7.9 μg |
| চিহ্ন ধাতুসমুহ | |
| ম্যাগনেসিয়াম | (3%) 11 mg |
| ম্যাঙ্গানিজ | (5%) 0.114 mg |
| ফসফরাস | (3%) 24 mg |
| পটাশিয়াম | (5%) 237 mg |
| অন্যান্য উপাদানসমূহ | |
| পানি | 94.5 g |
| Lycopene | 2573 µg |
| |
| Percentages are roughly approximated using US recommendations for adults. Source: USDA Nutrient Database | |
হার্টের জন্যও ভালো টমেটো। কোলেস্টেরলের মাত্রা ও রক্তচাপ কমাতে সহায়ক এটি। তাই নিয়মিত টমেটো খেলে, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমে আসবে।
টমেটোতে রয়েছে ভিটামিন-সি, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-কে, ফলিক এসিড লাইকোপিন, ক্রোমিয়াম ও আরও গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনসমূহ।