প্রধান শিক্ষক
০২ নভেম্বর, ২০২৬ ০২:২৫ অপরাহ্ণ
অনার্স ভর্তি ২০২৬-২৭: কত পয়েন্ট লাগে, কত টাকা লাগে, কী কী কাগজ লাগে | Honours Admission Guide
📌 অনার্সে ভর্তি হতে কত পয়েন্ট লাগবে দেখুন
📌 অনার্সে ভর্তি হতে কত টাকা লাগবে দেখুন
📌 অনার্সে ভর্তি হতে কী কী কাগজ লাগবে দেখুন
এইচএসসি পাস করেছো? এখন মাথায় একটাই চিন্তা — অনার্সে ভর্তি হবো কোথায়, কত পয়েন্ট লাগবে, কত টাকা খরচ হবে, কী কী কাগজপত্র জোগাড় করতে হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (NU) অধিভুক্ত কলেজে অনার্স পড়তে চাইলে এই লেখাটা তোমার জন্য। এখানে জানবে — ভর্তির ন্যূনতম জিপিএ কত, আবেদন ফি ও ভর্তি ফি কত, কোন কোন কাগজ লাগবে, ভর্তি পরীক্ষা কেমন হয়, আর মেধা তালিকা কীভাবে হয়। সব তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ভর্তি বিজ্ঞপ্তি থেকে নেওয়া।
একটা সৎ কথা আগে বলে রাখি। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের অনার্স ভর্তি বিজ্ঞপ্তি এখনো (২ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত) প্রকাশ হয়নি। নিচের সব তথ্য ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের অফিসিয়াল সার্কুলার (২০ নভেম্বর ২০২৫) থেকে নেওয়া — ২০২৬-২৭ সালেও নিয়ম প্রায় একই থাকার কথা। নতুন সার্কুলার এলে এই লেখা আপডেট করা হবে।
এক নজরে অনার্স ভর্তি ২০২৬-২৭
বিষয় | তথ্য (২০২৫-২৬ অনুযায়ী) |
ভর্তি বিজ্ঞপ্তি | এখনো প্রকাশ হয়নি (২০২৬-২৭) |
আবেদন মাধ্যম | অনলাইন — nu.ac.bd/admissions |
প্রাথমিক আবেদন ফি | ১,০০০ টাকা |
ভর্তি পরীক্ষা | ১০০ নম্বরের MCQ (পাস নম্বর ৩৫) |
মেধা স্কোর | ভর্তি পরীক্ষা ১০০ + একাডেমিক ১০০ = মোট ২০০ |
ন্যূনতম জিপিএ | ৪.৫০ (মানবিক/ব্যবসায়), ৪.৭৫ (বিজ্ঞান) |
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি কবে আসবে
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি সাধারণত নভেম্বর-ডিসেম্বরে প্রকাশ হয়। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের বিজ্ঞপ্তি এসেছিল ২০ নভেম্বর ২০২৫ (আবেদন ২৩ নভেম্বর–৩১ ডিসেম্বর ২০২৫)। সেই হিসেবে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের বিজ্ঞপ্তি নভেম্বর-ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে আসার কথা। এইচএসসি ২০২৬-এর ফল প্রকাশ হয়েছে ৩১ অক্টোবর ২০২৬ — তাই বিজ্ঞপ্তি এখন যেকোনো দিন আসতে পারে। nu.ac.bd-এর ভর্তি নোটিশ বোর্ডে নিয়মিত চোখ রাখো।
অনার্স ভর্তিতে কত পয়েন্ট লাগে
এটাই সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসা করা প্রশ্ন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নিয়ম অনুযায়ী ন্যূনতম যোগ্যতা:
শাখা | এসএসসি (৪র্থ বিষয়সহ) | এইচএসসি (৪র্থ বিষয়সহ) | মোট ন্যূনতম জিপিএ |
মানবিক শাখা | ২.০০ | ২.০০ | ৪.৫০ |
ব্যবসায় শিক্ষা শাখা | ২.০০ | ২.০০ | ৪.৫০ |
বিএম / ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স | ২.০০ | ২.০০ | ৪.৫০ |
বিজ্ঞান শাখা | ২.২৫ | ২.০০ | ৪.৭৫ |
এইচএসসি (ভোকেশনাল) | ২.২৫ | ২.০০ | ৪.৭৫ |
মনে রাখার সহজ নিয়ম:
মানবিক বা কমার্স থেকে এসএসসি+এইচএসসি মিলিয়ে ৪.৫০ পয়েন্ট থাকলেই আবেদন করতে পারবে
সায়েন্স থেকে মোট ৪.৭৫ পয়েন্ট লাগবে
কোনো পরীক্ষায় এককভাবে ২.০০-এর নিচে থাকা যাবে না (সায়েন্সে এসএসসিতে ২.২৫-এর নিচে নয়)
একটা ভুল ধারণা ভেঙে দিই। অনেক সাইটে লেখা আছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে ৬.৫ বা ৭ পয়েন্ট লাগে। এটা ভুল — ওটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি, রাবি) নিয়ম। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম উপরের টেবিলেরটাই — ৪.৫০/৪.৭৫।
কোন কলেজে কত পয়েন্টে চান্স হয়
ন্যূনতম যোগ্যতা থাকলেই আবেদন করা যায়, কিন্তু চান্স পাওয়া নির্ভর করে মেধা স্কোরের উপর। সাধারণ চিত্র:
সরকারি কলেজ (ভালো সাবজেক্ট): মোট ২০০-এর মধ্যে ১৪০+ স্কোর লাগে। অর্থাৎ এসএসসি+এইচএসসিতে ৮.৫০+ জিপিএ এবং ভর্তি পরীক্ষায় ভালো নম্বর।
সরকারি কলেজ (সাধারণ সাবজেক্ট): ১২০–১৪০ স্কোরে সুযোগ আছে।
বেসরকারি কলেজ: ১০০–১২০ স্কোরেও ভালো সাবজেক্ট পাওয়া যায়। পয়েন্ট কম থাকলে বেসরকারি কলেজে আবেদন করা বুদ্ধিমানের কাজ।
রিলিজ স্লিপ: মেধা তালিকায় না এলে রিলিজ স্লিপে ৫টা কলেজে আবেদন করা যায় — সেখানে কম স্কোরেও চান্স হয়।
অনার্স ভর্তিতে কত টাকা লাগে
খরচের পুরো হিসাব নিচে দিলাম:
খরচের খাত | টাকার পরিমাণ | কাকে দেবে |
প্রাথমিক আবেদন ফি | ১,০০০ টাকা | আবেদনকৃত কলেজে (মোবাইল ব্যাংকিং/সরাসরি) |
চূড়ান্ত ভর্তি ফি | কলেজভেদে ৩,০০০–৮,০০০ টাকা | ভর্তির সময় কলেজে |
রেজিস্ট্রেশন ফি | ১,১৩০ টাকা | কলেজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয় |
বিস্তারিত বুঝে নাও:
প্রাথমিক আবেদন ফি (১,০০০ টাকা): অনলাইনে আবেদন করে ফরম প্রিন্ট নিয়ে এই টাকা আবেদনকৃত কলেজে জমা দিতে হয়। কলেজের নির্ধারিত মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ/রকেট) অথবা সরাসরি কলেজে গিয়ে দেওয়া যায়। এই ফি না দিলে আবেদন নিশ্চয়ন হয় না — আর নিশ্চয়ন না হলে ভর্তি পরীক্ষায় বসা যায় না।
চূড়ান্ত ভর্তি ফি: মেধা তালিকায় চান্স পেয়ে ভর্তির সময় এই ফি দিতে হয়। সরকারি কলেজে ৩,০০০–৫,০০০ টাকা, বেসরকারি কলেজে ৬,০০০–১২,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। কলেজভেদে ভর্তি ফি, সেশন ফি, ল্যাব ফি মিলিয়ে মোট অঙ্কটা দাঁড়ায়। ভর্তির আগে পছন্দের কলেজের নোটিশ বোর্ড থেকে সঠিক অঙ্ক জেনে নাও।
মাসিক বেতন: ভর্তির পর প্রতি মাসে বেতন দিতে হয়। সরকারি কলেজে মাসিক বেতন ২৫–৫০ টাকা (প্রায় নামমাত্র), বেসরকারি কলেজে ৫০০–২,০০০ টাকা পর্যন্ত।
ভর্তির জন্য কী কী কাগজপত্র লাগে
অনলাইন আবেদনের সময় যা লাগবে
এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার রোল নম্বর
রেজিস্ট্রেশন নম্বর
শিক্ষা বোর্ডের নাম ও পাসের সন
একটা সচল মোবাইল নম্বর (নিজের বা অভিভাবকের)
সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি (স্ক্যান করা)
- মাপ: ১২০×১৫০ পিক্সেল
- ফরম্যাট: JPG
- সর্বোচ্চ সাইজ: ৫০ কিলোবাইট
- নিজের ছবি ছাড়া অন্য কারো ছবি দিলে ভর্তি বাতিল হবে
কলেজে ফরম জমা দেওয়ার সময়
প্রিন্ট করা প্রাথমিক আবেদন ফরম (স্বাক্ষরসহ)
আবেদন ফি ১,০০০ টাকার জমার প্রমাণ
চূড়ান্ত ভর্তির সময় (মেধা তালিকায় চান্স পেলে)
এসএসসি ও এইচএসসির মূল নম্বরপত্র/সনদ
প্রশংসাপত্র (কলেজ/স্কুল থেকে)
জন্ম নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
পাসপোর্ট সাইজের ছবি (৪–৬ কপি)
কোটায় আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট কোটার সনদপত্র (মূল কপি)
ভর্তি ফি
জরুরি পরামর্শ: সব কাগজের ২–৩ সেট ফটোকপি আগে থেকে করে রাখো। মূল সনদ কলেজে জমা দিলে রিসিভ কপি নিতে ভুলো না।
ভর্তি পরীক্ষা কেমন হয়
২০২৫ সাল থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা চালু হয়েছে। শুধু জিপিএ দেখে ভর্তি নেওয়া হয় না।
পরীক্ষার ধরন
১০০ নম্বরের MCQ, সময় ১ ঘণ্টা
পাস নম্বর ৩৫ — ৩৫-এর কম পেলে মেধা তালিকায় নাম আসবে না
নেগেটিভ মার্কিং নেই — ভুল উত্তরে নম্বর কাটা হয় না, তাই সব প্রশ্নের উত্তর দাও
নম্বর বণ্টন (শাখাভেদে)
শাখা | বাংলা | ইংরেজি | সাধারণ জ্ঞান | শাখাভিত্তিক বিষয় | মোট |
মানবিক | ২০ | ২০ | ২০ | ৪০ | ১০০ |
বিজ্ঞান | ২০ | ২০ | ২০ | ৪০ | ১০০ |
ব্যবসায় শিক্ষা | ২০ | ২০ | ২০ | ৪০ | ১০০ |
মেধা স্কোর কীভাবে হয় (মোট ২০০)
উৎস | হিসাব | নম্বর |
ভর্তি পরীক্ষা (MCQ) | সরাসরি | ১০০ |
এসএসসি জিপিএ | জিপিএ × ৮ (৪০%) | ৪০ |
এইচএসসি জিপিএ | জিপিএ × ১২ (৬০%) | ৬০ |
মোট | ২০০ |
উদাহরণ: এসএসসিতে জিপিএ ৪.৫০ আর এইচএসসিতে ৪.০০ পেলে একাডেমিক স্কোর = (৪.৫০×৮) + (৪.০০×১২) = ৩৬ + ৪৮ = ৮৪। ভর্তি পরীক্ষায় ৬০ পেলে মোট স্কোর = ১৪৪।
পরীক্ষার হলে যা নেবে ও নেবে না
নেবে: ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র (এডমিট কার্ড) + এইচএসসির রেজিস্ট্রেশন কার্ড
নেবে না: ক্যালকুলেটর, মোবাইল ফোন, কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস — এগুলো নিয়ে হলে ঢোকা নিষেধ
এডমিট কার্ড কবে পাবে
পরীক্ষার নির্ধারিত তারিখের ৭ দিন আগে থেকে ভর্তি ওয়েবসাইটের Applicant Login থেকে এডমিট কার্ড ডাউনলোড করে প্রিন্ট নিতে হয়। এডমিট কার্ডে পরীক্ষার তারিখ, সময়, রোল নম্বর ও কেন্দ্রের নাম লেখা থাকে।
মেধা তালিকা ও রিলিজ স্লিপ
ভর্তি কার্যক্রম কয়েক ধাপে হয়:
১ম মেধা তালিকা — সর্বোচ্চ স্কোরধারীদের তালিকা
২য় মেধা তালিকা — শূন্য আসনে (১ম তালিকা থেকে ভর্তি না হওয়ায় খালি আসনে)
কোটার মেধা তালিকা — মুক্তিযোদ্ধা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী, পোষ্য কোটা
১ম রিলিজ স্লিপ — উপরের কোনো তালিকায় চান্স না পেলে ৫টা কলেজে নতুন করে আবেদন
২য় ও সর্বশেষ রিলিজ স্লিপ — শেষ সুযোগ
মনে রেখো: ৩য় রিলিজ স্লিপের কোনো সুযোগ নেই। আর ভর্তি পরীক্ষায় পাস (৩৫+) না করলে রিলিজ স্লিপেও আবেদন করা যায় না।
ফলাফল কীভাবে জানবে
ভর্তি ওয়েবসাইটে (nu.ac.bd/admissions) লগইন করে
SMS-এ: `nu athn Application ID` লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠিয়ে
সংশ্লিষ্ট কলেজ থেকেও জানা যায়
অনলাইনে আবেদনের ধাপ (স্টেপ বাই স্টেপ)
ওয়েবসাইটে যাও: nu.ac.bd/admissions-এ গিয়ে Honours Tab থেকে Apply Now-তে ক্লিক করো
তথ্য দাও: এসএসসি/এইচএসসির রোল, রেজিস্ট্রেশন, বোর্ড, পাসের সন ও মোবাইল নম্বর সঠিকভাবে লেখো
লিঙ্গ যাচাই: ডেটাবেজের তথ্য ভুল থাকলে Click to Change দিয়ে ঠিক করো
কলেজ ও বিষয় পছন্দ: বিভাগ ও জেলা অনুযায়ী কলেজ সিলেক্ট করলে ওই কলেজের বিষয় ও আসন সংখ্যা দেখা যাবে। পছন্দের ক্রম সাজাও — এই ক্রম অনুযায়ীই বিষয় বরাদ্দ হবে
কোটা (যদি থাকে): প্রযোজ্য কোটা সিলেক্ট করো
ছবি আপলোড: ১২০×১৫০ পিক্সেল, JPG, সর্বোচ্চ ৫০KB
সাবমিট: সব তথ্য যাচাই করে Submit করো। Application ID ও PIN পাবে — এটা যত্নে রেখো
প্রিন্ট: ফরম A4 কাগজে প্রিন্ট করো
ফি জমা: স্বাক্ষরসহ ফরম ও ১,০০০ টাকা কলেজে জমা দাও
নিশ্চয়ন: কলেজ অনলাইনে নিশ্চয়ন করলে SMS পাবে। SMS না এলে কলেজে যোগাযোগ করো
ভুল হলে: কলেজ নিশ্চয়নের আগে একবার ফরম বাতিল করে নতুন করে করা যায় (Applicant Login → Form Cancel)। নিশ্চয়নের পর আর সংশোধনের সুযোগ নেই।
কোটা সুবিধা কারা পাবে
মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটা
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটা
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন/প্রতিবন্ধী কোটা
পোষ্য কোটা (শুধু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক/কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সন্তান)
কোটায় আবেদন করলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের ইস্যুকৃত মূল সনদপত্র থাকতে হবে। কোটার আসন বিষয়ভিত্তিক বরাদ্দ আসনের অতিরিক্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে কোটার মেধা তালিকায় স্থান পেতে হলেও ভর্তি পরীক্ষায় পাস করতে হবে।
যে ভুলগুলোতে ভর্তি বাতিল হয়
দ্বৈত ভর্তি: একই বা ভিন্ন শিক্ষাবর্ষে দুই প্রোগ্রামে ভর্তি হলে দুটোই বাতিল
ভুল তথ্য/ছবি: ফরমে ভুল তথ্য বা অন্যের ছবি দিলে ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন বাতিল
আগের ভর্তি না বাতিল করা: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে ভর্তি থাকলে সেটা বাতিল না করে নতুন ভর্তি হওয়া যায় না
ভর্তি বাতিলের নিয়ম: ১ম মেধা তালিকা থেকে ১ম রিলিজ স্লিপ পর্যন্ত ভর্তি বাতিল করে পুনরায় ভর্তির সুযোগ নেই (শুধু ২য় রিলিজ স্লিপে ভর্তি হয়ে বাতিল করলে পুনরায় সুযোগ আছে)
আরও দেখুন: এইচএসসি রেজাল্ট ২০২৬ দেখার নিয়ম
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: অনার্স ভর্তিতে কত পয়েন্ট লাগে?
উত্তর: মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় এসএসসি+এইচএসসি মিলিয়ে ন্যূনতম ৪.৫০, বিজ্ঞান শাখায় ৪.৭৫। কোনো পরীক্ষায় এককভাবে ২.০০-এর নিচে (বিজ্ঞানে এসএসসিতে ২.২৫-এর নিচে) থাকা যাবে না।
প্রশ্ন: ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি কি প্রকাশ হয়েছে?
উত্তর: না, ২ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশ হয়নি। ২০২৫-২৬ সালের বিজ্ঞপ্তি এসেছিল ২০ নভেম্বর ২০২৫। এবারও নভেম্বর-ডিসেম্বরে আসার সম্ভাবনা বেশি।
প্রশ্ন: অনার্সে ভর্তি হতে কত টাকা লাগে?
উত্তর: প্রাথমিক আবেদন ফি ১,০০০ টাকা। চূড়ান্ত ভর্তির সময় সরকারি কলেজে ৩,০০০–৫,০০০ টাকা, বেসরকারি কলেজে ৬,০০০–১২,০০০ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে।
প্রশ্ন: ভর্তি পরীক্ষা কি বাধ্যতামূলক?
উত্তর: হ্যাঁ। ২০২৫ সাল থেকে ১০০ নম্বরের MCQ ভর্তি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। পাস নম্বর ৩৫। পরীক্ষায় পাস না করলে মেধা তালিকায় নাম আসে না।
প্রশ্ন: ভর্তি পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্কিং আছে কি?
উত্তর: না। ভুল উত্তরের জন্য নম্বর কাটা হয় না। তাই সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
প্রশ্ন: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য কী কী কাগজ লাগে?
উত্তর: অনলাইন আবেদনে রোল-রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বোর্ড, পাসের সন, মোবাইল নম্বর ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি। চূড়ান্ত ভর্তিতে মূল নম্বরপত্র, প্রশংসাপত্র, জন্ম নিবন্ধন/এনআইডি, ছবি ও ভর্তি ফি লাগে।
প্রশ্ন: একাধিক কলেজে আবেদন করা যায় কি?
উত্তর: প্রাথমিক আবেদনে ১টা কলেজে আবেদন করা যায়। মেধা তালিকায় চান্স না পেলে রিলিজ স্লিপে ৫টা কলেজে আবেদন করা যায়।
প্রশ্ন: রিলিজ স্লিপ কী?
উত্তর: মেধা তালিকায় স্থান না পেলে বা পছন্দের বিষয় না পেলে শূন্য আসন থাকা ৫টা কলেজে নতুন করে আবেদনের সুযোগ। ১ম ও ২য় (সর্বশেষ) রিলিজ স্লিপ হয়।
প্রশ্ন: সরকারি কলেজে চান্স পেতে কত স্কোর লাগে?
উত্তর: মোট ২০০-এর মধ্যে ১৪০+ স্কোর থাকলে ভালো সরকারি কলেজে ভালো সাবজেক্ট পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ১২০–১৪০ স্কোরেও সুযোগ আছে।
প্রশ্ন: ভর্তির ফলাফল কীভাবে জানবো?
উত্তর: nu.ac.bd/admissions ওয়েবসাইটে লগইন করে, অথবা `nu athn Application ID` লিখে ১৬২২২ নম্বরে SMS পাঠিয়ে।
আরও দেখুন: এইচএসসি রেজাল্ট ২০২৬ — সম্পূর্ণ গাইড
১৮
২৯ মন্তব্য