সহকারী শিক্ষক
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৯:০৩ পূর্বাহ্ণ
কামরুল হাসান রচিত ‘আমাদের লোকশিল্প’ প্রবন্ধটি
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ ষষ্ঠ
বিষয়ঃ চারুপাঠ
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-৭ (গদ্য)
পটুয়া কামরুল হাসান রচিত ‘আমাদের লোকশিল্প’ প্রবন্ধটির মূল ভাব হলো বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পের পরিচয় তুলে ধরা এবং তা সংরক্ষণের তাগিদ দেওয়া। লেখক এ প্রবন্ধে দেখিয়েছেন যে, আমাদের নিত্যব্যবহার্য অধিকাংশ জিনিসই কুটিরশিল্পের ওপর নির্ভরশীল, যা উন্নত শিল্পগুণের কারণে লোকশিল্পের মর্যাদা পেয়েছে।
নিচে এই প্রবন্ধটির মূল বক্তব্যসমূহ সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরা হলো:
· লোককৃষ্টি ও ঐতিহ্য রক্ষা: বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতির সাথে মিশে থাকা বিলুপ্তপ্রায় লোকশিল্পসমূহ সংরক্ষণ করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।
· হস্তশিল্পের অনন্য গুণ: যান্ত্রিক যুগের পণ্যের চেয়ে হাতে তৈরি পণ্যের কদর বেশি, কারণ এতে জড়িয়ে থাকে শিল্পীর মনের আবেগ ও অনন্য ছোঁয়া।
· ঐতিহাসিক গৌরব: অতীতে আমাদের তৈরি ঢাকাই মসলিন বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছিল, যার আধুনিক রূপ হলো আজকের গৌরবময় জামদানি শাড়ি।
· নারীদের অবদান ও স্বাবলম্বিতা: গ্রামীণ নারীরা বর্ষাকালে অবসর সময়ে দীর্ঘ শ্রম দিয়ে নকশিকাঁথা তৈরি করতেন, যা তাদের স্বাবলম্বী করে তোলে ও জীবনগাথা ফুটিয়ে তোলে।
· অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা: কুটিরশিল্পের প্রসার ঘটিয়ে গ্রামীণ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও মজবুত করা সম্ভব।
· বৈচিত্র্যময় শিল্প ধারা: শীতলপাটি, পোড়ামাটির টেপাপুতুল, কাঁসা-পিতলের তৈজসপত্র এবং বাঁশ-বেতের জিনিসপত্র আমাদের নিজস্ব লোকজ সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে।